ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২

হলুদ বা সবুজ কফ মানেই বিপদ? যা বলছেন চিকিৎসকরা

২০২৬ জানুয়ারি ৩০ ২১:০২:৫৪

হলুদ বা সবুজ কফ মানেই বিপদ? যা বলছেন চিকিৎসকরা

ডুয়া ডেস্ক: ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ার চরিত্রেও এসেছে স্পষ্ট রদবদল। শীত ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে, বসন্তের ছোঁয়ায় বাড়ছে দিনের তাপমাত্রা। এই হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্যে। ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে সর্দি, কাশি ও জ্বরের মতো সাধারণ সমস্যা। এর মধ্যেই অনেকের ক্ষেত্রে কাশির সঙ্গে বের হওয়া কফের রঙ বদলে যাওয়ায় তৈরি হচ্ছে নতুন করে উদ্বেগ।

অনেকেই লক্ষ্য করছেন, আগে যেখানে কফ সাদা ছিল, এখন তা কখনো হলুদ আবার কখনো সবুজ রঙের হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, কফের এই রঙ পরিবর্তন শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে এবং একে অবহেলা করা ঠিক নয়।

কফ হলুদ বা সবুজ হওয়ার কারণ কী?

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত ভাইরাসজনিত সংক্রমণে ঠান্ডা, সর্দি ও কাশি দেখা দেয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে সেই সংক্রমণের ওপর ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হলে কফের রঙ পরিবর্তিত হয়ে হলুদ বা সবুজ হতে পারে। অ্যালার্জির কারণেও কারও কারও এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

এই ধরনের সমস্যা যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে যাদের অ্যাজমা, সিওপিডি, ক্রনিক কিডনি রোগ বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে জটিলতা হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি বলে জানান চিকিৎসকরা।

এমন হলে কী করা উচিত?

এ অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে, কারণ এসব ওষুধ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। তবে বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন—নিজের সিদ্ধান্তে বা ফার্মেসির পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বিপজ্জনক।

ভুলভাবে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করলে শরীরে ওষুধের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে একই ওষুধ আর কাজ নাও করতে পারে এবং রোগ সেরে উঠতেও বিলম্ব হতে পারে।

কফ সিরাপ কি উপকার করে?

হ্যাঁ, কফ সিরাপ কার্যকর হতে পারে। তবে সব ধরনের কফ সিরাপ সবার জন্য উপযুক্ত নয়। রোগীর উপসর্গ শুনে কোন সিরাপ প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব চিকিৎসকেরই।

সুস্থ হতে কত সময় লাগে?

এটি নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তবে সাধারণভাবে এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গ কমে আসতে পারে। এজন্য ধৈর্য ধরে নিয়ম মেনে ওষুধ খাওয়া জরুরি।

সবশেষে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, কেবল ওষুধের ওপর নির্ভর না করে মৌসুমি ফল, শাক ও সবজি খাদ্যতালিকায় রাখতে। এতে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পাবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত