ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২

আধুনিক সুপারফুড ‘বাঁশের কোঁড়’: জানুন এর বিস্ময়কর পুষ্টিগুণ

২০২৬ জানুয়ারি ২৭ ১৫:০৩:১৯

আধুনিক সুপারফুড ‘বাঁশের কোঁড়’: জানুন এর বিস্ময়কর পুষ্টিগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাঁশ মানেই কি বিপদ বা কটাক্ষের প্রতীক? দৈনন্দিন কথাবার্তায় ‘বাঁশ খাওয়া’ নেতিবাচক হলেও, পুষ্টিবিজ্ঞানের ভাষায় এই বাঁশই হতে পারে সুস্থ হৃদ্‌যন্ত্রের বড় সহায়ক। বাঁশের ভেতরে থাকা কচি অংশ ‘কোঁড়’ যা বিশ্বজুড়ে পরিচিত ব্যাম্বু শুট নামে সঠিকভাবে রান্না করলে হৃদ্‌স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

কম ক্যালোরি, প্রচুর ফাইবার, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের গুণে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে বাঁশের কোঁড়। তবে রান্নার নিয়মে সামান্য ভুল হলে এই উপকারী খাবারই হয়ে উঠতে পারে মারাত্মক ক্ষতির কারণ। তাই উপকার পেতে হলে জানতে হবে কোঁড়ের সঠিক ব্যবহারবিধি।

এশিয়ার বহু দেশে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাঁশের কোঁড় নিয়মিত খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। উত্তর-পূর্ব ভারত, পাহাড়ি অঞ্চল, চীন, জাপান ও কোরিয়ার রান্নাঘরে এটি পরিচিত উপাদান। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, আধুনিক জীবনযাত্রায়ও এটি হতে পারে এক শক্তিশালী ‘সুপারফুড’ শর্ত একটাই, সঠিক রান্না।

কেন বাড়ছে বাঁশের কোঁড়ের গুরুত্ব

ক্যামব্রিজের অ্যাংলিয়া রাস্কিন ইউনিভার্সিটির জনস্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক লি স্মিথ সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বাঁশের কোঁড়কে স্বাস্থ্যকর খাদ্যের তালিকায় উল্লেখ করেছেন। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে এশিয়ায় ব্যবহৃত এই খাবার বিশ্বজুড়েই জনপ্রিয় হওয়ার মতো পুষ্টিগুণ বহন করে।

কলকাতার পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিকও একই মত পোষণ করে বলেন, সঠিকভাবে রান্না না করলে কোঁড় শরীরে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

বাঁশের কোঁড়ের পুষ্টিগুণ

বাঁশের কোঁড়ে ক্যালোরির পরিমাণ অত্যন্ত কম প্রতি ১০০ গ্রামে মাত্র ২৫–৩০ কিলোক্যালোরি। অথচ এতে রয়েছে নানা উপকারী উপাদান।

এর মধ্যে আছে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড, ফেনোলিক অ্যাসিড ও ফাইটোস্টেরলের মতো বায়ো-অ্যাক্টিভ উপাদান। ফ্যাট প্রায় না থাকায় এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা মানুষের জন্য আদর্শ খাবার।

শরীরের যেসব উপকারে আসে বাঁশের কোঁড়

হজমে সহায়ক: কোঁড়ের ফাইবার অন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং হজম প্রক্রিয়া সহজ করে। এটি প্রিবায়োটিক হিসেবেও কাজ করে।

ওজন কমাতে সাহায্য করে: কম ক্যালোরি ও বেশি ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।

হৃদ্‌যন্ত্র সুরক্ষা: পটাশিয়ামসমৃদ্ধ হওয়ায় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কম থাকায় হার্টের ওপর চাপ পড়ে না।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের কারণে ডায়াবিটিস রোগীরাও চিকিৎসকের পরামর্শে এটি খেতে পারেন।

প্রদাহ কমায়: অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীরের প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়ক।

কেন ভুল রান্নায় ঝুঁকি

পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক জানান, বাঁশের কোঁড়ে ট্যাক্সিফাইলিন নামের একটি যৌগ থাকে, যা শরীরে গিয়ে সায়ানাইডে রূপ নিতে পারে। কাঁচা বা অর্ধসিদ্ধ কোঁড় খেলে নিম্ন রক্তচাপ, দুর্বলতা, এমনকি অতিরিক্ত ক্ষেত্রে খিঁচুনি, ফুসফুসের ক্ষতি ও হৃদ্‌যন্ত্র বিকলের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

সঠিকভাবে কোঁড় রান্নার নিয়ম

কোঁড়ের খোসা সম্পূর্ণ ছাড়িয়ে ছোট টুকরো করতে হবে। এরপর ভালোভাবে সেদ্ধ করে সেই পানি ফেলে দিতে হবে। সেদ্ধ করা কোঁড় চাইলে কিছু সময় ভিজিয়ে রাখা বা ফারমেন্ট করাও যেতে পারে। এতে ক্ষতিকর উপাদান আরও কমে যায়।

ভুল ধারণায় যে বাঁশকে আমরা বিপদের প্রতীক ভেবে এড়িয়ে চলি, সেই বাঁশের কোঁড়ই হতে পারে সুস্থ জীবনের শক্ত ভরসা। সামান্য সচেতনতা ও সঠিক রান্নার নিয়ম মানলেই এই খাবার অনায়াসে জায়গা করে নিতে পারে স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় একেবারে খাঁটি ‘সুপারফুড’ হিসেবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত