ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রোজা কি সত্যিই কর্মক্ষমতা কমায়? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

২০২৬ মার্চ ০৬ ১২:৩৬:৪১

রোজা কি সত্যিই কর্মক্ষমতা কমায়? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

ডুয়া ডেস্ক: রমজান মাস এলে অনেকের মধ্যেই একটি সাধারণ প্রশ্ন ঘুরপাক খায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে কি শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দৈনন্দিন কাজের ক্ষমতা কমে যায়? কেউ মনে করেন রোজা রাখলে ক্লান্তি বাড়ে, আবার অনেক গবেষণা বলছে সঠিক নিয়ম মেনে চললে রোজা শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য ইতিবাচক প্রভাবও ফেলতে পারে।

ইসলামে রোজা শুধু খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকার বিষয় নয়; এটি আত্মসংযম, শুদ্ধতা এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দীর্ঘ সময় উপবাস থাকার কারণে অনেকেই ভাবেন, এতে কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবে বিষয়টি সবসময় এমন নয়। উপবাসের সময় শরীরের ভেতরে কিছু জৈবিক পরিবর্তন ঘটে, যা অনেক ক্ষেত্রে মনোযোগ এবং মানসিক সক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে।

মস্তিষ্ক ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মে বদরুদ্দিন জানান, রোজার সময় শরীর শক্তির উৎস হিসেবে ধীরে ধীরে কার্বোহাইড্রেটের বদলে চর্বি ব্যবহার শুরু করে। এ সময় শরীরে কিটোন নামের এক ধরনের উপাদান তৈরি হয়, যা মস্তিষ্কের বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। এই অবস্থাকে বলা হয় কিটোজেনিক অবস্থা।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কিটোনের ব্যবহার বাড়লে মস্তিষ্কের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও কার্যক্ষমতা উন্নত হতে পারে। পাশাপাশি এটি স্নায়ু কোষকে সুরক্ষা দিতে এবং কিছু স্নায়ুবিষয়ক রোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

গবেষকরা আরও বলছেন, রোজার সময় মস্তিষ্কে এমন কিছু উপাদানের মাত্রা বাড়ে যা নতুন স্নায়ু কোষ তৈরিতে সহায়তা করে। এর মধ্যে নিউরো গ্রোথ ফ্যাক্টর উল্লেখযোগ্য, যা নিউরনের বৃদ্ধি ও পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০১৭ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব নিউরোলজি-তে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, উপবাসের সময় মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নামের রাসায়নিকের মাত্রা বাড়তে পারে। এই উপাদান মানুষের মেজাজ নিয়ন্ত্রণ, স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা এবং মস্তিষ্কের কোষের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে বাস্তবে রমজান মাসে অনেক কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার অভিযোগও শোনা যায়। পাকিস্তানের এক কারখানার মালিক রায়েদ খালিদ বলেন, রমজানে অনেক কর্মীর অনুপস্থিতি বাড়ে এবং কাজের গতি কিছুটা কমে যায়।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এর জন্য সব সময় রোজা দায়ী নয়। বরং জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অনিয়মিত খাবার এবং ঘুমের অভাবের মতো বিষয়গুলোও বড় ভূমিকা রাখে।

পুষ্টিবিদ ফাতিন আল-নাশাশের মতে, রোজা শরীরকে ডিটক্স করতে এবং কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু অনেকেই ইফতারে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া, চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার বেশি গ্রহণ এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতিতে ভোগেন।

রমজানে অনেকেই সেহরি এড়িয়ে যান বা অনেক আগে খেয়ে ফেলেন। অথচ পুষ্টিবিদদের মতে, সেহরি হলো দিনের দীর্ঘ সময়ের শক্তির প্রধান উৎস। তাই ফজরের সময়ের কাছাকাছি সময়ে সেহরি খাওয়া শরীরকে দীর্ঘ সময় সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।

পানিশূন্যতাও রমজানে ক্লান্তির একটি বড় কারণ। অনেকেই পর্যাপ্ত পানি না খেয়ে জুস বা চিনিযুক্ত পানীয় পান করেন, যা শরীরের জন্য তেমন উপকারী নয়।

এর পাশাপাশি রমজানে ঘুমের সময়সূচি বদলে যাওয়ায় অনেকের পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। ফলে অলসতা, মনোযোগের ঘাটতি এবং কাজের সক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা গেলে রোজা সাধারণত কর্মক্ষমতার বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের কমেছেসোনার দাম

ফের কমেছেসোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির প্রভাবে আবারও সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে... বিস্তারিত