ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্ব সাপ দিবস আজ

২০২৬ জুলাই ১৬ ১৩:২৭:৩৮

বিশ্ব সাপ দিবস আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আজ ১৬ জুলাই বিশ্ব সাপ দিবস (World Snake Day)। সাপ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে প্রচলিত ভয়, কুসংস্কার ও ভুল ধারণা দূর করে এই সরীসৃপের পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়।

বিশ্বজুড়ে হাজারো প্রজাতির সাপ বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইঁদুরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সাপ।

বিশ্ব সাপ দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো সাপ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, অযথা ভয় ও কুসংস্কার দূর করা, সাপ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সাপের কামড় প্রতিরোধ ও নিরাপদ আচরণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সাপ ইঁদুর ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে কৃষিজমির ফসল রক্ষায় পরোক্ষ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে অনেক বন্যপ্রাণীর খাদ্য হিসেবেও সাপ গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো এলাকায় সাপের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলে ইঁদুরের আধিক্য বেড়ে কৃষি উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সাপ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। বাস্তবে সব সাপ বিষধর নয়। অধিকাংশ সাপ মানুষ দেখলে নিজে থেকেই সরে যেতে চায়। সাধারণত মানুষ অসাবধানতাবশত সাপকে বিরক্ত করলে বা পায়ে চাপা পড়লে কামড়ের ঘটনা ঘটে। অকারণে মানুষকে আক্রমণ করা সাপের স্বভাব নয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও সাপের বিষের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে। বর্তমানে সাপের বিষ থেকে অ্যান্টিভেনম (Antivenom) তৈরি করা হয়। পাশাপাশি হৃদরোগ, রক্ত জমাট বাঁধা, স্নায়ুবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন গবেষণায় এবং আধুনিক ওষুধ উদ্ভাবনে সাপের বিষ মূল্যবান উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, আবাসস্থল ধ্বংস, বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অজ্ঞতার কারণে বিশ্বের অনেক সাপের প্রজাতি হুমকির মুখে রয়েছে। প্রকৃতি সংরক্ষণবিদদের মতে, সাপ সংরক্ষণ মানে শুধু একটি প্রাণীকে রক্ষা করা নয়; বরং পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য অক্ষুণ্ন রাখা।

সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সাপ মারার চেষ্টা না করে স্থানীয় বন বিভাগ বা প্রশিক্ষিত সাপ উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া সাপের কামড়ের শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে হবে এবং ঝাড়ফুঁক বা অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্ব সাপ দিবসের মূল বার্তাই হলো সাপ প্রকৃতির শত্রু নয়, বরং পরিবেশের একটি অপরিহার্য অংশ। সঠিক তথ্য, সচেতনতা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব।

( ইমামুল হক প্রত্যয় )

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর বুধবার স্বর্ণের দাম কমেছে। তেলের দাম বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার... বিস্তারিত