ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

ট্রাম্পের ধ্বংসের হুমকি, ইরানের পাল্টা প্রতিশোধের ঘোষণা

২০২৬ জুলাই ১১ ২০:৪১:১১

ট্রাম্পের ধ্বংসের হুমকি, ইরানের পাল্টা প্রতিশোধের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির মধ্যে তীব্র হুমকি-পাল্টা হুমকির ঘটনা নতুন করে দুই দেশের উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ট্রাম্পকে হত্যার যেকোনো প্রচেষ্টার জবাবে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে, তেহরানও তাদের সাবেক নেতার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

মধ্যস্থতাকারীরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এক রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে বলেন, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ও তার বাবার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়া এখন জনগণের দাবি এবং এটি ‘অবশ্যই ঘটবে’।

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় তার বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনিকে দেশের সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়। তবে মুখমণ্ডলে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় এখন পর্যন্ত তিনি জনসমক্ষে আসেননি।

গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাশহাদে তার বাবার দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় তেহরান, কোয়ম, নাজাফ ও কারবালায় প্রায় দেড় থেকে তিন কোটি মানুষের ঐতিহাসিক সমাগম ঘটে। ওই শোকমিছিল থেকে ট্রাম্পকে হত্যার স্লোগানও দেওয়া হয়।

এর প্রতিক্রিয়ায় শনিবার (১১ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের দিকে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে রাখা হয়েছে এবং সেগুলো হামলার জন্য প্রস্তুত। তিনি লেখেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট-অর্থাৎ তাকে-হত্যার চেষ্টা বা পরিকল্পনা করে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে।

ট্রাম্প আরও জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা এক বছরের মধ্যে ইরানের সব অঞ্চল সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করতে সক্ষম। মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের একটি সুনির্দিষ্ট ও সক্রিয় হত্যা চক্রান্তের বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছিল।

এই উত্তেজনাপূর্ণ বাকযুদ্ধ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ওমান সাগরে কাতারি ও সৌদি ট্যাংকারে ইরানি হামলার পর মার্কিন বিমান হামলা এবং তার জবাবে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে দুই দেশের মধ্যকার সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে সম্মত হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন তেহরানকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধবিরতির দিন শেষ।

ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানের জবাবে ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেন, ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা স্মারক থেকে ওয়াশিংটন সরে গেলে ইরান পূর্ণাঙ্গ আত্মরক্ষার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

এদিকে, ওমানে অবস্থানরত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান থেকে সরে না আসা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে না।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তেজনা চরমে পৌঁছালেও পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে অবস্থান করছেন এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সংকট নিরসনে সক্রিয় রয়েছেন।

তবে ওয়াশিংটনের শর্ত, যেকোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির সীমা মেনে নিতে হবে এবং পারমাণবিক উপাদান হস্তান্তর করতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের কঠোর হুমকি এবং সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পর তেহরান ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে। ফলে শান্তি আলোচনা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ফের বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন... বিস্তারিত