ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
জুলাই আন্দোলন ইস্যুতে ঢাবির ৩৬ শিক্ষকের শাস্তির দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং আওয়ামী দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের ৩৬ শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তবে এ ঘটনার প্রায় দুই বছর পার হলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানের নেতৃত্বে সংগঠনটির প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকদের শাস্তি নিশ্চিতসহ তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সাদা দলের নেতারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মাসের পর মাস কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপাচার্যের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে গত সোমবার (২৯ জুন) সিনেটের বার্ষিক অধিবেশন ২০২৬-এ এক সদস্যের প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের বাইরে বর্তমানে ৩৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে উপাচার্য ও সিনেট সভাপতি অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অধিবেশনে সদস্যরা নির্ধারিত সময়ে বক্তব্য দেন। এছাড়া অধিবেশনের আগে সদস্যদের দেওয়া একাধিক লিখিত প্রশ্নের উত্তর রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ স্বাক্ষরিত আকারে সরবরাহ করা হয়।
সিনেট সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন তার লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারী কতজন শিক্ষক রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জবাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে পাঁচটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং বাকি অভিযোগগুলো এসেছে সংশ্লিষ্ট ডিন ও বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে। একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা ৩৬ শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
সভা শেষে সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার বলেন, ‘আজ আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সাদা দলের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষক শিক্ষকদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি। এক্ষেত্রে নিরপরাধ শিক্ষকদের যেন কোনো হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়টিও আমরা সুস্পষ্ট করেছি। আমাদের স্পষ্ট দাবি, যেসব শিক্ষকের অপরাধ প্রমাণিত, কেবল তাদেরই শাস্তির সম্মুখীন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চাই। এর মধ্যে আমাদের দাবি বাস্তবায়িত না হলে আমরা আরও কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হব।’
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের রুটিন প্রকাশ, দেখুন এখানে
- প্রধান শিক্ষক নিয়োগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত
- জাবির জঙ্গলে গভীর রাতে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগত আটক
- চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা স্বপন
- ৫২ বছর এক টাকায় পড়িয়ে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেলেন গাইবান্ধার লুৎফুর রহমান
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ অক্টোবর)
- ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানা গেল
- ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে ‘বিয়ে হয়ে গেল’ আছিয়ার
- দৈনন্দিন একাডেমিক কার্যক্রম সহজকরণে 'ক্লাসট্যাবলেট'
- বুয়েটে ২৪ পদে নিয়োগ, আবেদন ১১ নভেম্বর পর্যন্ত