ঢাকা, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

বোর্ড সচিব বাবা, টেনেটুনে পাস করা ছেলের ফল জিপিএ-৫

২০২৬ আগস্ট ২৩ ২০:০৩:০৩

বোর্ড সচিব বাবা, টেনেটুনে পাস করা ছেলের ফল জিপিএ-৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব নারায়ণ চন্দ্রনাথের ছেলে নক্ষত্র দেবনাথের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগের মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নক্ষত্রের নম্বর বাড়িয়ে ফলাফল ‘এ প্লাস’ (জিপিএ-৫) করানো হয়।

গত ১৮ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম সফিউল আজম মুন্সী আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেন। এতে নারায়ণ চন্দ্রনাথ, শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সিস্টেম অ্যানালিস্ট কিবরিয়া মাসুদ খান, সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুস্তফা কামরুল আখতার ও নক্ষত্র দেবনাথকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জব্দ করা উত্তরপত্র, নম্বর ফর্দ ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনায় নক্ষত্রের ১৪টি উত্তরপত্রে ২ থেকে সর্বোচ্চ ২৪ নম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে তাঁর ফলাফল ‘এ প্লাস’-এ উন্নীত করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তে দেখা গেছে, বাংলা প্রথম পত্রের রচনামূলকে নক্ষত্র পেয়েছিলেন ৩১ নম্বর। সেটি বাড়িয়ে ৪১ করা হয়। নৈর্ব্যক্তিকে পাওয়া ২৪ নম্বরের সঙ্গে আরও ২ নম্বর যোগ করা হয়।

ইংরেজি প্রথম পত্রের রচনামূলকে পাওয়া ৭০ নম্বর বাড়িয়ে ৯০ করা হয়। দ্বিতীয় পত্রে পাওয়া ৫৭ নম্বরের সঙ্গে ২৪ যোগ করে ৮১ নম্বর দেখানো হয়।

এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের রচনামূলকে ৩৪ নম্বরের সঙ্গে আরও ৮ নম্বর যোগ করা হয়। দ্বিতীয় পত্রের নৈর্ব্যক্তিকে ২০ নম্বর বাড়িয়ে ২২ করা হয়।

রসায়ন প্রথম পত্রের রচনামূলকে পাওয়া ৩০ নম্বর বাড়িয়ে ৪০ করা হয়। একই পত্রের নৈর্ব্যক্তিকে ৩ নম্বর বাড়িয়ে ২৩ এবং দ্বিতীয় পত্রের নৈর্ব্যক্তিকে পাওয়া ১৯ নম্বরের সঙ্গে আরও ৪ যোগ করে ২৩ দেখানো হয়।

জীববিজ্ঞান প্রথম পত্রের রচনামূলকে পাওয়া নম্বরও ১০ বাড়িয়ে ৩৯ করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জালিয়াতিতে সহযোগিতার বিনিময়ে অবসরকালীন ছুটিতে থাকা সিস্টেম অ্যানালিস্ট কিবরিয়া মাসুদ খানকে ২০২৪ সালের ফলাফল প্রস্তুতের কাজে যুক্ত করা হয়। এ জন্য তাঁকে দৈনিক ২ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার তথ্যও তদন্তে পাওয়া গেছে।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, নারায়ণ চন্দ্রনাথ ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিবরিয়া মাসুদ খানের সহায়তায় ছেলের ফলাফল পরিবর্তনে জড়িত ছিলেন। জব্দ করা উত্তরপত্র ও নম্বর ফর্দসহ তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্তে এর প্রমাণ মিলেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের পর নক্ষত্র দেবনাথের ফলাফল নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে।

পরে নক্ষত্রের ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য কে বা কারা আবেদন করেন। বিষয়টি জানতে পেরে নক্ষত্রের মা বনশ্রী দেবনাথ পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এতে ফল জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে সন্দেহ আরও জোরালো হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এরপর ২০২৪ সালের জুনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। একই বছরের ৯ জুলাই নারায়ণ চন্দ্রনাথকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে সরিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক করা হয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে ওএসডি করা হয়। তদন্তের পর নক্ষত্রের ফলাফল বাতিল করা হয়।

২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তৎকালীন সচিব অধ্যাপক ড. এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদ পাঁচলাইশ থানায় নারায়ণ চন্দ্রনাথসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন নক্ষত্র দেবনাথ, কিবরিয়া মাসুদ খান ও সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুস্তফা কামরুল আখতার।

গত ১৭ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে নারায়ণ চন্দ্রনাথকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগপত্রে চারজনকে আসামি ও ১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইনসহ দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী আদেশ দেবেন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৩ আগস্ট)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৩ আগস্ট)

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা... বিস্তারিত