×

ঢাকা, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী

২০২৬ আগস্ট ১৬ ২০:৩৩:১৩

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকট দূর করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তবে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি খাতের একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করা হবে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক পরিকল্পনা সঠিকভাবে নিতে পারবেন।

রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সভায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) সভাটির আয়োজন করে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতিকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে উদ্বেগের কথা বলছেন। আমরা সত্যিই এক ধরনের কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে, এই সংকট আমরা অতীত থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিষয়গুলো এমন নয় যে চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে অলৌকিকভাবে সমাধান করে ফেলা যাবে। এর স্থায়ী সমাধানের জন্য সর্বনিম্ন দুই বছর সময় প্রয়োজন এবং আমরা এই সংকট দূর করতেই দিনরাত লড়াই করে যাচ্ছি।’

শিল্পকারখানায় গ্যাসের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ব্যবসায়ীদের ব্যাংক ঋণ পরিশোধে তৈরি হওয়া জটিলতা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের হাতে তো কোনো জাদু নেই যে আমরা হঠাৎ করে মুহূর্তের মধ্যে দ্রুত গ্যাস ফিরিয়ে আনব। দ্রুতই সব ঠিক হয়ে যাবে—এমন মিথ্যা আশ্বাস দেওয়ার কোনো অর্থ হয় না। কারণ গ্যাস পাওয়ার প্রক্রিয়াটি রাতারাতি সম্ভব নয়।’

তিনি জানান, নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গ্যাস পেতে সর্বনিম্ন দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে।

জ্বালানি জোগানের বিকল্প হিসেবে সরকার দিনাজপুরের ফুলবাড়ীসহ অন্যান্য সম্ভাব্য স্থানে ‘ওপেন-পিট’ বা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের সামনে আর দ্বিতীয় কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমাদের দেশীয় সম্পদ কাজে লাগাতেই হবে।’

বিদ্যুৎ খাতের বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, কাগজে-কলমে যে পরিসংখ্যান দেখানো হয়, বাস্তবে বিদ্যুৎ পাওয়ার সক্ষমতা তার চেয়ে অনেক কম। প্রচুর উৎপাদনের কথা বলা হলেও মূল সমস্যা দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোয়।

এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ এবং দেশীয় কয়লার সমন্বয়ে একটি বাস্তবসম্মত ‘পাওয়ার মিক্স’ গঠন করছে বলে জানান তিনি।

আংশিক বা খণ্ড খণ্ড পদক্ষেপের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণের কথা পুনর্ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আংশিক কথা বলে ব্যবসায়ীদের বিভ্রান্ত করার কোনো অর্থ হয় না। দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে যে নতুন জ্বালানি নীতি আসবে, তা দেখে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বুঝতে পারবেন বিদ্যুৎ ও গ্যাস পেতে ঠিক কত দিন সময় লাগবে এবং সেই অনুযায়ী তারা ব্যবসার রূপরেখা তৈরি করতে পারবেন।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে অ্যামচেমের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, বাংলাদেশে উদীয়মান প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও পরিষেবা খাতসহ বহু সম্ভাবনাময় সেক্টরে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর ভালো সুযোগ রয়েছে। তবে এই সুযোগকে দীর্ঘমেয়াদি আস্থায় রূপান্তর করতে হলে শুধু নতুন নীতি বা আইন প্রণয়ন করলেই চলবে না; সেগুলোর ধারাবাহিকতা ও পূর্বানুমানযোগ্য বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রক বাধা দূর করে সংস্কারগুলোকে দৃশ্যমান ফলাফলে রূপ দিতে পারলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও মূলধন আকর্ষণের জন্য সবচেয়ে পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, যেকোনো বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে মূলধনের নিরাপত্তা, নীতিগত স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছ ব্যবসায়িক পরিবেশই মূল অগ্রাধিকার। বাংলাদেশ যদি নিজস্ব প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজ করতে পারে, তবে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় খাতেই বিনিয়োগের গতি ত্বরান্বিত হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত