ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
নবম পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা এবার শেষ হওয়ার পথে। নবম জাতীয় পে স্কেলের খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে সংশ্লিষ্ট সচিব কমিটি। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ প্রস্তাব আলোচনায় উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে নবম পে স্কেল-সংক্রান্ত সচিব কমিটি খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। অর্থ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করবে।
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে নবম পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন ধরা হবে। এরপর ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সুবিধার জন্য নতুন যে পে স্কেল করা হয়েছে, সেটি অনেকটাই চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারও জানান, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে এটি ঘোষণা হতে পারে।
মুখ্য সচিব বলেন, ‘পে স্কেল বিবেচনাধীন আছে এবং এ বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। এটা আমরা বাস্তবায়ন করব। এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। যেকোনো মুহূর্তে পে স্কেল ঘোষণা হতে পারে।’
পে স্কেল বাস্তবায়নের ফলে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন নতুন পে স্কেল না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য করে বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
এবিএম আব্দুস সাত্তার বলেন, সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় বছর পরপর পে স্কেল হওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘ সময় নতুন পে স্কেল না হওয়ায় প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী চাপের মধ্যে রয়েছেন। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাঁদের বেতন বাড়ানো প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
এর আগে অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে চেয়ারম্যান করে গঠিত কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
জাকির আহমেদ খান কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।
সচিব কমিটির চূড়ান্ত করা প্রস্তাবটি এখন মন্ত্রিসভার বিবেচনার অপেক্ষায়। বৈঠকে অনুমোদন পেলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর মধ্য দিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের বিষয়টি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- ১১-২০ গ্রেডের চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ছে
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাইভার তারিখ প্রকাশ
- নতুন পে-স্কেলে মোবাইল ভাতা পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা, কোন গ্রেডে কত?
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ সেপ্টেম্বর)
- বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ৬১৮ প্রভাষকের চাকরি স্থায়ীকরণ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ সেপ্টেম্বর)
- নারী এশিয়া কাপ সেমিফাইনাল: কবে, কখন কোন দলের ম্যাচ
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৮ সেপ্টেম্বর)
- বুটেক্সে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা