ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
ঢাবিতে আজ কালো দিবস
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০০৭ সালের ২০ থেকে ২৩ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ওপর সংঘটিত অমানবিক, বেদনাদায়ক ও নিন্দনীয় ঘটনার স্মরণে আজ ‘কালো দিবস’ পালন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
রোববার (২৩ আগস্ট) দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। এছাড়া সকাল ১১টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় আলোচনা সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
২০০৭ সালের ২০ থেকে ২৩ আগস্ট কী হয়েছিল?
২০০৭ সালের ২০ আগস্ট বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফুটবল খেলা চলছিল। ওই খেলাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত ছাত্র ও সেনাসদস্যদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
এর প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম সেনাসদস্যদের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। ঘটনাটি ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। ছাত্রদের কাছে সেনাসদস্যদের ক্ষমা চাওয়ার দাবি ওঠে। কিন্তু সেনাবাহিনী তা মেনে নেয়নি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারসহ ওই ঘটনায় জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে ২১ আগস্ট নির্যাতনের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁরা ক্যাম্পাসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁদের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। নীলক্ষেত, টিএসসি, কার্জন হল এলাকাসহ ক্যাম্পাস পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। পুলিশের টিয়ারশেল ও রাবার বুলেটে আহত হন শত শত শিক্ষার্থী। আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র থেকে ক্যাম্প সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় সেনাবাহিনী।
২২ আগস্ট এই আন্দোলন দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। রাজশাহীতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন রিকশাচালক আনোয়ার। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তৎকালীন সেনা-তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২২ আগস্ট বিভাগীয় শহরগুলোতে কারফিউ জারি করে। ওইদিন সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাবির আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর ২৩ আগস্ট রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ও অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদকে আটক করা হয়। তাঁদের চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইদুর রহমান খান, আবদুস সোবহান, মলয় কুমার ভৌমিক, দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস, আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সেলিম রেজা নিউটনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশের অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ঢাবির আরও দুই শিক্ষকসহ পাঁচ ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করে সেনাসমর্থিত সরকার। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার পর দীর্ঘ ৬৬ দিন পর ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস খুলে দেওয়া হয়। প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো নির্যাতনবিরোধী ব্যানারে মাঠে নামে। ধীরে ধীরে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির আন্দোলনও বেগবান হতে থাকে। পরে ‘ছাত্রবন্ধু’ ও ‘নির্যাতন প্রতিরোধ ছাত্র আন্দোলন’ এই দুটি ব্যানারে ছাত্র-শিক্ষক মুক্তির আন্দোলনে গতি সঞ্চার হয়।
ছাত্র-শিক্ষকদের মুক্তির আন্দোলনের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানে সেনাসমর্থিত সরকার। বাধ্য হয়ে গ্রেপ্তারকৃত ছাত্র-শিক্ষকদের মুক্তি দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর ২৩ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৭ সালের ওই ঘটনার স্মরণে ‘কালো দিবস’ পালন করা হয়।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের রুটিন প্রকাশ, দেখুন এখানে
- প্রধান শিক্ষক নিয়োগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত
- জাবির জঙ্গলে গভীর রাতে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগত আটক
- চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা স্বপন
- ৫২ বছর এক টাকায় পড়িয়ে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেলেন গাইবান্ধার লুৎফুর রহমান
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ অক্টোবর)
- ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে ‘বিয়ে হয়ে গেল’ আছিয়ার
- ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানা গেল
- দৈনন্দিন একাডেমিক কার্যক্রম সহজকরণে 'ক্লাসট্যাবলেট'
- অভিজ্ঞতা ছাড়াই প্রাণ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৩ নভেম্বর পর্যন্ত