ঢাকা, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন সীমা ও যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ করে সংশোধিত বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন বিধিমালায় ঋণের অনুপাত, কোন শেয়ারে মার্জিন সুবিধা দেওয়া যাবে এবং একক সিকিউরিটিতে অর্থায়নের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, জীবন বীমা কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য সব খাতের শেয়ারে মার্জিন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রাইস আর্নিং রেশিও (পিই) ৪০ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর জীবন বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিইর পরিবর্তে প্রাইস টু বুক ভ্যালু রেশিও (পিবি) বিবেচনা করা হবে। এসব কোম্পানির জন্য সর্বোচ্চ পিবি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানান, গত ১৩ আগস্ট মার্জিন বিধিমালার সংশোধিত চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। এরপর তা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই গেজেট প্রকাশিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন বিধিমালায় সব শেয়ার ও সিকিউরিটিজের জন্য মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো বিনিয়োগকারী নিজের হিসাবে যত টাকা ইক্যুইটি রাখবেন, সর্বোচ্চ সমপরিমাণ মার্জিন ঋণ নিতে পারবেন।
জীবন বীমা কোম্পানি ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানির শেয়ারের পিই ৪০-এর বেশি হলে সেটি মার্জিন সুবিধার জন্য অযোগ্য হবে। একইভাবে কোনো কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ঋণাত্মক হলেও ওই শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে সর্বশেষ ট্রেডিং দিনের সমাপনী মূল্যকে সর্বশেষ টানা চার প্রান্তিকের ইপিএসের যোগফল দিয়ে ভাগ করে ট্রেইলিং পিই নির্ধারণ করা হবে।
জীবন বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে ভিন্ন পদ্ধতিতে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো জীবন বীমা কোম্পানির পিবি ৩-এর বেশি হলে কিংবা নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ঋণাত্মক হলে ওই শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। ব্যবসার ধরন ও আর্থিক কাঠামোর কারণে এসব কোম্পানির ক্ষেত্রে পিইর পরিবর্তে পিবিকে মূল্যায়নের ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে সর্বশেষ ট্রেডিং দিনের সমাপনী মূল্যকে সর্বশেষ নিরীক্ষিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য দিয়ে ভাগ করে পিবি নির্ধারণ করা হবে। পিবি ৩-এর বেশি হলে সংশ্লিষ্ট শেয়ার মার্জিন সুবিধার বাইরে থাকবে। একইভাবে কোনো জীবন বীমা কোম্পানির এনএভি ঋণাত্মক হলেও সেই শেয়ারে মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে না।
নতুন নিয়মে মার্জিন অর্থায়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকের হিসাবেও ন্যূনতম বিনিয়োগের শর্ত রাখা হয়েছে। মার্জিন অর্থায়ন নেওয়ার সময় কোনো গ্রাহকের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে কমপক্ষে ৩ লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে। এর কম বিনিয়োগ থাকলে সংশ্লিষ্ট হিসাবে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।
এ ছাড়া কোনো বিনিয়োগকারী নিজের নগদ অর্থের পরিবর্তে মার্জিন-অযোগ্য কোনো সিকিউরিটি কিনলে সেই সিকিউরিটির মূল্যকে মার্জিন অর্থায়নের জন্য তার ইক্যুইটি হিসেবে গণনা করা যাবে না।
মার্জিন কল ও শেয়ার বিক্রির নিয়মেও পরিবর্তন
সংশোধিত বিধিমালায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে মার্জিন কল এবং শেয়ার বিক্রির বিষয়ে আগের তুলনায় কিছুটা বেশি সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন নিয়মে কোনো বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিও ইক্যুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে আগাম নোটিশ বা মার্জিন কল দিতে হবে।
এরপর ইক্যুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান আগাম নোটিশ ছাড়াই সংশ্লিষ্ট শেয়ার বিক্রি করতে পারবে। তবে এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীকে লিখিতভাবে অথবা তার ই-মেইল ঠিকানা ও নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে বার্তা পাঠিয়ে জানাতে হবে। প্রয়োজনে ফোন কলের মাধ্যমেও গ্রাহককে অবহিত করা যাবে।
জেড, এন ও জি ক্যাটাগরির শেয়ারে ঋণ নয়
সংশোধিত বিধিমালায় ‘জেড’, ‘এন’ এবং ‘জি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ারে মার্জিন ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। একই সঙ্গে এসএমই বোর্ড, অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি) এবং ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজও এই সুবিধার বাইরে থাকবে।
শুধু স্টক এক্সচেঞ্জের মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ারে মার্জিন ঋণ পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
একক শেয়ারে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ অর্থায়ন
মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি কমাতে কোনো একটি সিকিউরিটিতে অর্থায়নের সর্বোচ্চ সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী তার মোট বকেয়া মার্জিন অর্থায়নের ২০ শতাংশের বেশি একটি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ বা অর্থায়ন করতে পারবে না।
মার্জিন চুক্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে এক বছর। চুক্তির কোনো পক্ষ তা বাতিল না করলে মেয়াদ শেষে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে।
এ ছাড়া মার্জিন ঋণের অর্থ কেবল মার্জিনযোগ্য সিকিউরিটি কেনার কাজে ব্যবহার করা যাবে। তবে মার্জিন চুক্তিতে নির্ধারিত গ্রাহকের ইক্যুইটি ও মার্জিন অর্থায়নের ন্যূনতম অনুপাত বজায় থাকলে গ্রাহক তার মার্জিন হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
অন্যদিকে কোনো শেয়ার মার্জিনযোগ্য না হলেও বিনিয়োগকারী চাইলে নিজের নগদ অর্থ দিয়ে সেটি কিনতে পারবেন। তবে ওই শেয়ারকে জামানত হিসেবে দেখিয়ে পরবর্তীতে অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
এসএএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার আর নেই
- বিমান বাহিনীতে ৪৫ ক্যাটাগরিতে ৩৪২ শূন্যপদে চাকরির সুযোগ
- ঢাবির ৯২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গোপন তৎপরতার অভিযোগ, ৫৮ জন শনাক্ত
- বসুন্ধরায় অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার
- শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক দেবে এসএসসি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, আবেদন করবেন যেভাবে
- ৩৮২ পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেলেন
- ৪ মন্ত্রী পেলেন নতুন দায়িত্ব
- এসএসসিতে দুই প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ
- পরীক্ষা ছাড়া একাদশে ভর্তি শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- মালয়েশিয়ায় এসডিজি ইনোভেশন সামিটে পূর্ণাঙ্গ বৃত্তির সুযোগ
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪৭ পদে নিয়োগ
- এ টি এম আবদুল বারী ড্যানীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের অভিনন্দন
- বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী
- বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টে চাকরির সুযোগ, আবেদন অনলাইনে
- রঞ্জন কর্মকারের মৃ'ত্যুতে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শোক প্রকাশ