ঢাকা, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

মাছের মান নিশ্চিত করে রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

২০২৬ আগস্ট ১৭ ১৫:৪২:০৪

মাছের মান নিশ্চিত করে রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বে খাদ্যের ঘাটতির তুলনায় নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যের চাহিদা এখন বড় হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, মৎস্য উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারিত মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ফার্মগেটের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে মৎস্যসম্পদ: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মাছের কী কী সমস্যা রয়েছে, ভবিষ্যতে কী ধরনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, মানুষের চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মানসম্মত মাছের প্রয়োজনীয়তা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে পর্যাপ্ত অভয়াশ্রম নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। এ বিষয়ে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং মাছ সংরক্ষণে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও সার ব্যবহারসহ বিভিন্ন পরিবেশগত চাপ মাছের স্বাভাবিক উৎপাদন ও প্রজনন ব্যাহত করছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। সীমিত জায়গায় আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে অধিক মাছ উৎপাদনের সুযোগও কাজে লাগাতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের মৎস্যপণ্যের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের মিঠাপানির মাছের বড় একটি বাজার রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাঁদের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে মৎস্য রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব। তবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য শুধু বাংলাদেশিরা যে মাছ পছন্দ করেন তা উৎপাদন করলেই হবে না; যে দেশে মাছ রপ্তানি করা হবে, সেই দেশের মানুষের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনের দিকেও নজর দিতে হবে।

চিংড়ি, কাঁকড়া, কুঁচিয়াসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর রপ্তানি সম্ভাবনার বিষয়েও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে উৎপাদনের পাশাপাশি পোনা ও প্রজনন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে পোনা উৎপাদন ও লালন-পালন করা সম্ভব হলে এ খাতে উৎপাদন ও রপ্তানি বহুগুণ বাড়ানো যেতে পারে।

মৎস্য উৎপাদনে গুণগত মান, নিরাপদ খাদ্য, পরিবেশ সুরক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, গবেষক ও পেশাজীবীদের কার্যকর পরামর্শ সরকারকে সহযোগিতা করবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, মাছের উৎপাদন বাড়াতে হলে মাছের বেড়ে ওঠা ও প্রজননের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। মাছের আবাসস্থল ফিরিয়ে আনতে নদী ও খালের নাব্যতা বজায় রাখার পাশাপাশি নদীর সঙ্গে খালের সংযোগ পুনঃস্থাপন জরুরি।

মাছ চাষে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে একদিকে খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে খাদ্যনিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ বিষয়ে খামারিদের সচেতন করতে জেলাভিত্তিক সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিএফআরআইয়ের বিজ্ঞানীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মশিউর রহমান।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৭ আগস্ট)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৭ আগস্ট)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে সর্বশেষ সমন্বয় করা দামেই সোমবার (১৭ আগস্ট) স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ২... বিস্তারিত