ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কী হয়েছিল, জানা গেল রহস্যময় তথ্য
স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার হারের পর থেকেই ম্যাচটি ঘিরে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ফাইনালের শেষ বাঁশির পর থেকেই আর্জেন্টিনা ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচটি হেরেছে-এমন কথাও আলোচনায় আসে। এবার সেই ম্যাচের আগে ড্রেসিংরুমের ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন আর্জেন্টাইন সাংবাদিক রেনজো পান্তিচ।
রেনজো বলেন, ‘আমার কাছে যে তথ্য আছে, তাতে অস্বাভাবিক কিছু ঘটেনি। কারচুপির তত্ত্বে আমি বিশ্বাস করি না। আপনারা চাইলে ভেতরে আসলে কী ঘটেছিল, সেই সত্যিটাই বলি।’
তিনি জানান, ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপের সময় তিনজন খেলোয়াড় শরীরে টান অনুভব করেন। কোচের সঙ্গে শেষ আলোচনার আগে খেলোয়াড়েরা চিকিৎসকদের জানান, তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন। বিষয়টি কোচেরও জানা ছিল।
এই তিনজনের মধ্যে দুজনের নাম উল্লেখ করেছেন পান্তিচ। তাঁরা হলেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। পরে দুজনেরই চোট গুরুতর হয়ে যায়। তবে তৃতীয় খেলোয়াড়ের নাম নিশ্চিত করে বলতে পারেননি রেনজো। তাঁর ভাষায়, ‘সত্যি বলতে, নামটা আমার কাছে নেই।’ তবে তিনি ধারণা করেন, ওই খেলোয়াড় সম্ভবত মাঝমাঠের কেউ ছিলেন। কারণ তখন মাঝমাঠের খেলোয়াড়েরা ক্লান্ত ছিলেন।
ম্যাচের আগে ড্রেসিংরুমে কোচ স্কালোনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলতেন এবং কৌশল নিয়ে তাঁদের মতামতও শুনতেন বলে জানান রেনজো। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। পারেদেসের সঙ্গে একবার এমন কথোপকথন ভাইরাল হয়েছিল। দি পল, মেসি ও দিবু মার্তিনেজের সঙ্গেও এমন আলোচনা হয়েছে।
রেনজো জানান, ম্যাচের আগে একাধিক খেলোয়াড় চোটে পড়েছিলেন। এর সঙ্গে ছিল টানা ম্যাচ খেলার শারীরিক ধকল। তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা জানত, স্পেন কীভাবে খেলবে। কারণ ফাইনালেও তাদের মুখোমুখি হতে হতো। স্কালোনি আগে থেকেই সেই ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু ফাইনালে সেই একই কৌশলে খেলা সম্ভব ছিল না। কারণ কিছু খেলোয়াড় শারীরিকভাবে ক্লান্ত ছিলেন এবং কেউ কেউ চোটেও ভুগছিলেন।’
এ কারণে স্কালোনি কৌশল বদলে রক্ষণাত্মক খেলার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান পান্তিচ। তিনি বলেন, ‘তাই স্কালোনি পুরো বিশ্বকাপে যে কৌশল নিয়েছিলেন, সেই একই কৌশল আবার বেছে নেন। এই কৌশল ছিল রক্ষণ সামলে যতদূর সম্ভব খেলা টেনে নেওয়া। লক্ষ্য ছিল ১২০ মিনিট পার করে টাইব্রেকার পর্যন্ত পৌঁছানো।’
পান্তিচের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে মাত্র একটি গোল হয়েছিল এবং তাদের বিপক্ষে শটও কম নেওয়া হয়েছিল। স্কালোনির ধারণা ছিল, আর্জেন্টিনা যদি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে কিংবা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম গোলের পর যেভাবে খেলেছিল, সেভাবে খেলে, তাহলে চারটি গোল হজম করতে হতে পারে।
তবে এই কৌশল নিয়ে দলের ভেতরেও মতবিরোধ দেখা দেয়। দিবু মার্তিনেজ পরিকল্পনাটির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ‘না, আমি একমত নই। আমাদের আক্রমণে যেতে হবে।’
আরেকজন ফুটবলারও বলেন, ‘আমাদের আক্রমণে যেতে হবে, গোল করতে হবে। এটা বিশ্বকাপ ফাইনাল। যেভাবেই হোক আমরা এখানে এসেছি। কিন্তু আক্রমণ করার সামর্থ্য আমাদের আছে।’
এই আলোচনা ও মতবিরোধের মধ্যেই মাঠে নামার আগে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে দলকে উজ্জীবিত করেন মেসি। তিনি বলেন, ‘বন্ধুরা, সব ভুলে যাও। শান্ত থাকো। বল নিয়ে খেলো। আমরা রিল্যাক্স থেকে খেলব।’
রেনজো পান্তিচ শেষে জানান, ম্যাচের কৌশল নিয়ে আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তেই দলের মধ্যে এই বিতর্ক হয়েছিল।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন জেমস
- স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশ পোস্ট বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের স্মারকলিপি
- রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান পরিবহন মালিক সমিতির
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- শতবর্ষী ৮০৮ স্কুল-কলেজের তালিকা করল মাউশি
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন এখানে
- সিগারেট নিয়ে নতুন বিধান জারি
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- অপ্রতিম হ/ত্যার রহস্যময় তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ
- ঢাবিতে ৮ম কুইজ ফেস্ট ও ফ্রেশার্স রিসেপশন অনুষ্ঠিত
- আত্মহ/ত্যার আগে যা লিখেছিলেন এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী
- নতুন পে স্কেলের বাইরে থাকছেন যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী
- আবারও লংমার্চের ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের
- ঢাবির ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি