ঢাকা, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
কুড়িগ্রামে গোডাউনের দরজা ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সার না পেয়ে এক ডিলার পয়েন্টের গুদামের দরজা ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে গেছেন কৃষকেরা। প্রতিটি বস্তায় ছিল ৫০ কেজি করে সার। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩টি বস্তা ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মুকুলের মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিলখুড়ি ইউনিয়নের ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ পেলেও কৃষকদের সার দিতে গড়িমসি করছিলেন। তাঁর বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার। এর মধ্যে গুদামে মজুদ ছিল ৩৪০ বস্তা। টাকা দিয়েও সময়মতো চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
রোববার সার নেওয়ার জন্য শিলখুড়ি ডিলার পয়েন্টে দুই শতাধিক কৃষক জড়ো হন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও ডিলার পয়েন্ট না খুলে টালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা গুদামের দরজা ভেঙে ৫০ কেজি ওজনের ১৯৭ বস্তা, অর্থাৎ ৯ হাজার ৮৫০ কেজি ইউরিয়া সার নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুদামে থাকা বাকি সার রক্ষা করে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুদ্দিন বলেন, ওই ইউনিয়নে সারের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা। বিপরীতে মোট বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা। উত্তোলনের পরিমাণ আরও কম ছিল। ডিলার কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহে গড়িমসি করছিলেন। এতে কৃষকেরা সার না পাওয়ার আশঙ্কায় গোডাউন ভেঙে সার নিয়ে যান।
ওসি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কৃষকেরা ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেও পরে ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা ফেরত দিয়েছেন। বাকি বস্তাগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, আগস্ট মাসে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৬৮০ মেট্রিক টন। সেই পরিমাণ সার পাওয়া গেছে এবং বিতরণও চলছে। উপজেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকেরা আতঙ্ক থেকে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন।
তিনি বলেন, নিয়ে যাওয়া বাকি সারের বস্তা ফেরত আনার চেষ্টা চলছে। কৃষকদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। কৃষকদের সচেতন করতে কাজ করা হচ্ছে এবং তাঁদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে সারের কোনো সংকট নেই। এ বিষয়ে সবার ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, শিংখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গার একটি পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে সার বিতরণ কার্যক্রম চলছিল। তবে বিতরণ শুরুর আগেই কিছু উশৃঙ্খল মানুষ প্যানিক ছড়িয়ে গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে যান।
ইউএনও বলেন, পরে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। কিছু সার উদ্ধার হয়েছে এবং বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন। সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত
- পর্নোগ্রাফি মামলায় ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেফতার
- লন্ডনে ঢাবি অ্যালামনাই ইউকের কোচ ট্রিপ অনুষ্ঠিত
- বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জয়ী
- স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১৮ আগস্ট পর্যন্ত
- বিইউপিতে ২৯ পদে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ
- নতুন পে-স্কেলে বড় পরিবর্তন, যেভাবে বাস্তবায়ন হবে বেতন-ভাতা
- নবম পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৩ আগস্ট)
- ফেসবুক পোস্ট ঘিরে ঢাবির হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ
- খণ্ডকালীন শিক্ষক নেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জানুন আবেদনপদ্ধতি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৭ আগস্ট)
- বস্ত্র অধিদপ্তরে ৪২ পদে পুনর্নিয়োগ
- চালুর প্রথম দিনেই দুর্ঘটনায় পিংক বাস