ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

সৈকতে ভেসে এলো মহাকাশ থেকে ছিটকে আসা ধাতব গোলক

২০২৬ জুলাই ১১ ১৩:২২:১৯

সৈকতে ভেসে এলো মহাকাশ থেকে ছিটকে আসা ধাতব গোলক

ডুয়া ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলের একটি সৈকতে রহস্যময় কয়েকটি ধাতব গোলক ভেসে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এগুলো মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ছিটকে আসা ধাতব বল। তবে জনপ্রিয় কমেডি চলচ্চিত্র নির্মাতা মেল ব্রুকসের ক্ল্যাসিক ছবি স্পেসবলস-এর সঙ্গে এসব গোলকের কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।

অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের শান্ত উপকূলীয় শহর ফরেস্ট বিচে এ ধরনের কয়েকটি ধাতব গোলক উদ্ধার করা হয়েছে।

পরে সংস্থাটি জানায়, অজ্ঞাত বস্তুগুলো আসলে একটি মহাকাশযানের ধ্বংসাবশেষ। ধারণা করা হচ্ছে, সম্প্রতি পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসা একটি রকেটের অংশ এগুলো।

স্পেস এজেন্সির ভাষ্য, উদ্ধার করা বস্তুগুলো দেখতে একটি মহাকাশ উৎক্ষেপণ যানের ‘প্রেশার ভেসেল’-এর মতো।

এ ঘটনায় কুইন্সল্যান্ড ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগও এক্সে একটি পোস্ট প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যাতে বস্তুগুলো পরীক্ষা ও উদ্ধার করতে পারে, সে জন্য সৈকতের একটি অংশ সাময়িকভাবে ঘিরে রাখা হয়েছিল। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, বস্তুগুলো জনসাধারণের জন্য নিরাপদ।

অস্বাভাবিক মনে হলেও মহাকাশযানের ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীতে এসে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, মহাকাশ অভিযান শেষে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় সব অংশ সম্পূর্ণ পুড়ে যায় না। ফলে মহাকাশযান বা উপগ্রহের কিছু অংশ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে পড়তে পারে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়ায় মহাকাশযানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার এটি তৃতীয় ঘটনা। এর আগে ২০২৩ সালে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলে একটি ধাতব বস্তু ভেসে এসেছিল।

অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি (এএসএ) জানিয়েছে, মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসা অধিকাংশ বস্তুর অবতরণের স্থান আগে থেকেই নির্ধারণ করা থাকে। সাধারণত সেগুলো জনবিরল এলাকা বা সমুদ্রে ফেলা হয়। তবে কিছু বস্তু নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করেও টিকে যায়। ফলে সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ কোথায় পড়বে, তা আগে থেকে নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

সংস্থাটি আরও জানায়, মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে। বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের পর টিকে থাকা এসব ধ্বংসাবশেষ সাধারণত জনবিরল এলাকায় পড়ে। তবে অস্ট্রেলিয়ার ভূখণ্ডে পড়া কিছু বস্তু প্রথমে সাধারণ মানুষের চোখেই ধরা পড়েছে।

ধ্বংসাবশেষগুলো কোন দেশের এবং কোন উৎক্ষেপণ যান থেকে এসেছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে এএসএ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের রহস্যময় ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এক্সে দেওয়া সতর্কবার্তায় সংস্থাটি বলেছে, ‘কোনো বস্তুকে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ বলে সন্দেহ হলে তা স্পর্শ করবেন না, সরাবেন না বা নিজে উদ্ধার করার চেষ্টা করবেন না। কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপদ ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এগুলোকে বিপজ্জনক মনে করুন। সেখান থেকে দূরে সরে যান এবং জরুরি সেবা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ফের বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন... বিস্তারিত