ঢাকা, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
সংকট কাটাতে ৭৫০ কোটি টাকার সরকারি সহায়তা চায় পিপলস লিজিং
নিজস্ব প্রতিবেদক: চরম সংকটে থাকা ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (পিএলএফএস) তাদের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবং পূর্ণদমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতে সরকারের কাছে ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা চেয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং সংকটাপন্ন এই খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেছে প্রতিষ্ঠানটি।
পিপলস লিজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত এই আর্থিক সহায়তা তাদের আদায়যোগ্য সম্পদ এবং বকেয়া দায়ের মধ্যে থাকা ব্যবধান ঘুচাতে সাহায্য করবে। এর ফলে আদালতের তত্ত্বাবধানে চলমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৩ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও তারল্য সংকটের মুখে পড়ার পর উচ্চ আদালত একসময় প্রতিষ্ঠানটি অবসায়নের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে ২০২১ সালের জুলাই মাসে আদালত সেই নির্দেশ স্থগিত করে এবং প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠনের সুযোগ দিতে একটি নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেয়।
নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, গত কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠানটিকে স্থিতিশীল করতে তারা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০২১ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত খেলাপি গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার ৯০০ জন আমানতকারীকে প্রায় ৮৪ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রধান কার্যালয় পুরানা পল্টনে নিজস্ব ফ্লোরে সরিয়ে নিয়েছে, যার ফলে প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা ভাড়া সাশ্রয় হচ্ছে। এমনকি ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ঝুলে থাকা সাতটি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সম্পন্ন করে তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করেছে।
ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুরোদমে চালু করতে পিপলস লিজিং বেশ কিছু বড় পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান দায়গুলোকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুদহীন কিস্তিতে রূপান্তর করা, আমানতকারীদের পাওনাকে কোম্পানির শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগ যাচাই করা এবং নতুন আয় বাড়াতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) ও জামানতভিত্তিক ঋণ প্রদান পুনরায় শুরু করা। এছাড়া আর্থিক অনিয়মে জড়িত সাবেক পরিচালকদের শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে সেগুলো নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছে পুনরায় ইস্যু করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
পিপলস লিজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সগির হোসেন খান চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো উচ্চ আদালত এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে সাধারণ মানুষের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। জনস্বার্থে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি লাভজনক ও কার্যকরী সত্তায় রূপান্তর করতে ৭৫০ কোটি টাকার এই সহায়তা অপরিহার্য। যদি এই তহবিল পাওয়া যায়, তবে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সিআরআর এবং এসএলআর বজায় রেখে নিয়মিত আর্থিক কার্যক্রমে ফিরতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার রায়ের মৃ’ত্যু
- সকালে না রাতে, কখন গোসল করা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো?
- স্কলারশিপ দিচ্ছে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেনে নিন আবেদন পদ্ধতি
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল আজই
- দেশে সোনার দামে বড় পতন
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড
- বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
- নবনিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্য মোর্শেদ হাসান খানকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কা সিরোহী আর নেই