ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বাজেট ও সংস্কারের আশায় শেয়ারবাজারে টানা উত্থান
অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো ইতিবাচক ও চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নবনিযুক্ত কমিশনের ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কারের আশ্বাস এবং আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শেয়ারবাজারবান্ধব নানা ঘোষণার প্রত্যাশা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
যদিও সপ্তাহের শুরুতে টানা দশ কার্যদিবসের উত্থান পর্ব শেষে মাঝামাঝি সময়ে কিছু বিনিয়োগকারীর মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং বাজেট-পূর্ব সতর্ক অবস্থান দেখা গিয়েছিল। তবে সপ্তাহের শেষভাগে এসে আকর্ষণীয় মূল্যে থাকা ভালো শেয়ারগুলোতে নতুন করে বিনিয়োগ বাড়ায় বাজার একটি স্থিতিশীল ও ইতিবাচক অবস্থানে থেকেই সপ্তাহ শেষ করেছে।
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ‘ডিএসইএক্স’ আগের সপ্তাহের তুলনায় ৪৫ দশমিক ৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সাড়ে পাঁচ হাজার পয়েন্টের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। সূচকের এই আরোহণের পাশাপাশি বাজারে দৈনিক গড় লেনদেনের গতিও ছিল বেশ আশাব্যঞ্জক। গত সপ্তাহে ডিএসইতে গড় লেনদেনের পরিমাণ ১১ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১ হাজার ২৮ কোটি ৮ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
তবে সূচক ও লেনদেন বাড়লেও সামগ্রিক বাজার মূলধনে কিছুটা পতন দেখা গেছে। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৯২ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা, যা বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ১০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে বাজার মূলধন ২ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা বা দশমিক ৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
এদিকে সপ্তাহটিতে ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে ১ হাজার ১১৪ পয়েন্ট এবং ২ হাজার ৭২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৩টির, কমেছে ১৭৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর।
সাপ্তাহিক লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ও অংশগ্রহণ দেখা গেছে সাধারণ বিমা, প্রকৌশল এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে। খাতভিত্তিক পারফরম্যান্সের বিচারে গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি মুনাফা দিয়েছে সেবা ও আবাসন, সিরামিক এবং সাধারণ বিমা খাত। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি লোকসান বা দর হারিয়েছে বিবিধ, ভ্রমণ ও অবকাশ এবং পাট খাত।
বিশেষ করে বিবিধ খাতে সপ্তাহজুড়ে প্রায় ১১ দশমিক ৯ শতাংশের একটি বড় ধরনের সংশোধন বা পতন হয়েছে। যার মূল কারণ ছিল এই খাতের অন্যতম শীর্ষ ও প্রভাবশালী শেয়ার বেক্সিমকো লিমিটেডের অস্বাভাবিক মূল্যহ্রাস। একক কোম্পানি হিসেবে গত সপ্তাহে বেক্সিমকোর শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ প্রায় ২৭ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে, যা পুরো খাতের সূচককে নিচের দিকে টেনে নামিয়েছে। টানা কয়েক কার্যদিবস দাম বাড়ার পর সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারগুলো থেকে বিনিয়োগকারীদের প্রফিট বুকিং বা লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং বাজেট-পূর্ব সচেতনতাই এই বড় সংশোধনের পেছনের মূল কারণ বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
একক কোম্পানির দর বৃদ্ধির তালিকায় গত সপ্তাহে সবাইকে ছাড়িয়ে শীর্ষ গেইনারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে শ্যামপুর সুগার মিলস, মার্চেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স এবং প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স। বিপরীতে বেক্সিমকোর পাশাপাশি শীর্ষ লুজারের (দর হারানো) তালিকায় নাম লিখিয়েছে পিপলস লিজিং (পিএলএফএসএল) এবং ফারইস্ট ফিন্যান্স। তবে বেক্সিমকোর বড় পতন সত্ত্বেও স্কয়ার ফার্মা, সায়হাম পোর্ট এবং গ্রামীণফোনের মতো বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সামগ্রিক সূচককে ইতিবাচক অবস্থানে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- ছাদখোলা গাড়িতে লংমার্চে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, গাড়িটি কার?