ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রাকসু জিএসের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তির দাবি শিক্ষক নেটওয়ার্কের
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এখতিয়ারবহির্ভূত তৎপরতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছে শিক্ষক নেটওয়ার্ক। আবেদনে গত ২৭ জুলাইয়ের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্যাম্পাসে আইনের শাসন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
লিখিত আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও ছাত্রশিবিরের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধর করেন। পরে হামলার শিকার দুই শিক্ষার্থী-ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস এবং সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
শিক্ষক নেটওয়ার্কের দাবি, প্রক্টর অফিস, রাকসু ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এবং এমনকি অ্যাম্বুলেন্স থেকে আহত ব্যক্তিকে নামিয়ে পুনরায় মারধরের মতো ঘটনাও ঘটেছে। তাদের মতে, এসব ঘটনা দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
আবেদনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অভিযোগের তদন্ত ও বিচার করার দায়িত্ব প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। কোনো ছাত্রসংগঠন বা ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে ‘মব জাস্টিস’-এর শিকার করা আইনের শাসনের জন্য বিপজ্জনক বলেও মন্তব্য করা হয়।
তারা আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নির্বাচনের পর থেকে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও তাঁর সহযোগীরা বারবার এখতিয়ারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।
আবেদনে আরও দাবি করা হয়, প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার কার্যালয়ে হামলার সময় রাকসুর ভিপি ও জিএসকে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে উসকানি দিতে দেখা গেছে।
শিক্ষক নেটওয়ার্কের ভাষ্য, শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিচার করা ‘জুলাইয়ের গণতান্ত্রিক চেতনার’ পরিপন্থী। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোই গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি।
আবেদনের শেষাংশে তারা বলেন, অতীতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী বা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব প্রশাসনের, কোনো ছাত্রসংগঠন বা রাকসুর নয়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ
- জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে যেতে টিকিট কাটবেন যেভাবে
- ভাতা-উপবৃত্তির আবেদন শুরু, জেনে নিন পদ্ধতি
- মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ
- এক ক্লিকে জেনে নিন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ও ফিচার
- নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল
- পাঁচ দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ দিল সরকার
- আজকের বাজারে স্বর্ণ-রুপার দাম (৫ আগস্ট)
- কবে হবে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, জানা গেল যা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ আগস্ট)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ আগস্ট)
- রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড: ঢাবির কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
- কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ স্কলারশিপে আবেদন শুরু
- পিএসসিতে আরও চার সদস্য নিয়োগ
- প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ভাইভা শুরুর নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর