ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
টেন্ডারে বিশেষ শর্তে সুবিধা দেওয়া হয় পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি কেনাকাটায় অনেক সময় পছন্দের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে দরপত্রে (টেন্ডার) এমন বিশেষ শর্ত যুক্ত করা হয়, যাতে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ যোগ্য বিবেচিত না হয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা বাস্তব এবং অডিটররা অনেক সময় তা শনাক্তও করেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয়দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণাটি করেছে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)।
কর্মশালার উন্মুক্ত আলোচনায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) মেনে কাজ করলেও অডিট আপত্তি এড়াতে অডিটরকে ৫ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সততার সঙ্গে নিয়ম মেনে কাজ করলে অডিটরকে কোনো ঘুষ দিতে হবে না। কেউ অর্থ দাবি করলে তা সরাসরি তাঁকে জানাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রায় এক মাস আগে তাঁর মন্ত্রণালয়ের একটি ফাইল দেখে সন্দেহ হওয়ায় তিনি সাত দিন সেটিতে সই করেননি। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার ব্যাখ্যা চাইলেও সন্তোষজনক জবাব পাননি। পরে বাধ্য হয়ে সই করেন।
মন্ত্রী জানান, পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা কাজ না পেয়ে রিভিউ বোর্ডে আপিল করলে আগের সিদ্ধান্ত বাতিল হয় এবং তাকেই কাজ দেওয়া হয়। এতে তাঁর প্রাথমিক সন্দেহ যে সঠিক ছিল, সেটি প্রমাণিত হয়েছে।
সরকারি ক্রয়ে অনিয়মের আরেকটি উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ১১ কোটি টাকা মূল্যের দুটি রেডিওথেরাপি মেশিন ১৮ কোটি টাকায় কেনা হয়েছিল। কিন্তু মেশিন দুটি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বাংকার নির্মাণ না করায় একটি ফরিদপুরে এবং অন্যটি খুলনায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। পরিকল্পনাহীন ক্রয়ের কারণে জনগণের অর্থের অপচয় হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গবেষণায় যা উঠে এসেছে
কর্মশালায় গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। নয় মাস ধরে দেশের আটটি বিভাগের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে ৯৫টি গভীর সাক্ষাৎকার, একটি জ্ঞান-দৃষ্টিভঙ্গি-চর্চা (কেএপি) জরিপ এবং ১৮টি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জরিপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর গড় বাজেট ব্যয়ের হার ছিল ৮৫ শতাংশ। তবে ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানেই অর্থবছর শেষে কিছু অর্থ অব্যয়িত থেকে যায়। বাজেট বাস্তবায়নে অডিট আপত্তির আশঙ্কা, প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদের বাজেট ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণের অভাব এবং বরাদ্দ পুনর্বণ্টনে দীর্ঘসূত্রতাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে জরুরি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা উদ্বেগজনকভাবে কম। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা ২২ দশমিক ৭ শতাংশ, জেলা হাসপাতালে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে মাত্র ১১ দশমিক ৫ শতাংশ।
বর্তমানে সরকারি হাসপাতালের প্রায় ৬২ শতাংশ ওষুধ সরবরাহ করে এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি সময়মতো চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ করতে পারলে এ হার প্রায় ৯০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, প্রয়োজনীয় রিএজেন্টের অভাব, যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে থাকা এবং প্রশিক্ষিত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের সংকটের কারণে অনেক হাসপাতালে পরীক্ষাগারসেবা ব্যাহত হচ্ছে। সেবা ব্যাহত হওয়ার ৪৩ শতাংশের জন্য দায়ী রিএজেন্টের ঘাটতি, ৩৪ শতাংশের জন্য অকেজো যন্ত্রপাতি এবং ১৯ শতাংশের জন্য দক্ষ জনবলের অভাব।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের অনুমোদিত ৬ হাজার ৪০৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৩ হাজার ৮৯২ জন। অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য পদের হার ২৭ শতাংশ, জেলা হাসপাতালে ১২ শতাংশ এবং মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে ৩৬ শতাংশ। ফলে অনেক হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও সেগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নেই।
গবেষণায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য খাতের সাফল্য শুধু বরাদ্দ বা ব্যয়ের পরিমাণ দিয়ে নয়; বরং সময়মতো অর্থছাড়, সেই অর্থের কার্যকর ব্যবহার এবং এর মাধ্যমে রোগীরা ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সচল যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন কি না—এসব বিষয়ই মূল্যায়নের প্রধান মানদণ্ড হওয়া উচিত।
ইএইচপি
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা