ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হদিস নেই কোম্পানির তবুও ১০ দিনে কোম্পানির দর বেড়েছে ৭০%

২০২৬ জুন ০৭ ২২:০৮:৩১

হদিস নেই কোম্পানির তবুও ১০ দিনে কোম্পানির দর বেড়েছে ৭০%

অর্থনীতি ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ এবং চার বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো আর্থিক হিসাবের হদিস না থাকা সত্ত্বেও দেশের শেয়ারবাজারে রহস্যজনকভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের শেয়ারের দাম। একপ্রকার অস্তিত্ব সংকটে থাকা এই কোম্পানির শেয়ারদরের এমন অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। তবে এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় রিজেন্ট টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষ ডিএসই-কে কোনো ধরনের সহযোগিতা করছে না।

ডিএসইর বাজার চিত্র অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ১৮ মে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ছিল মাত্র ৪ টাকা ৩০ পয়সা। কিন্তু মাত্র ১০ কার্যদিবসের ব্যবধানে, অর্থাৎ ৭ জুন লেনদেন শেষে তা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৩০ পয়সায়। এই স্বল্প সময়ে শেয়ারপ্রতি দর বেড়েছে ৩ টাকা বা প্রায় ৭০ শতাংশ।

ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির থাকা একটি কোম্পানির শেয়ারের এমন উল্টোরথকে চরম অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসই। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে কোনো কারসাজি বা অপ্রকাশিত কারণ রয়েছে কি না, তা জানতে চেয়ে রিজেন্ট টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছিল। কিন্তু রহস্যজনকভাবে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে ডিএসইর সেই নোটিশের কোনো জবাব বা সাড়া দেওয়া হয়নি।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত কয়েক বছর ধরেই রিজেন্ট টেক্সটাইলের কারখানায় উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর ওপর ২০২০-২১ অর্থবছরের পর থেকে কোম্পানিটি তাদের কোনো ত্রৈমাসিক বা বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক হিসাব ধামাচাপা দিয়ে রাখায় কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছেন।

নিয়মিত আর্থিক হিসাব প্রকাশ না করার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে লভ্যাংশেও। ২০২০ সালের পর থেকে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা এই কোম্পানি থেকে কোনো ধরনের ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ পাননি। কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরের ব্যবসায় বিনিয়োগকারীদের জন্য ১ শতাংশ নগদ ও ১ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল।

আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ বন্ধের আগের দুই বছরের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেই সময়েও বড় অঙ্কের লোকসানে ছিল প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা (শেয়ারপ্রতি ০.৩১ টাকা) এবং সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা (শেয়ারপ্রতি ১.৬২ টাকা) লোকসান করে কোম্পানিটি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া রিজেন্ট টেক্সটাইলের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৯১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। বহুল আলোচিত এই কোম্পানির ৪৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানায় রয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বাকি শেয়ারের মালিকানা রয়েছে কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। ফলে এই ধরনের কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পুঁজিই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের কমেছেসোনার দাম

ফের কমেছেসোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির প্রভাবে আবারও সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে... বিস্তারিত