ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন পেতে চাইলে টক্সিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলুন
ডুয়া ডেস্ক: অনেকেরই ধারণা কেবল পুষ্টিকর খাবার আর নিয়মিত ব্যায়ামই তারুণ্য ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি। তবে সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। আপনার চারপাশে থাকা নেতিবাচক বা 'টক্সিক' মানুষগুলো আপনার অজান্তেই শরীরের বার্ধক্যের গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ, মনের অশান্তি কেবল একঘেয়ে মানসিক যন্ত্রণার কারণ নয়, এটি সরাসরি আপনার শরীরের ডিএনএ এবং কোষগুলোকে দ্রুত বুড়িয়ে দিচ্ছে।
‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস আমেরিকা’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী বাইংকিউ লি-র নেতৃত্বে ২,৩০০ জনেরও বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক পরিবেশে থাকা ক্ষতিকারক বা সমস্যাকারী মানুষগুলো ডিএনএ-র ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিজ্ঞানীদের দলটি শরীরের প্রকৃত বয়স বা বার্ধক্যের গতি মাপার জন্য ‘ডিএনএ মিথাইলেশনভিত্তিক’ এক বিশেষ জৈবিক ঘড়ি ব্যবহার করেছেন।
গবেষণার ফল রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। দেখা গেছে, সামাজিক পরিসরে প্রতিটি টক্সিক মানুষের উপস্থিতির কারণে শরীরের বার্ধক্যের গতি গড়ে প্রায় ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। যাদের চারপাশে এমন নেতিবাচক মানুষের ভিড় ছিল, তাদের জৈবিক বয়স শান্তিতে থাকা ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় ৯ মাস বেশি পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, ক্ষতিকর সামাজিক সম্পর্কগুলো আপনার আয়ু কমানোর পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতাও দ্রুত কেড়ে নিচ্ছে।
এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ২৮.৮ শতাংশ তাদের জীবনে অন্তত একজন টক্সিক ব্যক্তির উপস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন। একটি বিস্ময়কর তথ্য হলো, জীবনসঙ্গীর নেতিবাচক আচরণের তুলনায় টক্সিক বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের প্রভাব শরীরের ওপর বেশি পড়েছে। গবেষকদের মতে, বিবাহের কিছু ইতিবাচক দিক থাকে যা মানসিক চাপকে কিছুটা সামাল দিতে পারে, কিন্তু বন্ধু বা আত্মীয়দের অবহেলা ও সমালোচনা সরাসরি কোষের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
শারীরবৃত্তীয় দিক থেকে দেখলে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। টক্সিক সম্পর্কের কারণে শরীর সবসময় একটি ‘সতর্ক’ অবস্থায় থাকে, যা মূলত কোষের স্বাভাবিক মেরামত প্রক্রিয়াকে স্তব্ধ করে দেয়।
পরিশেষে, সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য কেবল স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নয়, বরং ইতিবাচক সামাজিক সম্পর্কও অপরিহার্য। যেসব সম্পর্ক নিয়মিত মানসিক চাপ বা অবমূল্যায়নের জন্ম দেয়, সেগুলো থেকে দূরত্ব তৈরি করা দীর্ঘায়ু হওয়ার অন্যতম শর্ত। নিজেকে নেতিবাচক মানুষ থেকে দূরে রাখা এখন আর কেবল মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয় নয়, এটি তারুণ্য ধরে রাখারও এক বড় বিনিয়োগ।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ২২৮ পদে নিয়োগ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকর
- এসএসসি-এইচএসসিতে ফেল করলে ফের পরীক্ষা, এরপর কারিগরি শিক্ষা
- হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন
- খুলনায় ৩০ কেজি ধানে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখতে ভিড়
- সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃ/ত্যুতে রাজনীতিতে শূন্যতা তৈরি হয়েছে: রিজভী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৩ অক্টোবর)