ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কোরবানির গোশত কীভাবে বণ্টন করবেন? জানুন বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামি শরিয়তে কোরবানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত হিসেবে বিবেচিত। সামর্থ্যবান নারী-পুরুষের ওপর কোরবানি ওয়াজিব করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি আদায় করুন।’ (সুরা কাউসার: ২)
হাদিসে কোরবানির ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি খুশি মনে সওয়াবের আশায় কোরবানি করবে, ওই কোরবানির জবেহকৃত পশু কোরবানিদাতার জন্য জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হবে।’ (আল মুজামুল কাবির: ২৬৭০)
কোরবানির গোশত কীভাবে ব্যবহার করতে হবে সে সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন মহানবী (সা.)। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা নিজেরা খাও, অন্যকে আহার করাও এবং সংরক্ষণ কর।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৫৬৯)
আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোরবানি করা পশুর গোশত বণ্টনের ক্ষেত্রেও ইসলাম নির্দিষ্ট বিধান দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোরবানির গোশত ভাগ করার নিয়মও উম্মতকে শিখিয়ে গেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোরবানির গোশতের একভাগ নিজের পরিবারের জন্য রাখতেন, একভাগ গরিব প্রতিবেশীদের দিতেন এবং বাকি একভাগ গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বণ্টন করতেন।
বর্তমানে অনেকেই শরিকে বা ভাগে কোরবানি করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে গোশত বণ্টনের বিষয়ে শরিয়তে কঠোর বিধান রয়েছে। শরিকে কোরবানি করলে গোশত অবশ্যই সঠিকভাবে ওজন করে ভাগ করতে হবে। কোনোভাবেই আন্দাজ বা অনুমানের ভিত্তিতে ভাগ করা জায়েজ নয়।
অংশীদারদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতি থাকলেও অনুমানভিত্তিক বণ্টনের সুযোগ নেই। কারণ এতে কমবেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর গোশতের বিনিময়ে গোশতের পরিমাণে কম-বেশি হওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে সুদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যা হারাম। তাই আন্দাজে গোশত বণ্টন করলে কোরবানি আদায় হলেও অংশীদাররা গুনাহগার হবেন।
ফিকহশাস্ত্রের কিতাবগুলোতেও এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘গোশত ওজন করেই বণ্টন করতে হবে, অনুমান করে নয়।’ (আলাউদ্দিন হাসকাফি, আদ-দুররুল মুখতার, ৬/৩১৭, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২০০২)
তবে পশুর মাথা, পা, কলিজাসহ অন্যান্য অঙ্গ বণ্টনের ক্ষেত্রে নিখুঁতভাবে ওজন করা জরুরি নয়। এসব জিনিস সংখ্যা বা আন্দাজ অনুযায়ী ভাগ করা যেতে পারে। (ফখরুদ্দিন হাসান ইবনে মনসুর, ফাতাওয়ায়ে কাজিখান, ৩/৩৫১, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২০০৯)
অন্যদিকে, একই পরিবারের সদস্যরা যদি যৌথভাবে বা একই খরচে কোরবানি করেন, তাহলে নিজেদের মধ্যে গোশত ওজন করে ভাগ করার প্রয়োজন নেই। (মুফতি মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহি, ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া, ১৭/৪২৫, জামিয়া ফারুকিয়া, করাচি, ২০০৯)
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- তিন ছাত্রদল নেতাকে ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ দিল সরকার
- আজ বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের ৯০তম বৈঠক
- জাবিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড
- নবম জাতীয় পে-স্কেল, কাটছাঁটের পর যত টাকা লাগছে?
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি আবেদনের সময়সূচি প্রকাশ
- শাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. খায়রুল ইসলাম
- দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?
- গরু-মহিষ কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিধিনিষেধ বহাল
- দেশে বাড়ল সোনার দাম, ভরি কত?
- আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন
- সোমবার টানা ৯ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
- ৭ কোটি মানুষ চরম সংকটের মুখে রয়েছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী
- জাল সনদে নিয়োগ: ৬৩ শিক্ষককে শোকজ মাউশির
- কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব সুসংবাদ শুনতে পারে: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী