ঢাকা, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

এসি ঘরে অন্যদের চেয়ে বেশি ঠান্ডা লাগে কেন, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

২০২৬ আগস্ট ১৭ ১২:১০:১৫

এসি ঘরে অন্যদের চেয়ে বেশি ঠান্ডা লাগে কেন, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ডুয়া ডেস্ক: বাইরে প্রচণ্ড গরম। অফিসে ঢুকেই এসির ঠান্ডা বাতাসে স্বস্তি পাচ্ছেন সহকর্মীরা। কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন এসি রুমে ঢোকার কিছুক্ষণ পরই হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে, শুরু হয় শরীরে কাঁপুনি। অন্যরা স্বাভাবিকভাবে কাজ করলেও আপনার কাছে যেন শীতকাল চলছে। এমনটা নিয়মিত হলে বিষয়টিকে শুধু ‘শীতকাতুরে’ বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। অল্পতেই বেশি ঠান্ডা লাগা শরীরে কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।

বাড়ি কিংবা অফিস একই পরিবেশে অন্যরা স্বাভাবিক থাকলেও আপনার যদি তুলনামূলক বেশি ঠান্ডা লাগে এবং এটি নিয়মিত ঘটে, তাহলে এর কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সমস্যার একটি কারণ হতে পারে শরীরে আয়রনের ঘাটতি।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের অ্যানেসথেশিওলজিস্ট কুণাল সুদ বলেন, রক্তে আয়রনের মাত্রা কমে গেলেও অকারণে বেশি ঠান্ডা লাগতে পারে। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে নানা ধরনের শারীরিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যার অন্যতম হলো স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঠান্ডা অনুভূত হওয়া।

শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে আয়রন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হিমোগ্লোবিন রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। আয়রনের ঘাটতি হলে কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে সমস্যা হতে পারে। এতে কোষ স্বাভাবিকভাবে তাপ উৎপাদন করতে পারে না। পাশাপাশি আয়রনের মাত্রা কমে গেলে বিপাকহারও কমতে পারে। এসব কারণেই অন্যদের তুলনায় বেশি ঠান্ডা লাগার অনুভূতি হতে পারে।

তবে শুধু অল্পতেই ঠান্ডা লাগছে বলেই শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এর সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ রয়েছে কি না, সেদিকেও নজর দিতে হবে। আয়রনের ঘাটতি হলে অতিরিক্ত চুল পড়া, অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়া এবং শরীর দুর্বল লাগার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। আয়রনের মাত্রা অনেক কমে গেলে সামান্য কাজেই হাঁপ ধরতে পারে।

নিয়মিত বেশি ঠান্ডা লাগার পাশাপাশি এসব উপসর্গের কোনোটি দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা করে শরীরে আয়রনের মাত্রা স্বাভাবিক আছে কি না, তা জানা যায়।

খাবারের মাধ্যমেও শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখা সম্ভব। পালংশাক, মেটে, থোড়, মোচা, ডিমের কুসুম ও শিমজাতীয় খাবারে আয়রন রয়েছে। এসব খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

আয়রন শরীরে ভালোভাবে শোষিত হওয়ার জন্য ভিটামিন সিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে লেবু ও আমলকীর মতো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া যেতে পারে।

সুতরাং, এসি ঘরে ঢুকলেই অন্যদের তুলনায় বেশি ঠান্ডা লাগা, বারবার কাঁপুনি, ক্লান্তি, দুর্বলতা বা হাঁপ ধরার মতো সমস্যা নিয়মিত দেখা দিলে নিজেকে শুধু ‘শীতকাতুরে’ ভেবে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। এসব উপসর্গের পেছনে কোনো শারীরিক কারণ রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা জরুরি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৭ আগস্ট)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৭ আগস্ট)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে সর্বশেষ সমন্বয় করা দামেই সোমবার (১৭ আগস্ট) স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ২... বিস্তারিত