×

ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক বাড়াল ভারত

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ১২:৩০:৪৬

বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক বাড়াল ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট পাটপণ্যে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্কের হার পুনর্নির্ধারণ করেছে ভারত। পণ্য ও উৎপাদনকারীভেদে ভিন্ন হার নির্ধারণ করে ২৪ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব বিভাগ। নতুন কাঠামোয় তালিকাভুক্ত কিছু বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য শুল্ক কম রাখা হলেও তালিকার বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সর্বোচ্চ হার আরোপ করা হয়েছে।

নতুন শুল্ক কাঠামোতে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটের সুতা বা টুইন, হেসিয়ান কাপড়, স্যাকিং ব্যাগ ও স্যাকিং ক্লথ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকার বাইরে থাকা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের পাটের সুতায় প্রতি টনে ৪৪৫ ডলার, হেসিয়ান কাপড়ে ৮৮ ডলার এবং স্যাকিং ব্যাগে ২৮৩ ডলার পর্যন্ত শুল্ক দিতে হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জুট স্যাকিং ব্যাগের জন্য নির্ধারিত শুল্ক জুট স্যাকিং ক্লথের ওপরও প্রযোজ্য হবে। তবে বাংলাদেশি ১০টি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তৈরি স্যাকিং ক্লথকে এ শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। নির্ধারিত শুল্কসুবিধা পেতে রপ্তানিকারককে বৈধ বাণিজ্যিক চালানের মাধ্যমে পণ্যের মূল প্রস্তুতকারকের সঠিক ঘোষণা দিতে হবে। তা না হলে সর্বোচ্চ শুল্কহার প্রযোজ্য হবে।

প্রতিষ্ঠানভেদে শুল্কের হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পাটের সুতা ও হেসিয়ান কাপড়ে কোনো শুল্ক রাখা হয়নি। নাটোর জুট মিলসের স্যাকিং ব্যাগ এবং জনতা জুট মিলসের হেসিয়ান কাপড়েও শুল্ক শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজের পাটের সুতায় প্রতি টনে ৫৯ ডলার ও স্যাকিং ব্যাগে ৯৪ ডলার, নাটোর জুট মিলসের সুতায় ১০৭ ডলার এবং সুপার জুট মিলসের সুতায় ১৩৯ ডলার ও স্যাকিং ব্যাগে ১৫৫ ডলার শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। হাসান জুট, জনতা জুট, সাদাত জুট, সাগর জুট স্পিনিং ও সিডল অ্যান্ড টেক্সটাইলসের পাটের সুতায় ৬৯ ডলার এবং স্যাকিং ব্যাগে ১২০ ডলার করে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আফিল জুট ও আলিনা জুট মিলসের হেসিয়ান কাপড়ে ৮৮ ডলার এবং রাজবাড়ী জুট মিলসের সুতায় ৬৯ ডলার ও হেসিয়ান কাপড়ে ৮৮ ডলার শুল্ক দিতে হবে।

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজ (ডিজিটিআর) ২০২৫ সালের ৩০ জুন অ্যান্টিডাম্পিং শুল্কের মধ্যবর্তী পর্যালোচনা শুরু করে। ডিজিটিআরের চূড়ান্ত সুপারিশের ভিত্তিতে রাজস্ব বিভাগ নতুন হার প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করেছে।

সিদ্ধান্তের বিষয়ে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক জানিয়েছেন, আগে সুবিধাপ্রাপ্ত অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন করে বাদ পড়েছে— আবার অনেকে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে এ খাতে কোনো সরকারি ভর্তুকি না থাকায় এ শুল্ক আরোপের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

নতুন শুল্ক কাঠামোর কারণে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাটপণ্য রপ্তানিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে তালিকাবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বাড়লে ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমতে পারে। তালিকাবহির্ভূত ক্ষুদ্র ও মাঝারি পাটকলগুলো অতিরিক্ত শুল্কের চাপ সামলাতে না পেরে রপ্তানি বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত