×

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

কফি পানের ৫ সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

২০২৬ অক্টোবর ০১ ১৬:০০:৪৯

কফি পানের ৫ সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

ডুয়া ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর একটি কফি। মনোযোগ বাড়ানো ও শরীরে শক্তি জোগানোর জন্য অনেকেই ঘুম থেকে ওঠার পর এক কাপ গরম কফি দিয়ে দিনের শুরু করেন। শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণায় কফি পানের সঙ্গে সম্ভাব্য কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

১. শক্তি বাড়াতে পারে

কফিতে থাকা ক্যাফেইন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। ফলে ক্লান্তি কমে এবং শরীরে শক্তি বাড়তে পারে। ক্যাফেইন অ্যাডেনোসিন নামের একটি নিউরোট্রান্সমিটারের রিসেপ্টর আটকে দেয়। এতে মস্তিষ্কে শক্তির মাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী অন্যান্য নিউরোট্রান্সমিটারের পরিমাণ বাড়ে, যার মধ্যে ডোপামিনও রয়েছে।

একটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাফেইন গ্রহণের পর সাইক্লিং অনুশীলনের সময় ক্লান্ত হতে অংশগ্রহণকারীদের ১২% বেশি সময় লেগেছে। একই সঙ্গে তাঁরা তুলনামূলক কম ক্লান্তি অনুভব করার কথাও জানিয়েছেন।

২. টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পারে

নিয়মিত কফি পান দীর্ঘমেয়াদে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে। ৩০টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতিদিন এক কাপ অতিরিক্ত কফি পান করলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৬% কমে।

এর সম্ভাব্য একটি কারণ হিসেবে কফির অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষের কার্যকারিতা ধরে রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কোষ রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন তৈরি করে।

৩. মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে

কফি ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণার ফল সব ক্ষেত্রে এক নয়। তবে কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, কফি আলঝেইমার রোগ ও পারকিনসন রোগের মতো নির্দিষ্ট কিছু নিউরোডিজেনারেটিভ ডিসঅর্ডার থেকে সুরক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

১৩টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, নিয়মিত ক্যাফেইন গ্রহণকারীদের পারকিনসন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ক্যাফেইন গ্রহণকারীদের মধ্যে রোগটির অগ্রগতিও ধীর হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া কয়েকটি গবেষণায় পরিমিত কফি পানের সঙ্গে ডিমেনশিয়া ও মস্তিষ্কের সমস্যার ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে

কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, কফি শরীরে চর্বি জমার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে পারে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। এসব বিষয় ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।

১২টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বেশি পরিমাণে কফি পান শরীরের চর্বি কম থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে। অন্য একটি গবেষণায় নারীদের মধ্যে কফি পানের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে শরীরের চর্বি কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিদিন এক থেকে দুই কাপ কফি পানকারীদের শারীরিক কার্যকলাপের প্রস্তাবিত মাত্রা পূরণের সম্ভাবনা, প্রতিদিন এক কাপের কম কফি পানকারীদের তুলনায় ১৭% বেশি। তবে এই সম্পর্ক কফি পানের কারণে তৈরি হয়েছে কি না, নাকি এটি কেবল পারস্পরিক সম্পর্ক—তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

৫. বিষণ্ণতা কমার সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে

কিছু গবেষণায় কফি পানের সঙ্গে বিষণ্ণতা কমার সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। ১৪,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ১ কাপ কফি পান করার তুলনায় প্রতিদিন অন্তত ৪ কাপ কফি পান বিষণ্ণতা কমার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত