ঢাকা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
কোলনের সুস্থতায় মেনে চলুন ৭টি অভ্যাস
ডুয়া ডেস্ক: হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখা এবং অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে বৃহদন্ত্র বা কোলনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন, কোলন পরিষ্কার রাখলে হজমপ্রক্রিয়া ভালো থাকে। তবে এ জন্য বিশেষ কোনো ওষুধ বা জটিল পদ্ধতির প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলেই অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে পারে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ভিনমেকের এক প্রতিবেদনে ঘরে বসে কোলনের যত্ন নেওয়ার সাতটি উপায় তুলে ধরা হয়েছে।
১. পর্যাপ্ত পানি পান
হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। প্রতিদিন ছয় থেকে আট গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তরমুজ, টমেটো, লেটুস ও সেলারির মতো পানিসমৃদ্ধ খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
তবে কোলন পরিষ্কারের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত জোলাপ বা ল্যাক্সেটিভ ব্যবহার করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন এসব ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হতে পারে।
২. লবণ-পানি পান
কোষ্ঠকাঠিন্য বা অনিয়মিত মলত্যাগের সমস্যায় কেউ কেউ লবণ-পানি পান করার পদ্ধতি অনুসরণ করেন। ২০১০ সালের একটি গবেষণায় যোগব্যায়ামের নির্দিষ্ট কিছু ভঙ্গির সঙ্গে লবণ-পানি ব্যবহারে কোলন পরিষ্কারের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছিল।
এই পদ্ধতিতে সকালে খালি পেটে কুসুম গরম পানিতে দুই চা-চামচ লবণ মিশিয়ে পান করার কথা বলা হয়েছে। এতে কিছুক্ষণের মধ্যে মলত্যাগের চাপ তৈরি হতে পারে।
তবে উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে কিংবা যাঁদের খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ সীমিত রাখতে হয়, তাঁদের এ পদ্ধতি এড়িয়ে চলা উচিত। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা নিরাপদ নয়।
৩. আঁশযুক্ত খাবার খান
অন্ত্রের সুস্থতার জন্য খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, বাদাম ও বিভিন্ন বীজে প্রচুর খাদ্যআঁশ থাকে।
খাদ্যআঁশ মলের পরিমাণ বাড়াতে এবং মলত্যাগ নিয়মিত রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিদিনের খাবারে আঁশযুক্ত খাবার রাখা প্রয়োজন।
৪. ফল ও সবজির জুস এবং স্মুদি
ফল ও সবজির জুস হজমের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। এসব পানীয়তে থাকা পানি শরীরকে আর্দ্র রাখতে এবং মল নরম করতে সহায়তা করে।
২০১৫ সালের একটি গবেষণায় কোলন পরিষ্কারে ভিটামিন সি-এর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আপেল, লেবু ও সবুজ শাকসবজিতে এই ভিটামিন পাওয়া যায়।
তবে শুধু জুস পান করে উপবাস করার পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং জুসের পরিবর্তে স্মুদি খাওয়া ভালো হতে পারে। কারণ স্মুদিতে ফলের আঁশ অক্ষত থাকে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৫. প্রতিরোধী শ্বেতসারযুক্ত খাবার
প্রতিরোধী শ্বেতসার বা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ একধরনের শর্করা, যা খাদ্যআঁশের মতো কাজ করে। আলু, ভাত, ডাল, কাঁচা কলা ও বিভিন্ন শস্যে এটি পাওয়া যায়।
এ ধরনের খাবার অন্ত্রের উপকারী অণুজীবের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ২০১৩ সালের একটি পর্যালোচনামূলক গবেষণায় প্রতিরোধী শ্বেতসার বৃহদন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
যাঁরা কম শর্করাযুক্ত খাবার গ্রহণ করেন, তাঁরা ডাল, কাঁচা কলা ও গোটা গমের মতো খাবার বেছে নিতে পারেন।
৬. প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার
অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রোবায়োটিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দই, কিমচি, আচার ও অন্যান্য গাঁজন করা খাবারে প্রোবায়োটিক পাওয়া যায়।
প্রোবায়োটিকের পাশাপাশি খাদ্যআঁশ ও প্রতিরোধী শ্বেতসার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রমে সহায়তা করে। এগুলো অন্ত্রের প্রদাহ কমানো এবং নিয়মিত মলত্যাগে ভূমিকা রাখতে পারে।
আপেল সিডার ভিনেগারকেও অনেকে প্রোবায়োটিক হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে এর মাধ্যমে অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দমনের বিষয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা নেই।
৭. ভেষজ চা পান
কিছু ভেষজ উপাদানে জোলাপের বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করতে পারে। এসব উপাদানের মধ্যে রয়েছে-
ইসবগুলের ভুসি
অ্যালোভেরা
মার্শম্যালো রুট
স্লিপারি এলম
তবে এসব ভেষজ উপাদান ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ কিছু উপাদান নিয়মিত ব্যবহৃত ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। অতিরিক্ত ভেষজ জোলাপ গ্রহণও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
এ ছাড়া আদা, রসুন ও গোলমরিচে থাকা কিছু উপাদানের জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। আদা-চা পান করাও খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হোন
কোলনের সুস্থতা বজায় রাখতে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত মলত্যাগের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোলন পরিষ্কারের নামে অতিরিক্ত লবণ-পানি, জোলাপ বা ভেষজ উপাদান ব্যবহার করা উচিত নয়।
এ ধরনের কোনো পদ্ধতি অনুসরণের সময় বমি বমি ভাব, বমি, মাথা ঘোরা, পানিশূন্যতা, শরীরে লবণ-খনিজের ভারসাম্যহীনতা কিংবা পেটে ব্যথা দেখা দিলে তা অবহেলা করা যাবে না। এসব লক্ষণ দেখা দিলে পদ্ধতিটি বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ অক্টোবর)
- বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩১ অক্টোবর)
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৫ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- আনসার-ভিডিপিতে ২২৮ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ অক্টোবর)
- মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুকদের সুখবর দিল সরকার
- ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ
- নভেম্বরের শুরুতে টানা তিন দিনের ছুটি পাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
- ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে আবেদন করবেন যেভাবে, জানুন বিস্তারিত
- এইচএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল কবে, জানাল বোর্ড
- ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত এমপির ছেলেকে যুবদল থেকে বহিষ্কার
- আজকের খেলার সময়সূচি (৩০ অক্টোবর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (০১ নভেম্বর)