×

ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

এইচএসসির ফল আশানুরূপ না হলে যেভাবে সন্তানের পাশে থাকবেন

২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৫:০৩:৩২

এইচএসসির ফল আশানুরূপ না হলে যেভাবে সন্তানের পাশে থাকবেন

ডুয়া ডেস্ক: এইচএসসির ফল প্রকাশের দিনটি অভিভাবকদের জন্য আবেগ, উৎকণ্ঠা ও প্রত্যাশার এক বিশেষ সময়। কাঙ্ক্ষিত ফল এলে পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। তবে প্রত্যাশার বিপরীত ফলও অনেক পরিবারের জন্য বয়ে আনে হতাশা ও নীরবতা।

ফল প্রত্যাশামতো না হলে কিংবা কাঙ্ক্ষিত জিপিএ না পেলে অনেক সময় পুরো পরিবারে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকেরাও দিশেহারা হয়ে পড়েন।

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় এইচএসসির ফলাফলকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই ফল খারাপ হলে সামাজিক চাপ ও লজ্জার ভয়ে অনেক অভিভাবক সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত কঠোর হয়ে ওঠেন। অথচ এমন সংকটময় সময়ে বকাঝকা বা দোষারোপ নয়, সন্তানের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পরিবারের মানসিক সমর্থন।

এইচএসসির ফল প্রকাশের পর তা আশানুরূপ না হলে অভিভাবকেরা কীভাবে ইতিবাচকভাবে সন্তানের পাশে দাঁড়াতে পারেন, তা নিয়ে থাকছে পাঁচটি পরামর্শ।

১. বকাঝকা ও নেতিবাচক মন্তব্য এড়িয়ে চলুন

রাগের মাথায় অনেক অভিভাবক সন্তানকে বলে বসেন, ‘এত টাকা খরচ করে পড়ানোর ফল কী হলো!’ কিংবা ‘তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না’।

কিন্তু ফল প্রত্যাশামতো না হলে শিক্ষার্থী এমনিতেই অপরাধবোধ ও মানসিক চাপে থাকে। এর ওপর এ ধরনের কটূক্তি বা অপমান তার আত্মবিশ্বাস আরও কমিয়ে দিতে পারে। মনে রাখতে হবে, পরীক্ষার ফল যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন বকাঝকা করে তা বদলানো সম্ভব নয়; বরং এতে সন্তান মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়তে পারে।

২. অন্যের সন্তানের সঙ্গে তুলনা করবেন না

‘পাশের বাসার আন্টির ছেলে কত জিপিএ পেয়েছে, আর তুমি কী করলে!’—বাংলাদেশের অনেক পরিবারেই এমন তুলনা পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু এতে সন্তানের মনে হীনম্মন্যতা ও জেদ তৈরি হতে পারে, যার পরিণতি কখনো কখনো গুরুতর হয়ে ওঠে।

প্রতিটি শিশুর মানসিক গঠন ও সামর্থ্য আলাদা। তাই অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে সন্তানের নিজের আগের ফলাফল কিংবা ছোটখাটো ইতিবাচক অর্জনগুলোর প্রশংসা করুন।

৩. সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন

সন্তানের ফল খারাপ হওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা জানার চেষ্টা করুন। পরীক্ষার সময় অসুস্থতা, পারিবারিক চাপ কিংবা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে প্রস্তুতির ঘাটতি—বিভিন্ন কারণে ফল প্রত্যাশার চেয়ে খারাপ হতে পারে।

কোনো ধরনের বিচার না করে তার কথা মন দিয়ে শুনুন। সে কী বলতে চাইছে, তা বোঝার চেষ্টা করুন। এতে তার ভেতরে জমে থাকা কষ্ট ও মানসিক চাপ অনেকটাই কমতে পারে।

৪. মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখুন

ফল প্রকাশের পর অনেক শিক্ষার্থী হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যায়। কেউ সবার কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়, কেউ আবার ঘরের দরজা বন্ধ করে একা থাকতে চায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এসব আচরণকে অনেক সময় নিছক ‘অভিমান’ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সন্তান একা থাকতে চাইছে বলে তাকে পুরোপুরি একা ছেড়ে দেবেন না। তার পাশে থাকুন এবং বোঝান, জীবন কেবল একটি পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে না। পরিস্থিতি বেশি জটিল মনে হলে পেশাদার কাউন্সেলর বা চিকিৎসকের সহায়তা নিতে দ্বিধা করবেন না।

৫. বাস্তবসম্মত ও বিকল্প পরিকল্পনা করুন

এরপর কী করা যায়, তা নিয়ে ঠান্ডা মাথায় ভাবুন। আমাদের সমাজে জিপিএ-৫ বা প্রত্যাশিত ফল না পেলেই সব শেষ—এমন একটি ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অথচ উচ্চশিক্ষার নানা বিকল্প পথ রয়েছে। অনার্সের বিভিন্ন বিষয়, প্রফেশনাল কোর্স কিংবা ডিগ্রি কলেজে পড়ার সুযোগও রয়েছে।

সন্তানের আগ্রহ ও সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের পরিকল্পনা করুন। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরামর্শ নিন।

এইচএসসির ফলাফল জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ, পুরো জীবন নয়। ভালো ফল সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে ঠিকই, তবে আশানুরূপ ফল না পাওয়া মানেই জীবনের পথ থেমে যাওয়া নয়। বরং এমন কঠিন সময়ে সন্তানের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠতে হবে পরিবারকেই।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে কত?

ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম... বিস্তারিত