×

ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

 ‘অনেক শিশুকে চুমু দিয়েছি, আমাকে মারার সাহস আছে?’

২০২৬ অক্টোবর ২৪ ১৬:০৩:৩৫

 ‘অনেক শিশুকে চুমু দিয়েছি, আমাকে মারার সাহস আছে?’

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন হাফেজ ক্বারী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ‘অনেক বাচ্চাকে আমি চুমা দিছি, তাইলে আমারে মারার সাহস আছে?’ একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তুলনায় শাস্তি বেশি হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ বলেন, ‘মাদ্রাসা ভাঙচুর করবে কেন? তার বাপের প্রতিষ্ঠান নাকি এটা? উনি চুমু দেয় নাই, দেওয়ার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করছিলেন। একজন ওস্তাদ, তার শিক্ষক তাকে কতটুকু ভালোবাসার পরে সে বলছে—রেজাল্ট ভালো হওয়ার পরে বলছে তোমাকে চুমু দিব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি চুরি করছেন, ইসলামের আইন হচ্ছে আপনার হাত কেটে দেওয়া। বিএনপির একজন কর্মকর্তা কথার কথা, সে হোটেলে আকাম করে ধরা খাইছে, এটার দায় কি তারেক রহমান সাহেব নিবে? জামায়াতের এক এমপি সাতক্ষীরায় ধরা পড়ছে আকাম করে, এটার দায় কি শফিকুর রহমান নেবে?’

নিজের প্রসঙ্গ টেনে তাশরীফ বলেন, ‘এখন আমি যদি এই কথা বলি যে আমাদের অনেক বাচ্চাদেরকে আমি চুমা দিছি, তাইলে আমারে মারার সাহস আছে? ওরে তো আমারে মারার আগে ওরে খতম করে ফেলতো। আমার জায়গায় যদি হইতো, আমার সাথে যে ১০০ লোক থাকতো, তারে খতম করে দিত। কিন্তু সে এই জায়গায় আইসা যে কাজটা করছে, এই শাহজালাল রুমি আমার দুইটা ফেসবুক আইডি খেয়ে দিয়েছে। যাই হোক, এগুলো দিয়ে আমাদেরকে দমায় রাখতে পারবে না।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের পেজ মনে করেন বন্ধ হয়ে যাবে, কিন্তু এই কথা তো ঠিকই ছড়িয়ে যাবে। আমাদেরকে দমাতে পারবে না।’

অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে কথা বললেও বিষয়টি নিয়ে কোনো এক পক্ষ নিতে চান না বলে দাবি করেন তাশরীফ। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো এক পক্ষে কথা বলতে চাই না। যদি ওই হুজুরের বিরুদ্ধে এমন কোনো দোষ পাওয়া যায়, তিনি ধর্ষণ করেছেন বা করতে পারেন, তাহলে এমন মারা ঠিক ছিল। কিন্তু একটা চুমু দিবে—এমন কথা বলার পরে এইভাবে মারে কিভাবে?’

শাহজালাল রুমির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি আমার সাথে ঘণ্টা কে ঘণ্টা টক শো করতে চান, আজকে এত সময় নাই, আমি সব বুঝিয়ে দিব ইনশাল্লাহ। ব্যাপার হচ্ছে, যতটুকু অপরাধ, শাস্তি ততটুকু হতে পারে। একজন ওস্তাদ, তার শিক্ষক তাকে কতটুকু ভালোবাসার পরে সে বলছে—রেজাল্ট ভালো হওয়ার পরে তোমাকে একটা চুমু দিব। চকলেটও দিয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপালকে চড় মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার করিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার শিক্ষকের নাম মুসলেউদ্দিন। তিনি ওই মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় আসেন হাফেজ ক্বারী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত