×

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

টঙ্গীতে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

২০২৬ অক্টোবর ২৩ ২২:০১:০০

টঙ্গীতে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মোসলেম আহম্মদ (৩০) নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন শিশুটির স্বজন ও এলাকাবাসী। গত বুধবার টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে শিশুটির বাবার করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ওই শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের কয়েকটি ভিডিও গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার ভেতরে কয়েকজন ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এ সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘...আমাদের স্টুডেন্টদের সঙ্গে আমার অন্য রকম সম্পর্ক, সবার সঙ্গে, বিশেষ করে ক্লাস ওয়ানের। তার একপর্যায়ে আমি বললাম, চুমু...।’ এরপর ‘কিসের চুমু রে’ বলে তাঁকে থাপ্পড় মারতে ও পেটাতে শুরু করেন শিশুটির স্বজনেরা।

ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিওতে কয়েকজনকে ওই শিক্ষককে মারধর করতে দেখা যায়। মাদ্রাসায় উপস্থিত লোকজন তাঁদের নিবৃত্ত করার এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ভুক্তভোগী শিশুটির স্বজনেরা বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা যায়।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা এর কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। বিষয়টি বাড়িতে জানালে তাকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। একপর্যায়ে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি পুরো ঘটনা খুলে বলে।

এরপর বুধবার দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

শিশুটির বাবা সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর মেয়ে ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। গত সোমবার শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ তাঁর মেয়ের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এ ঘটনায় তিনি মামলা করেছেন। ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের দাবি, মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি বলেন, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে মারধর করেন। তাঁকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল ফোন লুটের অভিযোগও করেন তিনি।

তবে লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশুটির বাবা। শুক্রবার দুপুরে তিনি বলেন, ঘটনার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা হুমকিমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পৃথক আরেকটি অভিযোগ দিয়েছে।

হুমকির অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, মৌখিকভাবে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছে। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত