×

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে প্রতিদিন যে খাবারগুলো খাবেন

২০২৬ অক্টোবর ২২ ১৪:১৯:১৩

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে প্রতিদিন যে খাবারগুলো খাবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্বক শুধু সৌন্দর্যের অংশ নয়, এটি শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তবে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির পাশাপাশি দৃশ্যমান আলো, ইনফ্রারেড রেডিয়েশন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও বায়ুদূষণও ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কোলাজেন নামের প্রোটিনের পরিমাণ কমে যায়। ফলে ত্বক তার স্বাভাবিক টানটান ভাব হারায় এবং বলিরেখা দেখা দেয়। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ত্বকের যত্নের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর করা সম্ভব।

ত্বক সুস্থ ও সতেজ রাখতে রঙিন ফলমূল ও শাকসবজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গাজর, ক্যাপসিকাম ও টমেটোতে থাকা ক্যারোটিনয়েডের মধ্যে লুটিন, লাইকোপেন ও বিটা-ক্যারোটিন উল্লেখযোগ্য। এসব উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং ত্বককে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করে।

টমেটো ও গাজরের মতো খাবারের সঙ্গে অল্প অলিভ অয়েল বা সরিষার তেল খেলে ক্যারোটিনয়েড শোষণে সুবিধা হতে পারে। বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়, যা ত্বকের স্বাভাবিক কোষ গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণে ভূমিকা রাখে। তবে এসব খাবার সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারে না। খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের ফল পেতে নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদি চর্চা প্রয়োজন।

ফলমূলেও মিলবে ত্বকের প্রয়োজনীয় পুষ্টি

আম ও লেবুজাতীয় ফলে থাকা ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের যত্নে সহায়ক। ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট সময় ধরে পরিমিত পরিমাণে আম খাওয়ার সঙ্গে বয়স্ক নারীদের মুখের বলিরেখা কমার সম্পর্ক রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। আমে প্রাকৃতিক চিনি থাকায় এটি অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।

বাদাম ও তৈলাক্ত মাছ রাখুন খাদ্যতালিকায়

ত্বকের আর্দ্রতা ও স্বাভাবিক কোমলতা বজায় রাখতে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট প্রয়োজন। কাঠবাদাম, পেস্তাবাদাম, চিনাবাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজে ভিটামিন ই এবং উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। ভিটামিন ই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকের কোষকে সুরক্ষায় সহায়তা করে।

অন্যদিকে, স্যামন, সার্ডিন ও ম্যাকারেলের মতো তৈলাক্ত মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এটি শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে এবং ত্বকের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে শুধু এসব খাবার খেলেই ত্বকের সব সমস্যা দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

অন্ত্রের স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ

ত্বকের সুস্থতার সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্যেরও সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ককে ‘গাট-স্কিন অ্যাক্সিস’ বলা হয়। ফলমূল, শাকসবজি, বাদাম ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য সহায়ক। পাশাপাশি টক দইয়ের মতো গাঁজন করা খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্ত্রের স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ও ত্বকের মধ্যে জটিল সম্পর্ক রয়েছে। সুষম খাদ্যাভ্যাস শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে সোরিয়াসিস বা অ্যালার্জির মতো চর্মরোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় শুধু খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

ত্বকের যত্নে প্রয়োজন সুষম খাদ্য ও সানস্ক্রিন

শুধু খাবার খেয়ে বয়সের ছাপ পুরোপুরি মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তবে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ধরে রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়।

প্রতিদিনের খাবারে রঙিন শাকসবজি, পরিমিত ফল, বাদাম, তৈলাক্ত মাছ ও টক দই রাখতে পারেন। পাশাপাশি দিনের বেলা বাইরে যাওয়ার আগে ত্বকের উপযোগী সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে নিয়মিত সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখলে ত্বকের যত্ন আরও কার্যকর হতে পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত