×

ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

জেনে নিন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে আয়ের ১০টি উপায়

২০২৬ অক্টোবর ১০ ২১:১৯:০২

জেনে নিন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে আয়ের ১০টি উপায়

ডুয়া ডেস্ক: শুধু বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম নয়, হোয়াটসঅ্যাপ হতে পারে আয়েরও একটি সুযোগ। ছোট ব্যবসায়ী, অনলাইন বিক্রেতা ও বিভিন্ন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এই অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো, পণ্য বিক্রি এবং সেবা দেওয়ার কাজ করতে পারেন। হোয়াটসঅ্যাপ ও হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেসের বিভিন্ন সুবিধা কাজে লাগিয়ে ঘরে বসেও আয়ের পথ তৈরি করা সম্ভব।

বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এই অ্যাপ ব্যবহার করেন। এর বিভিন্ন ফিচার পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি একাধিক উপায়ে অর্থ উপার্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

১. হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেসে প্রোফাইল ও ক্যাটালগ তৈরি

ছোট ব্যবসার জন্য তৈরি হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবসার পরিচিতি তুলে ধরা এবং সরাসরি পণ্য বিক্রি করা যায়। এ জন্য ব্যবসার নাম, ঠিকানা, ইমেইল ও ওয়েবসাইটের তথ্য দিয়ে একটি পেশাদার প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি পণ্যের মানসম্মত ছবি, দাম ও বিবরণ যুক্ত করে ডিজিটাল ক্যাটালগ সাজানো যেতে পারে। এতে গ্রাহকেরা প্রোফাইল থেকেই পণ্য দেখে অর্ডার দিতে পারবেন। গ্রাহকদের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দ্রুত দিতে স্বাগতম বার্তা ও অনুপস্থিতির বার্তাও চালু রাখা যায়।

২. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে কমিশন আয়

অন্য প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবার প্রচার করে কমিশন পাওয়ার একটি উপায় হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। এ জন্য অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট কিংবা বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের অ্যাফিলিয়েট কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়া যায়। এরপর হোয়াটসঅ্যাপের পরিচিতি তালিকা, গ্রুপ বা ব্রডকাস্ট তালিকায় সংশ্লিষ্ট পণ্যের অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করতে হবে। কেউ ওই লিংকের মাধ্যমে পণ্য কিনলে কমিশন পাওয়া যাবে। নির্দিষ্ট ধরনের পণ্যে আগ্রহী ব্যক্তিদের নিয়ে আলাদা গ্রুপ তৈরি করে সেখানে প্রাসঙ্গিক অফার ও ছাড়ের তথ্যও দেওয়া যেতে পারে।

৩. কনটেন্ট শেয়ার করে ওয়েবসাইটে পাঠক বাড়ানো

নিজস্ব ওয়েবসাইট, ব্লগ বা ইউটিউব চ্যানেল থাকলে সেগুলোর পাঠক ও দর্শক বাড়াতে হোয়াটসঅ্যাপ কাজে লাগানো যায়। নতুন ব্লগ পোস্ট বা ভিডিও প্রকাশের পর তার লিংক গ্রুপ কিংবা ব্রডকাস্ট তালিকায় শেয়ার করা যেতে পারে। এ ছাড়া কনটেন্টের নতুন খবর ও বিশেষ পরামর্শ দেওয়ার জন্য আলাদা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা সম্ভব। নিয়মিত তথ্য শেয়ার করার মাধ্যমে পাঠক ও দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং তাঁদের নিয়মিত অনুসারী হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়।

৪. ব্রডকাস্ট তালিকায় প্রচার করে বিক্রি বাড়ানো

হোয়াটসঅ্যাপের ব্রডকাস্ট তালিকার মাধ্যমে একসঙ্গে অনেকের কাছে আলাদা আলাদা ব্যক্তিগত বার্তা পাঠানো যায়। নতুন পণ্যের মজুত, সীমিত সময়ের অফার কিংবা বিশেষ ছাড়ের তথ্য গ্রাহকদের জানাতে এই সুবিধা ব্যবহার করা যেতে পারে। বার্তাগুলো প্রত্যেকের কাছে পৃথকভাবে পৌঁছায়। ফলে গ্রাহকেরা সরাসরি নিজেদের জন্য পাঠানো বার্তা হিসেবে সেটি দেখতে পারেন। নতুন অফার সম্পর্কে দ্রুত মতামত নেওয়া কিংবা অর্ডার সংগ্রহের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর হতে পারে।

৫. পরামর্শ ও প্রশিক্ষণসেবা বিক্রি

ফিটনেস, ডিজিটাল বিপণন, খাদ্যতালিকা তৈরি বা ভাষা শিক্ষার মতো বিষয়ে দক্ষতা থাকলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ব্যক্তিগত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। ভয়েস কল, ভিডিও কল এবং চ্যাট ব্যবহার করে গ্রাহকদের কোচিং সেশন পরিচালনা করা সম্ভব। পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে সদস্য যুক্ত করে একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু করা যেতে পারে। সেখানে নিয়মিত বিশেষ পরামর্শ ও অনুশীলনের কর্মপত্র দেওয়া হবে। গ্রুপের সদস্যরা এ সেবা পেতে মাসিক ফি দেবেন।

৬. হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সম্ভাব্য গ্রাহক সংগ্রহ

অন্য ছোট ব্যবসার জন্য সম্ভাব্য গ্রাহক সংগ্রহের সেবাও দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপন চালু করে আগ্রহীদের সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতে হবে। বিজ্ঞাপনে থাকা ‘হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান’ বোতামে ক্লিক করে আগ্রহীরা ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টে বার্তা পাঠাতে পারবেন। এভাবে সংগৃহীত সম্ভাবনাময় গ্রাহকদের তথ্য স্থানীয় কোচিং সেন্টার, আবাসন ব্যবসার প্রতিনিধি বা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা যেতে পারে। প্রতিটি সম্ভাব্য গ্রাহকের জন্য ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

৭. চ্যাটবট স্থাপন ও স্বয়ংক্রিয় সেবার ব্যবস্থা

অনেক ছোট ব্যবসার গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য চ্যাটবট প্রয়োজন হয়। এ ধরনের ব্যবসার জন্য চ্যাটবট তৈরি ও স্থাপনের সেবা দিয়ে আয় করা সম্ভব। ManyChat বা Dialogflow-এর মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাধারণ প্রশ্নের উত্তর, অর্ডারের অবস্থা জানানো এবং অর্থ পরিশোধের লিংক পাঠানোর মতো কাজে স্বয়ংক্রিয় উত্তর চালু করা যায়। প্রতিটি চ্যাটবট স্থাপনের জন্য ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া যেতে পারে। এর পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফিও রাখা সম্ভব।

৮. কনটেন্ট ও অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি

কনসার্ট, ওয়েবিনার কিংবা অনলাইন ক্লাসের টিকিট হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও বিক্রি করা যায়। এ জন্য ব্রডকাস্ট তালিকায় অনুষ্ঠানের তথ্য প্রচার করতে হবে। যাঁরা টিকিটের মূল্য পরিশোধ করবেন, তাঁদের একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা যেতে পারে। অনুষ্ঠান আয়োজনের দিন ওই গ্রুপে সরাসরি ক্লাস বা ওয়েবিনারে অংশ নেওয়ার জন্য ব্যক্তিগত জুম লিংক শেয়ার করা যাবে। এ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট অংশগ্রহণকারীদের কাছে অনুষ্ঠানসংক্রান্ত তথ্য ও প্রবেশের লিংক পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

৯. পরিত্যক্ত কার্ট থেকে বিক্রি পুনরুদ্ধার

অনেক সময় অনলাইন ক্রেতারা পণ্য কার্টে যোগ করলেও শেষ পর্যন্ত কেনাকাটা সম্পন্ন করেন না। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য এ ধরনের বিক্রি পুনরুদ্ধারে হোয়াটসঅ্যাপভিত্তিক সেবা দেওয়া যায়। ক্লায়েন্টের ওয়েবসাইটের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার যুক্ত করে কার্টে পণ্য রেখে চলে যাওয়া গ্রাহকদের কাছে স্বয়ংক্রিয় বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, বার্তায় কার্টে থাকা পণ্যের জন্য ১০ শতাংশ ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া যেতে পারে। এই সেবার বিনিময়ে ক্লায়েন্টের কাছ থেকে মাসিক ফি অথবা পুনরুদ্ধার করা বিক্রির নির্দিষ্ট শতাংশ কমিশন নেওয়া সম্ভব।

১০. আন্তর্জাতিক গ্রাহকসেবা ও ভার্চ্যুয়াল সহকারী হিসেবে কাজ

ভারত বা বাংলাদেশের গ্রাহকদের জন্য স্থানীয় সহায়তা দিতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হয়ে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তাভিত্তিক গ্রাহকসেবা দেওয়া যেতে পারে। হোয়াটসঅ্যাপের প্রান্ত থেকে প্রান্তে এনক্রিপশন (End-to-End Encryption) এবং ভয়েস নোটের সুবিধা ব্যবহার করে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধানে সহায়তা করা যায়। এভাবে নিজের ফোন ব্যবহার করেই ছোট পরিসরে কল সেন্টারের মতো সেবা পরিচালনা করা সম্ভব। কাজের সময় অনুযায়ী ঘণ্টাপ্রতি পারিশ্রমিক নেওয়া যেতে পারে, যা সাধারণ স্থানীয় চাকরির তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত