×

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

খালি পেটে ও খাবারের পর রক্তে শর্করা কত থাকা স্বাভাবিক?

২০২৬ নভেম্বর ০৬ ১৭:২২:১৮

খালি পেটে ও খাবারের পর রক্তে শর্করা কত থাকা স্বাভাবিক?

ডুয়া ডেস্ক: ডায়াবেটিস ও প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এ কারণে অনেকেই বাড়িতে গ্লুকোমিটারের সাহায্যে নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করেন। তবে দিনের সব সময় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা এক থাকে না। খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা, ঘুমের ধরন এবং মানসিক চাপের ওপরও এর মাত্রা নির্ভর করে।

এ কারণে চিকিৎসকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী দিনের বিভিন্ন সময়ে রক্তে শর্করা পরীক্ষার পরামর্শ দেন। খালি পেটে, খাবারের পর কিংবা গত তিন মাসের গড় শর্করার মাত্রা কোন পরীক্ষায় কী জানা যায়, তা জানিয়েছেন মধুমেহ রোগের চিকিৎসক আশিস মিত্র।

খালি পেটে ও খাবারের পর সুগার পরীক্ষা

ফাস্টিং ব্লাড সুগার বা এফপিজি পরীক্ষা করতে অন্তত আট ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হয়। শরীর খাবার না পেলে কীভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, এ পরীক্ষার মাধ্যমে তার ধারণা পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, পোস্ট-প্র্যান্ডিয়াল বা খাবারের পর রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা হয় খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর। এ পরীক্ষায় খাবার থেকে পাওয়া গ্লুকোজ শরীর কতটা দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে, তা বোঝা যায়।

চিকিৎসক আশিস মিত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রক্তে শর্করার মাত্রার মানদণ্ড হলো-

- খালি পেটে: রক্তে শর্করার মাত্রা ১১০-এর নিচে থাকলে তা স্বাভাবিক। ১১০ থেকে ১২৫-এর মধ্যে থাকলে প্রি-ডায়াবেটিস এবং ১২৬ বা তার বেশি হলে ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত দেয়।

- খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর: রক্তে শর্করার মাত্রা ১৪০-এর নিচে থাকলে স্বাভাবিক। ১৪০ থেকে ১৯৯-এর মধ্যে হলে প্রি-ডায়াবেটিস এবং ২০০ বা তার বেশি হলে ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত দেয়।

- এইচবিএ১সি: গত তিন মাসের গড় রক্তে শর্করার মাত্রা জানতে এ পরীক্ষা করা হয়। ফল ৫ দশমিক ৭ শতাংশের নিচে থাকলে স্বাভাবিক, ৫ দশমিক ৭ থেকে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হলে প্রি-ডায়াবেটিস এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বা তার বেশি হলে ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত দেয়।

কোন মাত্রায় সুগার রাখার চেষ্টা করা উচিত

চিকিৎসক আশিস মিত্র বলেন, ‘‘খালি পেটে ব্লাড সুগার ৯০ থেকে ১১০-এর মধ্যে আর ভরা পেটে সাধারণত ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে রাখার চেষ্টা করা উচিত। বাড়িতে যাঁরা সুগার মাপেন, তাঁদের জন্য পরামর্শ, কেবল দিনে এক বার করে পরীক্ষা করলে হবে না। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে করতে হবে। কারণ, কোনও কোনও রোগীর ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ফাস্টিং ব্লাড সুগার বা খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা এবং ভরা পেটে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে, কিন্তু এইচবিএ১সি ৬.৫ শতাংশের বেশি। এটা কেন হয়? যদি কেবল মধ্যাহ্নভোজের পর সুগার চেক করেন, তা হলে সম্পূর্ণ ধারণা পাওয়া যায় না। হয়তো বা প্রাতরাশ বা নৈশভোজের পর সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়, কিন্তু পরীক্ষা করেন না বলে জানতে পারেন না। এমনও হতে পারে, সুগার কমে গিয়ে খিদে পাচ্ছে, তখন পেট ভরে খাবার খেয়ে নিচ্ছেন, আর সেই সময়ে সুগারটা অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে।’’

তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিবার খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর অথবা দিনের বিভিন্ন বেলার খাবারের পর পালাক্রমে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত। শুধু এক বেলার পরীক্ষায় পুরো দিনের শর্করার মাত্রা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায় না।

সুগার কমে গেলেও বিপদ

রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কমে যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। চিকিৎসকের মতে, রক্তে শর্করার মাত্রা ৭০-এ নেমে গেলে তাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই শর্করার মাত্রা সব সময় ৮০-এর ওপরে রাখার চেষ্টা করা দরকার।

তবে রক্তে শর্করার লক্ষ্যমাত্রা সবার জন্য এক নয়। পরীক্ষার ফলাফল, ওষুধ এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত