×

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

কারাগারের নিরাপত্তা জোরদারে সাত দফা নির্দেশনা

২০২৬ নভেম্বর ০৬ ১৫:৪৩:৫২

কারাগারের নিরাপত্তা জোরদারে সাত দফা নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাত দফা নির্দেশনার আলোকে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে লকআপের পরবর্তী কার্যক্রমে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি, দায়িত্বস্থলে অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি।

কারাগারে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, শৃঙ্খলাহীনতা ও বিদ্যমান নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে সংশোধনাগারগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতি এড়াতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, নির্দেশনাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অধিদপ্তর ইতিমধ্যে পর্যবেক্ষণব্যবস্থা জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে সারা দেশের প্রতিটি কারাগারে প্রতিদিন তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সব কারাগারকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত মতামত জমা দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্দেশনাগুলো কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধিদপ্তরের অপারেশনাল শাখাকে। এ ছাড়া ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের সারা দেশের কারাগারগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

সেলিম বলেন, অধিদপ্তর নির্দেশনাগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এসব পদক্ষেপের সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত কারাকর্মীদের এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে বদলির নির্দেশও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ বলে জানান তিনি।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া লকআপের পরবর্তী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও নিরুৎসাহিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হলে জেলারের লিখিত অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে তা বাধ্যতামূলকভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

নির্দেশনায় প্রতিটি কারাগারে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেখানে সম্ভব, সেখানে পৃথক পর্যবেক্ষণকক্ষ স্থাপন করতে হবে। সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখতে প্রশিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ কারারক্ষীদের দায়িত্ব দিতে হবে। আর পৃথক পর্যবেক্ষণকক্ষের ব্যবস্থা না থাকলে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করতে উপযুক্ত স্থানে মনিটর স্থাপন করতে হবে।

কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, নিরাপত্তার ত্রুটি রোধে দায়িত্বস্থল থেকে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে শূন্য-সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে অধিদপ্তর।

তিনি আরও বলেন, কোনো প্রহরী বা পাহারার দায়িত্বে থাকা কর্মীকে অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করতে দেখা গেলে তা অবিলম্বে লিখিতভাবে জানাতে হবে। এরপর বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

অবহেলা বা অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনা গোপন করা, তা জানাতে বিলম্ব করা বা এড়িয়ে যাওয়া কিংবা দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

নির্দেশিকায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ বারবার ওঠা পাহারাদার কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও অনুপ্রেরণামূলক ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক স্বার্থ বিবেচনায় তাঁদের বদলি করা হতে পারে। এ ছাড়া বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।

মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, বৃষ্টি ও বজ্রপাতসহ প্রতিকূল আবহাওয়ায় দায়িত্ব পালনের জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রহরীদের অবশ্যই নির্ধারিত স্থানে থাকতে হবে এবং দায়িত্ব পালনের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।

কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি আকস্মিক পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর। এসব পরিদর্শনে নিরাপত্তাচৌকি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণব্যবস্থা, প্রহরীদের দায়িত্ব পালন এবং সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে হবে। কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে তা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

আগস্টে জারি করা সাত দফা নির্দেশনায় সতর্ক করে বলা হয়েছিল, কারাগারের অভ্যন্তরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরো কারা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং বিরূপ জনমত তৈরি করতে পারে।

নিরাপত্তার ত্রুটি প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কারা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে এসব ব্যবস্থা অবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ