×

ঢাকা, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

হার্টের ভাল্‌ভের সমস্যা: লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা

২০২৬ নভেম্বর ০৪ ০৯:২৫:৪৭

হার্টের ভাল্‌ভের সমস্যা: লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা

ডুয়া ডেস্ক: হৃদযন্ত্রের চারটি ভাল্‌ভ রক্তকে সঠিক পথে প্রবাহিত হতে সাহায্য করে এবং রক্তের উল্টো প্রবাহ ঠেকায়। এসব ভাল্‌ভের কোনোটি সরু হয়ে গেলে বা ঠিকমতো বন্ধ না হলে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে হার্টকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাজ করতে হয় এবং সময়মতো চিকিৎসা না নিলে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

কোনো ব্যক্তির হার্টের ভাল্‌ভে সমস্যা ধরা পড়লে সাধারণত সেটি ঠিকমতো খুলছে না, অথবা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না এমনটি বোঝায়।

হার্টের ভাল্‌ভ যেভাবে কাজ করে

মানুষের হার্টে চারটি প্রকোষ্ঠ রয়েছে। ওপরের দুটি অ্যাট্রিয়াম এবং নিচের দুটি ভেন্ট্রিকল। এসব প্রকোষ্ঠের মধ্যে ও হার্ট থেকে রক্ত বের হওয়ার পথে চারটি ভাল্‌ভ থাকে—ট্রাইকাসপিড, পালমোনারি, মাইট্রাল ও অ্যাওর্টিক।

শরীর থেকে অক্সিজেন কম থাকা রক্ত ডান অ্যাট্রিয়ামে আসে। ট্রাইকাসপিড ভাল্‌ভ পেরিয়ে ডান ভেন্ট্রিকলে যাওয়ার পর পালমোনারি ভাল্‌ভের মাধ্যমে ফুসফুসে পৌঁছায়। সেখানে অক্সিজেন গ্রহণ করে রক্ত বাম অ্যাট্রিয়ামে ফিরে আসে। এরপর মাইট্রাল ভাল্‌ভ দিয়ে বাম ভেন্ট্রিকলে প্রবেশ করে এবং অ্যাওর্টিক ভাল্‌ভের মাধ্যমে শরীরের প্রধান ধমনীতে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিটি হৃদস্পন্দনের সঙ্গে ভাল্‌ভগুলো খুলে ও বন্ধ হয়। এতে রক্ত একদিকে প্রবাহিত হয় এবং পেছনে ফিরে যেতে পারে না।

হার্টের ভাল্‌ভের সমস্যা প্রধানত দুই ধরনের

১. রিগারজিটেশন: কোনো ভাল্‌ভ পুরোপুরি বন্ধ না হলে রক্তের কিছু অংশ উল্টো দিকে ফিরে যায়। ভাল্‌ভের পাতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা হার্টের প্রকোষ্ঠের আকার ও গঠনে পরিবর্তনের কারণে এটি হতে পারে। সরাসরি ভাল্‌ভের গঠনের সমস্যাকে প্রাইমারি এবং অন্য কোনো হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার কারণে হলে সেকেন্ডারি ভাল্‌ভ ডিজিজ বলা হয়।

২. স্টেনোসিস: ভাল্‌ভের মুখ সরু হয়ে গেলে রক্ত স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে না। ভাল্‌ভের পাতা মোটা বা শক্ত হয়ে যাওয়া, একে অপরের সঙ্গে জোড়া লেগে যাওয়া কিংবা ক্যালসিয়াম জমার কারণে এমনটি হতে পারে। এতে রক্ত পাঠাতে হার্টকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। দীর্ঘদিন চললে হার্টের পেশি মোটা হয়ে যেতে পারে এবং অঙ্গগুলোতে রক্ত সরবরাহ কমে যেতে পারে।

লক্ষণ কী কী?

কোন ভাল্‌ভে সমস্যা হয়েছে এবং এর তীব্রতা কতটা, তার ওপর লক্ষণ নির্ভর করে। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে-

হাঁটাচলা বা পরিশ্রমের সময় শ্বাসকষ্ট।

মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।

অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা বুক ধড়ফড় করা।

বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি।

পা, গোড়ালি ও পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া।

এসব লক্ষণ অন্য হৃদরোগেও দেখা যেতে পারে। তাই শুধু লক্ষণ দেখে ভাল্‌ভের রোগ নিশ্চিত করা যায় না।

চিকিৎসা কী?

চিকিৎসা নির্ভর করে আক্রান্ত ভাল্‌ভ, সমস্যার ধরন ও রোগের তীব্রতার ওপর। মৃদু সমস্যা এবং লক্ষণ না থাকলে চিকিৎসক নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

গুরুতর ক্ষেত্রে ভাল্‌ভ মেরামত বা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। মেরামতের মাধ্যমে ভাল্‌ভের গঠন ঠিক রেখে কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। আর মেরামত সম্ভব না হলে ক্ষতিগ্রস্ত ভাল্‌ভের পরিবর্তে কৃত্রিম ভাল্‌ভ বসানো হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কম কাটাছেঁড়ার পদ্ধতিতেও চিকিৎসা করা যায়।

পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের অন্যান্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

হার্টের ভাল্‌ভ সুস্থ রাখতে করণীয়

হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য এড়িয়ে চলা, নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাবার গ্রহণ এবং ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করানো উচিত।

শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত