ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
প্রাক্তনের কাছে ফিরতে চান? সিদ্ধান্তের আগে নিজেকে করুন ৬ প্রশ্ন
ডুয়া ডেস্ক: প্রাক্তনের কাছে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা অস্বাভাবিক নয়। পরিচিত একজন মানুষের কাছে ফিরে যাওয়ার মধ্যে একধরনের স্বস্তি কাজ করে। তাঁর সঙ্গে জীবনের অনেকটা পথ কাটানোর ফলে নতুন করে নিজের অভ্যাস, ভয়, দুর্বলতা কিংবা আনন্দের জায়গাগুলো বোঝানোর প্রয়োজন হয় না। কিন্তু পরিচিত বলেই কি সেই সম্পর্ক আবার নিরাপদ হবে?
সব সময় তা নয়। কখনো ভালোবাসার চেয়ে একাকিত্বের কারণেই মানুষ প্রাক্তনের কাছে ফিরতে চায়। কখনো নস্টালজিয়া বা অপরাধবোধ কাজ করে। আবার মনে হতে পারে, ‘হয়তো এবার সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।’ কিন্তু পুরোনো সম্পর্ক নতুন করে শুরু করার আগে সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন হলো, সম্পর্কটি কেন ভেঙেছিল? এর পাশাপাশি নিজেকে আরও কিছু প্রশ্ন করা প্রয়োজন।
সম্পর্কটি কেন ভেঙেছিল?
প্রাক্তনের কাছে ফেরার আগে প্রথমেই ফিরে দেখা দরকার বিচ্ছেদের কারণ। সম্পর্কটি যদি ভুল বোঝাবুঝি, দূরত্ব, অপরিণত আচরণ কিংবা জীবনের ভুল সময়ে একে অপরকে পাওয়ার কারণে শেষ হয়ে থাকে, তাহলে পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কটি নতুন করে ভাবার সুযোগ থাকতে পারে।
কিন্তু বিচ্ছেদের কারণ যদি হয় অসম্মান, প্রতারণা, নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা, বারবার মিথ্যা বলা, মানসিক নির্যাতন কিংবা ধারাবাহিকভাবে বিশ্বাস ভেঙে দেওয়া, তাহলে শুধু ভালোবাসার স্মৃতি দিয়ে সেই সম্পর্ককে আবার নিরাপদ করে তোলা যায় না।
এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সম্পর্ক ভাঙার পেছনে যে কারণগুলো ছিল, সেগুলো আদৌ বদলেছে কি না।
দুজনেরই কি পরিবর্তন এসেছে?
সময় মানুষকে বদলে দিতে পারে। কেউ নিজের ভুল বুঝতে শেখেন, কেউ যোগাযোগের ধরন বদলান, আবার কেউ নিজের সীমারেখা সম্পর্কে সচেতন হন। তবে এমনও হয়, সময় পেরিয়ে গেলেও কেউ আগের অবস্থানেই থেকে যান।
তাই ‘সে বদলে গেছে’ এমন ধারণার চেয়ে পরিবর্তনের বাস্তব প্রমাণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কথার পাশাপাশি আচরণেও সেই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে কি না, তা খেয়াল করতে হবে।
আপনিও কি বদলেছেন?
পুরোনো সম্পর্ক নতুন করে শুরু করতে চাইলে শুধু অন্য ব্যক্তির পরিবর্তন নিয়ে ভাবলেই হবে না। নিজের দিকেও তাকানো জরুরি। কারণ, দুজন মানুষ একসঙ্গে ফিরলে তাঁদের সঙ্গে পুরোনো সমস্যাগুলোও ফিরে আসতে পারে।
আগের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের কোনো আচরণ সমস্যা তৈরি করেছিল কি না, মতবিরোধ সামলানোর ধরনে পরিবর্তন এসেছে কি না, কিংবা এবার সম্পর্কটিকে সুস্থভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নিজে প্রস্তুত কি না এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নেওয়া প্রয়োজন।
মানুষটিকে মিস করছেন, নাকি পুরোনো জীবনটিকে?
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্থক্য। কখনো আমরা মানুষটিকে নয়, তাঁর সঙ্গে কাটানো সময়কে মিস করি। রাত জেগে কথা বলা, হঠাৎ ফোন পাওয়া, একসঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, জন্মদিনের শুভেচ্ছা কিংবা অসুস্থতার সময় পাশে কাউকে পাওয়ার স্মৃতি মনে পড়তে পারে। তখন মনে হয়, ‘আমি তাঁকে ফিরে পেতে চাই।’
কিন্তু একটু থেমে নিজেকে প্রশ্ন করুন আমি কি সত্যিই মানুষটিকে চাই, নাকি তাঁর সঙ্গে থাকার সময় নিজের মধ্যে যে অনুভূতি তৈরি হতো, সেটিই ফিরে পেতে চাই? এই প্রশ্নের উত্তর অনেক কিছু পরিষ্কার করে দিতে পারে।
একাকিত্বের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কি?
রাত গভীর হলে অনেক সময় পুরোনো মানুষের কথা বেশি মনে পড়ে। বিশেষ করে জীবনে নতুন কেউ না থাকলে, বন্ধুরা ব্যস্ত থাকলে কিংবা নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে প্রাক্তনকে আবার খুব প্রয়োজনীয় মনে হতে পারে।
কিন্তু একাকিত্ব আর ভালোবাসা এক বিষয় নয়। একাকিত্বের মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু তাতে পুরোনো সমস্যাগুলো আবার ফিরে আসার আশঙ্কাও থাকে।
তাই প্রাক্তনের কাছে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিছুটা সময় নিজের সঙ্গে থাকা জরুরি। কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পরও একই কারণে একই মানুষটিকে ফিরে পেতে চাইছেন কি না, তা ভেবে দেখা যেতে পারে।
দুজনেরই কি ফিরে আসার ইচ্ছা আছে?
একজনের চাওয়ায় কোনো সম্পর্ক পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়। আপনি হয়তো সম্পর্কটি আবার শুরু করতে চাইছেন, কিন্তু অন্য ব্যক্তি হয়তো শুধু অতীতকে সম্মান করেন; সম্পর্কে ফিরতে চান না। তাঁর সিদ্ধান্তকেও সম্মান করতে হবে।
আবার দুজনেই যদি সম্পর্কে ফিরতে চান, তাহলেও শুধু ‘আমরা একে অপরকে ভালোবাসি’ বলাই যথেষ্ট নয়। এবার কীভাবে সম্পর্কটি আগের চেয়ে ভালো করা যায়, তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন।
কোন ভুলগুলো আর করা যাবে না? কোন সীমারেখা মেনে চলতে হবে? মতবিরোধ কীভাবে সামলানো হবে? প্রত্যেকের কতটা ব্যক্তিগত পরিসর প্রয়োজন? ভবিষ্যৎ নিয়ে দুজনের প্রত্যাশা কী? ভালোবাসার পাশাপাশি এসব প্রশ্নের উত্তরও খুঁজে নিতে হবে।
পুরোনো সম্পর্ককে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে
প্রাক্তনের কাছে ফিরে যাওয়ার সময় অনেকেই মনে করেন, ‘আমরা তো আগেও একসঙ্গে ছিলাম, তাই সবকিছু আগের মতোই থাকবে।’ কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। একবার ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক আবার শুরু করতে হলে সেটিকে পুরোনো সম্পর্কের অনুলিপি হিসেবে না দেখে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হয়।
আগের অভিমান, পুরোনো ঝগড়া কিংবা অতীতের হিসাব বারবার টেনে এনে নতুনভাবে শুরু করা যায় না। আবার অতীতকে পুরোপুরি অস্বীকার করেও সামনে এগোনো সম্ভব নয়।
বরং প্রয়োজন, কী ঘটেছিল তা বোঝা, নিজের ভুল স্বীকার করা এবং এবার কীভাবে ভিন্নভাবে এগোনো যায়, তা ঠিক করা। প্রাক্তনের কাছে ফিরে যাওয়ার আগে তাই আবেগের পাশাপাশি বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- আফগান যুবাদের কাছে হারল বাংলাদেশের যুবারা
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত? জেনে নিন
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহমুদ আলমের মৃত্যু, উপাচার্যের শোক
- সৌদিতে সুইটির মৃ/ত্যুদণ্ড, এখনো জানে না পরিবার
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারিতে বাংলাদেশিরা কি অংশ নিতে পারবে? জানুন বিস্তারিত
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কত? জেনে নিন
- জেনে নিন আজকের বাজারে ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম
- বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- নভেম্বরে টানা তিন দিনের ছুটির সুযোগ, যারা পাবেন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২১ অক্টোবর)
- ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা: ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
- নতুন পে-স্কেলে শিক্ষকদের বেতন কবে, জানাল অর্থ মন্ত্রণালয়
- আজ ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত? জেনে নিন
- বুধবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ