×

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

শরীরের দুর্গন্ধের কারণ ও প্রতিকার, কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

২০২৬ অক্টোবর ১৬ ১৪:৫৬:০৮

শরীরের দুর্গন্ধের কারণ ও প্রতিকার, কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

ডুয়া ডেস্ক: গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরের দুর্গন্ধের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তবে ঘাম নিজে সাধারণত দুর্গন্ধযুক্ত নয়। ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ঘামের কিছু উপাদান ভেঙে দুর্গন্ধযুক্ত পদার্থ তৈরি করলে শরীরে গন্ধ সৃষ্টি হয়। শরীর থেকে অতিরিক্ত দুর্গন্ধ নির্গত হওয়ার এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্রোমহাইড্রোসিস বলা হয়।

কাদের শরীরে দুর্গন্ধ বেশি হতে পারে

অতিরিক্ত ঘাম: দীর্ঘ সময় ত্বক আর্দ্র থাকলে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। ফলে শরীরের দুর্গন্ধ বাড়তে পারে।

বয়ঃসন্ধি: এ সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ঘামের পরিমাণ ও শরীরের গন্ধ বেড়ে যেতে পারে।

হরমোনের পরিবর্তন: গর্ভাবস্থা, মেনোপজসহ বিভিন্ন হরমোনজনিত পরিবর্তনের প্রভাবে শরীরের গন্ধ বদলে যেতে পারে।

কিছু খাবার ও পানীয়: পেঁয়াজ, রসুন, অতিরিক্ত মসলাদার খাবার ও অ্যালকোহল কিছু মানুষের শরীরের গন্ধ বাড়াতে পারে।

মানসিক চাপ: উদ্বেগ ও মানসিক চাপের সময় ঘামের ধরন ও পরিমাণে পরিবর্তন আসতে পারে, যা শরীরের গন্ধেও প্রভাব ফেলে।

আঁটসাঁট পোশাক: এ ধরনের পোশাকে বাতাস চলাচল কম হওয়ায় ঘাম শুকাতে দেরি হয়। এতে দুর্গন্ধ বাড়তে পারে।

রোগ বা ত্বকের সমস্যা: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, লিভার বা কিডনির কিছু রোগ এবং বিরল কিছু বিপাকীয় রোগের কারণে শরীরের গন্ধ পরিবর্তিত হতে পারে। এ ছাড়া ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকজনিত ত্বকের সমস্যার কারণেও দুর্গন্ধ হতে পারে।

দুর্গন্ধ কমানোর উপায়

দুর্গন্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা শরীরের গন্ধ অস্বাভাবিক মনে হলে শুধু সুগন্ধি ব্যবহার না করে এর মূল কারণ শনাক্ত করা জরুরি। দুর্গন্ধ কমাতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: বগল, কুঁচকি ও পা প্রতিদিন ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার এবং শুকনা রাখুন।

ঘাম নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ঘাম হলে অ্যালুমিনিয়ামযুক্ত ঘামনিরোধক ব্যবহার করতে পারেন। ডিওডোরেন্ট মূলত দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে।

ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ: চিকিৎসকের পরামর্শে আড়াই থেকে ৫ শতাংশ বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইডযুক্ত পরিষ্কারক ব্যবহার করা যেতে পারে।

পরিষ্কার পোশাক: ঢিলেঢালা ও বাতাস চলাচল করতে পারে এমন পোশাক পরুন। ঘামে ভিজে গেলে দ্রুত পোশাক পরিবর্তন করুন।

পায়ের যত্ন: প্রতিদিন পরিষ্কার মোজা ব্যবহার করুন এবং জুতা শুকনা রাখুন।

বগলের যত্ন: বগলের লোম ছেঁটে বা পরিষ্কার রেখে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।

খাদ্যাভ্যাস: পেঁয়াজ, রসুন বা অতিরিক্ত মসলাদার খাবারের মতো নির্দিষ্ট কোনো খাবার খেলে দুর্গন্ধ বাড়লে সেই খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও ঘাম নিয়ন্ত্রণের পরও দুর্গন্ধ না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এ ছাড়া হঠাৎ শরীরের গন্ধ বদলে গেলে, অতিরিক্ত ঘাম হলে কিংবা ত্বকে লালচে ভাব, চুলকানি বা ক্ষত দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

শরীরের দুর্গন্ধ সব সময় অপরিচ্ছন্নতার কারণে হয় না। অতিরিক্ত ঘাম, ত্বকের সংক্রমণ, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও এর কারণ হতে পারে। তাই দুর্গন্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এর কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)

ডুয়া ডেস্ক: বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দামে পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে সর্বশেষ ৩ হাজার ২৬৬... বিস্তারিত