ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
হৃদ্রোগীদের জন্য টিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? জানুন বিস্তারিত
ডুয়া ডেস্ক: হৃদ্রোগীদের ক্ষেত্রে ফ্লু বা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হৃদ্যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। এতে হার্ট অ্যাটাকসহ বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে নিয়মিত ওষুধ সেবন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি ফ্লু এবং নিউমোনিয়ার মতো সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়াকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সাধারণ জ্বর-কাশি হিসেবে ফ্লুকে এড়িয়ে যাওয়া হলেও হৃদ্রোগীদের জন্য এটি কখনো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ হলে হৃদ্যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা হার্ট অ্যাটাকসহ নানা ধরনের জটিলতার আশঙ্কা বাড়াতে পারে।
হৃদ্রোগের চিকিৎসায় তাই শুধু ওষুধ ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা যথেষ্ট নয়, সংক্রমণ প্রতিরোধের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। প্রয়োজনীয় টিকা ফ্লু ও নিউমোনিয়ার মতো সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে এবং এসব সংক্রমণজনিত জটিলতার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজি (ইএসসি) হৃদ্রোগ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে টিকাদানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ও আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজিও ক্রনিক করোনারি ডিজিজে প্রতিবছর ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। উপযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে নিউমোকক্কাল টিকার কথাও বলা হয়েছে।
হার্ট ফেইলিউর, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, আগে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে এমন ব্যক্তি, বয়স্ক রোগী এবং হৃদ্রোগের পাশাপাশি ডায়াবেটিস বা অন্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ফ্লুতে জটিলতার ঝুঁকি বেশি। এ কারণে তাঁদের মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা নেওয়া উচিত।
ফ্লু ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে অনেক সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এসব সংক্রমণ ও এর জটিলতার ঝুঁকি কমাতে টিকা সহায়ক। একই সঙ্গে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সুরক্ষায়ও টিকা ভূমিকা রাখতে পারে।
টিকা নেওয়ার পর শরীরে সংশ্লিষ্ট ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এর মাধ্যমে সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠতে সহায়তা করে টিকা। এসব টিকা এখন দেশেই তৈরি হয় এবং পাওয়া যায় সব জায়গায়।
তবে নিউমোকক্কাল টিকা প্রতিবছর নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বয়স, অন্যান্য রোগ এবং আগে নিউমোকক্কাল টিকা নেওয়া হয়েছে কি না এসব বিষয় বিবেচনা করে কোন টিকা কখন প্রয়োজন, তা চিকিৎসক নির্ধারণ করেন। প্রয়োজন হলে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোকক্কাল টিকা একই সময়ে দেওয়া যেতে পারে।
হার্ট অ্যাটাক, স্টেন্টিং বা বাইপাস হয়েছে বলে টিকা নেওয়া যাবে না এমন ধারণা সঠিক নয়। রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামান্য ও সাময়িক।
হৃদ্রোগের চিকিৎসায় ওষুধ সেবন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধকেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ হৃদ্রোগীর সামগ্রিক প্রতিরোধমূলক যত্নের একটি অংশ।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আকিজ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার, দেখুন তালিকা
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ সেপ্টেম্বর)
- ৩৯ পদে ১০০ জনকে নিয়োগ দেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ সেপ্টেম্বর)
- সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুখবর
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ সালমান মুক্তাদিরের
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
- ৪৩ পদে নিয়োগ দেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, আবেদন অনলাইনে
- তিন পদে ৩৫ জনকে নিয়োগ দেবে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়
- এইচএসসি উত্তীর্ণদের বৃত্তি দেবে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, জানুন বিস্তারিত