ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
হৃদ্রোগীদের জন্য টিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? জানুন বিস্তারিত
ডুয়া ডেস্ক: হৃদ্রোগীদের ক্ষেত্রে ফ্লু বা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হৃদ্যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। এতে হার্ট অ্যাটাকসহ বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে নিয়মিত ওষুধ সেবন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি ফ্লু এবং নিউমোনিয়ার মতো সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়াকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সাধারণ জ্বর-কাশি হিসেবে ফ্লুকে এড়িয়ে যাওয়া হলেও হৃদ্রোগীদের জন্য এটি কখনো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ হলে হৃদ্যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা হার্ট অ্যাটাকসহ নানা ধরনের জটিলতার আশঙ্কা বাড়াতে পারে।
হৃদ্রোগের চিকিৎসায় তাই শুধু ওষুধ ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা যথেষ্ট নয়, সংক্রমণ প্রতিরোধের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। প্রয়োজনীয় টিকা ফ্লু ও নিউমোনিয়ার মতো সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে এবং এসব সংক্রমণজনিত জটিলতার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজি (ইএসসি) হৃদ্রোগ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে টিকাদানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ও আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজিও ক্রনিক করোনারি ডিজিজে প্রতিবছর ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। উপযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে নিউমোকক্কাল টিকার কথাও বলা হয়েছে।
হার্ট ফেইলিউর, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, আগে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে এমন ব্যক্তি, বয়স্ক রোগী এবং হৃদ্রোগের পাশাপাশি ডায়াবেটিস বা অন্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ফ্লুতে জটিলতার ঝুঁকি বেশি। এ কারণে তাঁদের মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা নেওয়া উচিত।
ফ্লু ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে অনেক সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এসব সংক্রমণ ও এর জটিলতার ঝুঁকি কমাতে টিকা সহায়ক। একই সঙ্গে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সুরক্ষায়ও টিকা ভূমিকা রাখতে পারে।
টিকা নেওয়ার পর শরীরে সংশ্লিষ্ট ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এর মাধ্যমে সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠতে সহায়তা করে টিকা। এসব টিকা এখন দেশেই তৈরি হয় এবং পাওয়া যায় সব জায়গায়।
তবে নিউমোকক্কাল টিকা প্রতিবছর নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বয়স, অন্যান্য রোগ এবং আগে নিউমোকক্কাল টিকা নেওয়া হয়েছে কি না এসব বিষয় বিবেচনা করে কোন টিকা কখন প্রয়োজন, তা চিকিৎসক নির্ধারণ করেন। প্রয়োজন হলে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোকক্কাল টিকা একই সময়ে দেওয়া যেতে পারে।
হার্ট অ্যাটাক, স্টেন্টিং বা বাইপাস হয়েছে বলে টিকা নেওয়া যাবে না এমন ধারণা সঠিক নয়। রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামান্য ও সাময়িক।
হৃদ্রোগের চিকিৎসায় ওষুধ সেবন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধকেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ হৃদ্রোগীর সামগ্রিক প্রতিরোধমূলক যত্নের একটি অংশ।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ পদে নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ৬ অক্টোবর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ অক্টোবর)
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- অক্টোবরে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা মন্ত্রণালয়ের
- পে স্কেল বাস্তবায়নে মাউশির নতুন নির্দেশনা
- বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতার চেক ছাড়
- ব্রাজিল বনাম ভারত: সরাসরি দেখুন এখানে
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটির সুযোগ
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২ অক্টোবর)
- ৯ গোল খেয়ে দুই ফুটবলারের ‘নারীসঙ্গ’ নিয়ে যা জানা গেল
- শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
- যে কারণে স্থগিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ম্যাচ
- আজকের নামাজের সময়সূচি (১ অক্টোবর)
- এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল