×

ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতার পরামর্শ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৯:১০:৫৪

ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতার পরামর্শ

ডুয়া ডেস্ক: মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা কিংবা জ্বর হলে দ্রুত স্বস্তির জন্য অনেকে ব্যথানাশক সেবন করেন। আবার সামান্য সংক্রমণ বা জ্বরেও চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করার প্রবণতা রয়েছে কারও কারও মধ্যে। তবে এমন অভ্যাসে তাৎক্ষণিক উপকার মিললেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত বা দীর্ঘদিন ব্যথানাশক সেবনে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে সতর্ক করে ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, ওষুধ বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও)। সংস্থাটির ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত সার্কুলারেও অনিয়ন্ত্রিত এনএসএআইডি ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন ব্যথানাশক নিয়ে সতর্কতা?

ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস বা এনএসএআইডি ব্যবহার করা হয়। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি, ঘন ঘন অথবা দীর্ঘ সময় এসব ওষুধ সেবন করলে কিডনির ওপর চাপ পড়তে পারে।

যাদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা রয়েছে, পানিশূন্যতায় ভুগছেন, হৃদরোগ আছে কিংবা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি—তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ওষুধ ব্যবহারে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

তাই ব্যথা হলেই নিজের সিদ্ধান্তে বারবার ব্যথানাশক না খেয়ে এর কারণ জানা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াকে নিরাপদ পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অ্যান্টিবায়োটিক সব সংক্রমণের ওষুধ নয়

জ্বর বা সর্দি হলেই অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা ঠিক নয়। কারণ সাধারণ ভাইরাস সংক্রমণের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ সেবনে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণের পাশাপাশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে প্রয়োজনের সময় নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক জীবাণুর বিরুদ্ধে আগের মতো কার্যকর নাও হতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে যেসব বিষয়ে সতর্কতা

চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দিলে নির্ধারিত নিয়ম ও মাত্রা মেনে তা সেবন করা জরুরি। নিজের ইচ্ছায় ডোজ পরিবর্তন করা, অন্য কারও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা কিংবা আগের অসুস্থতার সময় অব্যবহৃত থাকা ওষুধ পরবর্তী অসুস্থতায় খাওয়া উচিত নয়।

আবার কয়েকদিন ওষুধ সেবনের পর উপসর্গ কমে গেলে নিজের সিদ্ধান্তে চিকিৎসা বন্ধ করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় ওষুধ চালিয়ে যাওয়াও উচিত নয়। কতদিন এবং কী মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

চিকিৎসকের পরামর্শ কেন জরুরি?

একই ধরনের উপসর্গের পেছনে ভিন্ন ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই ওষুধ নির্ধারণের সময় রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, অন্য কোনো রোগ আছে কি না, তিনি কী কী ওষুধ সেবন করছেন এবং কিডনির কার্যকারিতা কেমন-এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সিডিএসসিও চিকিৎসকদের এনএসএআইডি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম কার্যকর মাত্রা এবং প্রয়োজন হলে সবচেয়ে কম সময় বেছে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছে। বিশেষ করে কিডনি সমস্যার ঝুঁকি রয়েছে—এমন রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ধরন, তীব্রতা, আক্রান্ত স্থান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষার ফল বিবেচনা করে ওষুধ নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ওষুধ বিক্রেতাদেরও সতর্ক থাকার নির্দেশ

প্রেসক্রিপশন ছাড়া নির্দিষ্ট ওষুধ বিক্রি না করার নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে ফার্মাসিস্ট ও খুচরা ওষুধ বিক্রেতাদের নির্দেশ দিয়েছে সিডিএসসিও।

বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক এবং প্রেসক্রিপশননির্ভর ব্যথানাশক ওষুধের ক্ষেত্রে রোগীদের নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ সেবনে উৎসাহিত না করতে বলা হয়েছে।

কিডনি সুস্থ রাখতে সচেতনতা

শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়া এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে কিডনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে কিডনির সুরক্ষায় ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

প্রয়োজন ছাড়া ওষুধ না খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া কিডনি সুস্থ রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ওষুধের কার্যকারিতার পাশাপাশি সঠিক সময়ে সঠিক ওষুধ ব্যবহার করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত