×

ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে যে ৫ অভ্যাস বদলাবেন

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১২:৩৬:০৬

ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে যে ৫ অভ্যাস বদলাবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। ক্যানসার শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও রোগটি সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত একাধিক বাহ্যিক ও পরিবেশগত কারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। তাই জীবনযাপনে কয়েকটি পরিবর্তন আনা গুরুত্বপূর্ণ।

কিছু অভ্যাসের কারণে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। চিকিৎসকদের মতে, ক্যানসার পুরোপুরি সেরে যাবে বা নির্মূল হবে এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে কয়েকটি অভ্যাস পরিবর্তন করা গেলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমানো যায়।

ক্যানসার অনেক সময় শরীরে নীরবে বাসা বাঁধে, ফলে শুরুতেই তা শনাক্ত করা কঠিন। দিনের পর দিন ক্লান্তি বাড়লে অনেকে সেটিকে কাজের চাপের ফল মনে করেন। একইভাবে ক্রনিক অম্বল-বদহজম, গ্যাস, পেটে ব্যথা বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যাকেও অনেকে সাধারণ শারীরিক অস্বস্তি হিসেবে এড়িয়ে যান। অথচ এসব লক্ষণ অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গও হতে পারে।

শরীরের ছোটখাটো অস্বস্তি বা অসুস্থতাকে অবহেলা করা তাই ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ক্যানসারের আশঙ্কা কমাতে দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাসে এখন থেকেই পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ধূমপান

ধূমপান পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া অনেকের জন্য কঠিন হলেও এর পরিমাণ কমানো জরুরি। দিনে অন্তত ৬টি সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা কমিয়ে ২টিতে আনার কথা বলা হয়েছে। তামাক ও সিগারেটের ধোঁয়ায় অন্তত ৭০টিরও বেশি কার্সিনোজেন বা ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে বেনজিন, ফরম্যালডিহাইড ও নাইট্রোসামিন কোষের ডিএনএ গঠনে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি জিনগত পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এতে ক্যানসার কোষ তৈরির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তাই ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান থেকে দূরে থাকাই ভালো।

অ্যালকোহল

অ্যালকোহল গ্রহণের অভ্যাস থাকলে তা বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শরীরে বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল ভেঙে ‘অ্যাসিটালডিহাইড’ নামের বিষাক্ত রাসায়নিক যৌগ তৈরি হয়, যা ডিএনএ ও প্রোটিনের মারাত্মক ক্ষতি করে। পাশাপাশি অ্যালকোহল শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অ্যালকোহল ছেড়ে দেওয়া বা এর পরিমাণ সীমিত করলে লিভার, মুখ ও গলা, খাদ্যনালি, অগ্ন্যাশয়, স্তন ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায়।

খাবার খাওয়ার সময়

২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা, অথবা কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা পেট ফাঁকা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গবেষকেরা রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করে পরদিন সকাল ৮টা কিংবা ১০টায় প্রাতঃরাশ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। এ সময় শরীরে ‘অটো-ক্লিনিং’ নামে একটি প্রক্রিয়া চলে, যার মাধ্যমে শরীর কোষে জমে থাকা টক্সিন ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর উপাদান নিজেই ধ্বংস করে ফেলে।

ঘুমের নিয়ম

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, রাত ১১টার মধ্যে ঘুমাতে যাওয়া শরীরের জৈবিক ঘড়ির জন্য ভালো। রাত ১১টা থেকে ৩টার মধ্যে শরীরে ডিএনএ মেরামতের কাজ চলে। এ কারণে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং রাতে শোবার ঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সামান্য নীল আলো থাকলেও মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই মেলাটোনিন যেকোনো টিউমার কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন ঠেকাতে পারে।

প্লাস্টিকের ব্যবহার

প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্রে গরম খাবার না খাওয়া এবং নন-স্টিক বাসনের পরিবর্তে লোহা বা স্টেনলেস স্টিলের বাসন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্লাস্টিকের ব্যাগ ও টিফিন বাক্সের ব্যবহার কমানো হলে ক্যানসারের ঝুঁকিও কমতে পারে। প্লাস্টিক ও নন-স্টিক বাসনে থাকা বিসফেনল-এ, থ্যালেট ও পিএফএএসের মতো রাসায়নিক হরমোনের ভারসাম্যে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে স্তন, জরায়ু, ডিম্বাশয় ও থাইরয়েডের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত