ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
প্লাস্টিকের চেয়ে কাগজের স্ট্র পরিবেশের জন্য বেশি ক্ষতিকর!
ডুয়া ডেস্ক: প্লাস্টিকের স্ট্রের পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাগজের স্ট্র ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। গবেষণার তথ্য বলছে, উৎপাদন থেকে শুরু করে ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত পুরো জীবনচক্র বিবেচনায় কাগজের স্ট্র প্রচলিত প্লাস্টিকের স্ট্রের চেয়ে পরিবেশের জন্য বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে, কাগজের স্ট্রের জীবনচক্রে ক্যানসার সৃষ্টিকারী প্রভাবের মডেলভিত্তিক মাত্রা প্রচলিত প্লাস্টিকের স্ট্রের তুলনায় ৬ দশমিক ৩৩ গুণ বেশি। তবে এই পরিসংখ্যান স্ট্র ব্যবহারকারীদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নির্দেশ করে না। উৎপাদন, ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সময় পরিবেশে নির্গত উপাদানের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে।
দেশটির জলবায়ু, জ্বালানি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণাটির ফল গত সপ্তাহে প্রকাশ করেন পিপল পাওয়ার পার্টির সংসদ সদস্য কিম উই-সাং। এতে চার ধরনের স্ট্রের পরিবেশগত প্রভাব তুলনা করা হয়। এগুলো হলো প্রচলিত প্লাস্টিক, কাগজ, বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক এবং বায়োভিত্তিক পলিইথিলিন (বায়ো-পিই)।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত প্লাস্টিকের তুলনায় বায়ো-পিই স্ট্রের ক্যানসার সৃষ্টিকারী প্রভাবের মডেলভিত্তিক মাত্রা ১৬ দশমিক ১৮ গুণ বেশি। কাগজের স্ট্রের ক্ষেত্রে এ মাত্রা ৬ দশমিক ৩৩ গুণ এবং বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিকের ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ৩৪ গুণ।
বায়ো-পিই আখের মতো উদ্ভিদজাত উপাদান থেকে তৈরি হলেও রাসায়নিকভাবে এটি প্রচলিত পলিইথিলিনের মতোই। এ কারণে এটি সহজে জীবাণুর মাধ্যমে পচে যায় না। তবে বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিকের সঙ্গে এর পার্থক্য রয়েছে।
গবেষণায় স্ট্রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। দেশটির জাতীয় বর্জ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্যবহৃত স্ট্রের ৭৩ দশমিক ৬ শতাংশ পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং বাকি ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ মাটির নিচে ফেলা হয় বলে ধরে নেওয়া হয়েছে।
গবেষক ও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য কিম সরকারের পরিবেশবান্ধব নীতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, অকার্যকর বিকল্প উপকরণের ওপর নির্ভর না করে একবার ব্যবহারযোগ্য পণ্যের সামগ্রিক ব্যবহার কমানোর দিকে নজর দেওয়া উচিত।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, উপাদান যা-ই হোক, ছোট আকার এবং আবরণ ও আঠার ব্যবহারের কারণে স্ট্র পুনর্ব্যবহার করা কঠিন। তাই শুধু প্লাস্টিকের স্ট্র নিষিদ্ধ করাই যথেষ্ট নয়। বরং রেস্তোরাঁ ও দোকানে স্বাভাবিকভাবে একবার ব্যবহারযোগ্য স্ট্র সরবরাহ না করে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহমুদ আলমের মৃত্যু, উপাচার্যের শোক
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ অক্টোবর)
- জেনে নিন আজকের বাজারে ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা
- ১৫ দিনের ব্যবধান দুইবার হবে শারদীয় দুর্গাপূজা
- বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২৬ অক্টোবর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ অক্টোবর)
- ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা: ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
- আনসার-ভিডিপিতে ২২৮ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে আবেদন করবেন যেভাবে, জানুন বিস্তারিত
- দেশের যেসব অঞ্চলে পাঁচ দিন বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস
- ‘অনেক শিশুকে চুমু দিয়েছি, আমাকে মারার সাহস আছে?’
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ অক্টোবর)
- ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ