×

ঢাকা, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

নভেম্বরে হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর সৌদি সফর, শ্রমবাজারে নতুন আশা

২০২৬ অক্টোবর ০২ ১৪:৫৪:২৭

নভেম্বরে হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর সৌদি সফর, শ্রমবাজারে নতুন আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি আরবে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার চাঙ্গা করতে চায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, বিদেশে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের এ শ্রমবাজার বর্তমানে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের পর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি কমে গেছে। সৌদি আরবে কর্মী পাঠানো গত ৯ মাসে কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এ কারণে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের মধ্যে আলোচনা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর সৌদি সফরে গুরুত্ব পাবে বিষয়টি।

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক গত সোমবার তার কার্যালয়ে আগামীর সময়কে বললেন, সৌদির যুবরাজের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বর্তমান জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সরকারগুলোর ঐতিহাসিকভাবে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যদি সফরে যান, সেক্ষেত্রে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের শক্ত অবস্থান আরও সুসংহত হবে।

বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে জিসিসিভুক্ত ছয় দেশ— সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন প্রধান গন্তব্য। বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, বর্তমানে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহারাইন ও জর্ডানে প্রায় ৬০-৭০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবে ৩৫ লাখের বেশি। ২০২৫ সালে বিদেশে কাজে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের প্রায় ৬৭ শতাংশ সৌদি আরবে গেছেন।

বিএমইটির তথ্য বলছে, গত বছর ১৪১টি দেশে বাংলাদেশের কর্মী গেছেন ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৬৮ জন। এর মধ্যে সৌদি আরবে গেছেন ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৯৪ জন। অর্থাৎ ১০০ জন শ্রমিকের প্রায় ৬৭ জন গেছেন সৌদিতে। কিন্তু এ বছর গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গেছেন ৩ লাখ ৯ হাজার ৭৯২ জন। অথচ গত বছর ৯ মাসে গিয়েছিল ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৫৮৯ জন। এই হিসাবে গত বছরের তুলনায় এ সময়ে সৌদি আরবে কর্মী যাওয়া কমেছে আড়াই লাখের বেশি। এ ছাড়া ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনের মতো বাংলাদেশের কিছু বড় শ্রমবাজার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ অথবা কর্মী যাওয়া কমে গেছে।

ভূঁইয়া এমপ্লয়মেন্ট রিক্রুটিং এজেন্সি কয়েক বছর থেকে সৌদি আরবে কর্মী পাঠিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং পার্টনার নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে অনেক কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। আগে যেখানে প্রচুর কর্মীর প্রয়োজন হতো, সেখানে এখন চাহিদা কমে গেছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য কর্মীরা অধীর আগ্রহে আছেন। এর প্রভাবও পড়েছে সৌদি শ্রমবাজারে।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বললেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বই কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সচল না থাকলে সেখানে কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে না। তবে সৌদি আরবের পাশাপাশি বাহরাইনের বন্ধ শ্রমবাজার খুলতে চিঠি চালাচালি হয়েছে। ওমানের ক্ষেত্রেও আলাপ-আলোচনা হয়েছে। ওমানের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসেছে। তারা কৃষি, মৎস্যসহ বেশ কিছু খাতে কর্মী নেবে বলে আলোচনা হয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন নুরুল হক। তিনি আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘সামগ্রিকভাবে আমরা আশাবাদী যে মধ্যপ্রাচ্য সফরের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আরও দুটি দেশ সফর করবেন, যার মধ্য দিয়ে শ্রমবাজারের একটি নতুন গতি আসবে।’

তবে এক দেশনির্ভর শ্রমবাজার থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন খাতের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রামরুর নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী। আগামীর সময়কে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজারের বড় দুর্বলতা হলো একক দেশনির্ভরতা। প্রতি বছর অর্ধেকের বেশি শ্রমিক একটি দেশেই যান, অন্য বাজারগুলোতে যাত্রা হয় ছিটেফোঁটা। তাই ছয়-সাতটি দেশে সমপরিমাণ শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ বা ভূরাজনৈতিক সংকটে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক পাঠানো কমা স্বাভাবিক; এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, নেপালসহ অন্য শ্রম রপ্তানিকারক দেশের ক্ষেত্রেও ঘটছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শ্রমবাজারও আবার ঘুরে দাঁড়াবে। এজন্য কূটনৈতিক ও সরকারি যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

তাসনিম সিদ্দিকী আরও বলেছেন, নারী শ্রমিকের বাজার যুদ্ধের প্রভাবে তেমন অস্থির হয় না। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে নারী শ্রমিক অভিবাসন কমছে। নিরাপদ অভিবাসন ও কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করে এই বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত