ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন লাগবে না
নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করতে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির প্রয়োজন হবে না বলে নতুন নির্দেশনায় জানা গেছে। এর আগে তাদের পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করার কথা জানিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের দুই কর্মকর্তার মধ্যে এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন প্রয়োজন নেই বলে মত দেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করতে পৃথক প্রজ্ঞাপনের প্রয়োজন হবে না। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত গেজেটই এমপিওভুক্ত জনবলের জন্য প্রযোজ্য হবে।’
অতীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য আলাদা গেজেট জারি করা হয়েছিল। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো ভাতাও পান না এমপিওভুক্ত জনবল। এসব বিষয় কীভাবে সমাধান করা হবে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তাদের বেতন বৃদ্ধি হবে। ভাতাগুলো আগের মতোই থাকবে। বিষয়গুলো নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কাজ করবে।’
নতুন পে-স্কেলে নিজের বেতন বৃদ্ধির হিসাব করবেন যেভাবে
নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন নির্ধারণ নিয়ে অনেকের মধ্যে হিসাব-নিকাশ চলছে। নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে একজন কর্মচারীর ৩০ জুনের মূল বেতন, বর্তমান গ্রেড এবং নতুন বেতন কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট গ্রেডের নির্ধারিত স্কেলের তথ্য প্রয়োজন হবে।
নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনে বেতন নির্ধারণের দুটি পদ্ধতি রাখা হয়েছে। পুরোনো বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে থাকা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে হিসাব সহজ। তবে স্কেলের মাঝামাঝি বা ওপরের ধাপে বেতন পাওয়া কর্মচারীদের জন্য পুরোনো স্কেলের শুরু থেকে বর্তমান বেতনের ব্যবধান হিসাব করে নতুন স্কেলে তা সমন্বয় করতে হবে।
স্কেলের শুরুতে থাকা কর্মচারীদের বেতন
৩০ জুন পর্যন্ত কোনো কর্মচারী যদি তার বর্তমান বেতন স্কেলের সর্বনিম্ন বা প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পেয়ে থাকেন, তাহলে নতুন কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপেই তার নতুন বেতন নির্ধারিত হবে।
উদাহরণ হিসেবে, ১৬তম গ্রেডের কোনো কর্মচারী যদি ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেতন স্কেলের শুরুতে ৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল বেতন পেয়ে থাকেন এবং নতুন কাঠামোয় ১৬তম গ্রেডের স্কেল ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারিত হয়, তাহলে তার নতুন মূল বেতন হবে ২১ হাজার ৯০০ টাকা। অর্থাৎ পুরোনো স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপে থাকা কর্মচারীর বেতন নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় হবে।
স্কেলের মাঝামাঝি ধাপে বেতন হলে হিসাব
কোনো কর্মচারীর বর্তমান বেতন যদি পুরোনো স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে নতুন বেতন নির্ধারণের শুরুতে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ও তার বর্তমান মূল বেতনের ব্যবধান বের করতে হবে।
এরপর ওই ব্যবধান জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর জন্য নির্ধারিত স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করতে হবে। হিসাবের ফল নতুন স্কেলের কোনো নির্ধারিত ধাপের সঙ্গে মিলে গেলে সেই ধাপেই নতুন মূল বেতন নির্ধারণ হবে। আর হিসাবের অঙ্কটি কোনো নির্ধারিত ধাপে না মিললে তার পরের উচ্চতর ধাপ গ্রহণ করতে হবে।
ধরা যাক, ৩০ জুন পর্যন্ত কোনো কর্মচারীর ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতন ছিল ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা। তার পুরোনো বেতন স্কেল ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ১৩ হাজার ১৩০, ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা এবং পরবর্তী ধাপগুলোতে বাড়তে বাড়তে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ২৩০ টাকা পর্যন্ত। নতুন বেতন কাঠামোয় তার সংশ্লিষ্ট স্কেল ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ২৬ হাজার ৩০০ টাকা এবং পরবর্তী ধাপ পেরিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত হলো।
প্রথমে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ ও বর্তমান মূল বেতনের ব্যবধান বের করতে হবে। হিসাবটি হবে ১৩,৭৯০ - ১২,৫০০ = ১,২৯০ টাকা। অর্থাৎ পুরোনো স্কেলের শুরুর ধাপের তুলনায় তার বর্তমান বেতন ১ হাজার ২৯০ টাকা বেশি। এরপর এই ব্যবধান নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করতে হবে।
হিসাব অনুযায়ী, ২৫,০০০ + ১,২৯০ = ২৬,২৯০ টাকা। তবে নতুন বেতন স্কেলে ২৬ হাজার ২৯০ টাকা নির্ধারিত কোনো ধাপ নেই। তাই তার নতুন বেতন ২৬ হাজার ২৯০ টাকা হবে না; এর পরের উচ্চতর নির্ধারিত ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হবে। ফলে তার নতুন মূল বেতন হবে ২৬ হাজার ৩০০ টাকা।
নতুন বেতন জানতে প্রয়োজন হবে যে তথ্য
নিজের নতুন মূল বেতন হিসাবের জন্য একজন চাকরিজীবীকে প্রথমে তিনটি তথ্য নিশ্চিত করতে হবে। এগুলো হলো ৩০ জুন তার মূল বেতন কত ছিল, তিনি কোন গ্রেডে কর্মরত ছিলেন এবং জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ ওই গ্রেডের জন্য নির্ধারিত নতুন বেতন স্কেল কত।
এরপর তাকে দেখতে হবে, তিনি পুরোনো বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে ছিলেন কি না। সেখানে থাকলে নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপই হবে তার নতুন মূল বেতন। আর প্রারম্ভিক ধাপের বেশি বেতন পেলে পুরোনো স্কেলের শুরু থেকে বর্তমান বেতনের ব্যবধান বের করে তা নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করতে হবে। হিসাবের ফল নির্ধারিত কোনো ধাপে না থাকলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপটি নিতে হবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- সরকারি বাঙলা কলেজে উপবৃত্তি আবেদনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদলের নিরব
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানা গেল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ অক্টোবর)
- বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডে ৭ ক্যাটাগরিতে ৩৮ পদে নিয়োগ
- ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে ‘বিয়ে হয়ে গেল’ আছিয়ার
- বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাবির ২২ শিক্ষক-গবেষক
- বিআরটিসির নতুন চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ অক্টোবর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ অক্টোবর)
- বাতিল পরীক্ষার নতুন সূচি দিল যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর
- শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান