ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
যেসব কারণে অল্প বয়সেই চুল পড়ে যায়
ডুয়া ডেস্ক: ২০-এর কোঠাতেই চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, কপালের দুই পাশ থেকে চুল সরে যাওয়া কিংবা মাথার মাঝের অংশে ঘনত্ব কমে যাওয়ার ঘটনা এখন অনেক তরুণের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। একসময় চুল পড়া বা টাক হয়ে যাওয়াকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, অল্প বয়সে এমন সমস্যা দেখা দিলে এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা জানা জরুরি।
ভারতের চিকিৎসক রাশি সোনির মতে, তরুণ বয়সে চুল পড়ার জন্য সব ক্ষেত্রে একই কারণ কাজ করে না। বংশগত প্রবণতার পাশাপাশি মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনের ধরনও চুল পড়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
বংশগত কারণ
কপালের দুই পাশের চুল ধীরে ধীরে উঠে যাওয়া কিংবা মাথার ওপরের অংশ পাতলা হয়ে যাওয়ার বড় একটি কারণ অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া। সাধারণভাবে এটিকে পুরুষদের বংশগত টাক পড়া বলা হয়।
চিকিৎসক রাশি সোনি জানান, জেনেটিক কারণে কারও চুলের ফলিকল অ্যান্ড্রোজেন হরমোন, বিশেষ করে ডিএইচটির (DHT) প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে সময়ের সঙ্গে ফলিকল ছোট হতে থাকে এবং নতুন যে চুল গজায়, তা আগের তুলনায় পাতলা ও ছোট হয়।
চুল পড়ার প্রবণতা কেবল মায়ের পরিবারের জিনের ওপর নির্ভর করে—এমন ধারণা ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে পরিবারের দুই দিকের জেনেটিক ইতিহাসই বিবেচনায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
মানসিক চাপের প্রভাব
পরীক্ষার চাপ, কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত ব্যস্ততা, দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তা, ঘুমের ঘাটতি, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া বা কোনো অসুস্থতার পরও অতিরিক্ত চুল ঝরতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে টেলোজেন ইফ্লুভিয়াম হতে পারে। এই সমস্যায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি চুল একই সময়ে ঝরে পড়ার পর্যায়ে চলে যায়। অনেক সময় মানসিক চাপ বা অসুস্থতার কয়েক মাস পর চুল পড়া শুরু হয়। এ কারণে আগের ঘটনার সঙ্গে পরবর্তী সময়ে শুরু হওয়া চুল পড়ার যোগসূত্র অনেকের কাছে সহজে ধরা পড়ে না।
নিয়মিত জিমে ব্যায়াম করা তরুণদের মধ্যেও ক্রিয়েটিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের সঙ্গে চুল পড়ার আশঙ্কা দেখা যায়। তবে চিকিৎসকের মতে, ক্রিয়েটিন সরাসরি চুল পড়ার কারণ—এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
কিছু গবেষণায় ক্রিয়েটিন গ্রহণের সঙ্গে ডিএইচটির মাত্রা পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোনো হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলেই তা সরাসরি চুল পড়ার কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই।
খাদ্যাভ্যাসেও গুরুত্ব দিতে হবে
খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকা, অতিরিক্ত কড়াকড়ি ডায়েট করা কিংবা আয়রনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির ঘাটতিও চুল পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। শরীরে পুষ্টির ঘাটতি বা শারীরিক চাপ তৈরি হলে শরীর প্রয়োজনীয় অঙ্গগুলোর কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেয়। এর প্রভাব চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতেও পড়তে পারে।
চুল পড়া শুরু হলেই নিজের সিদ্ধান্তে ভিটামিন বা বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা সমাধান নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, কারণ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তাই ২০-এর কোঠাতেই চুল পড়া শুরু হলে বয়স কম বলে বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে চুল পড়ার ধরন, পারিবারিক ইতিহাস, মানসিক চাপ, ঘুম এবং খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চুল পড়ার মূল কারণ শনাক্ত করাও জরুরি।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- একাদশে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে কখন
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর