×

ঢাকা, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

সুস্থ থাকতে সহায়ক হতে পারে যেসব ঘরোয়া উপায়

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১১:৩৫:৩৭

সুস্থ থাকতে সহায়ক হতে পারে যেসব ঘরোয়া উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুস্থ থাকার জন্য মানুষের প্রচেষ্টা নিরন্তর। কেউ অসুস্থ হতে চান না। তবে নানা অসাবধানতায় বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে কিছু ঘরোয়া উপায় সহায়ক হতে পারে। তবে যেকোনো ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহারের আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে কেউ প্রেসক্রিপশনের ওষুধ বা অন্য কোনো ওষুধ সেবন করলে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কিছু ঘরোয়া প্রতিকার ওষুধের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

পুদিনা

শত শত বছর ধরে স্বাস্থ্য প্রতিকার হিসেবে পুদিনা ব্যবহার হয়ে আসছে। পুদিনার তেল ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) উপশমে সহায়ক হতে পারে। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা, যার কারণে পেটে ব্যথা, পেট ফাঁপা, গ্যাস, ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।

পুদিনার তেল মাথাব্যথার ক্ষেত্রেও উপকারী হতে পারে। তবে এটি কতটা এবং কীভাবে উপকার করে, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রেও পুদিনার পাতা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সেসব ক্ষেত্রে এটি উপকারী এমন প্রমাণ খুবই কম।

মধু

প্রাকৃতিক এই মিষ্টি উপাদানটি কাশির ক্ষেত্রে ওষুধের মতোই কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু কাশির ওষুধ খাওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি, তাদের জন্য এটি সহায়ক হতে পারে।

তবে এক বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে মধু দেওয়া যাবে না। এতে বিরল কিন্তু গুরুতর এক ধরনের খাদ্যবিষক্রিয়ার সামান্য ঝুঁকি রয়েছে, যা শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

মধু অ্যালার্জিতে সহায়তা করে এমন কথা শোনা গেলেও গবেষণায় এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

হলুদ

হলুদ আর্থ্রাইটিস থেকে শুরু করে ফ্যাটি লিভারের মতো বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হয়। এ বিষয়ে কিছু প্রাথমিক গবেষণাও রয়েছে। তবে আলসার নিরাময় কিংবা রেডিয়েশনের পর ত্বকের র‍্যাশ সারাতে হলুদ সহায়ক এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।

হলুদ ব্যবহার করলে অতিরিক্ত গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ বেশি পরিমাণে হলুদ খেলে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আদা

এশীয় চিকিৎসায় হাজার বছর ধরে পেটব্যথা, ডায়রিয়া ও বমি বমি ভাবের চিকিৎসায় আদা ব্যবহার হয়ে আসছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বমি বমি ভাব ও বমির ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হতে পারে। কিছু প্রমাণ রয়েছে, আদা মাসিকের ব্যথা কমাতেও সহায়তা করতে পারে।

তবে আদা সবার জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি পেটের সমস্যা, বুকজ্বালা, ডায়রিয়া ও গ্যাসের কারণ হতে পারে। পাশাপাশি এটি কিছু ওষুধের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আদা ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

গ্রিন টি

গ্রিন টি শুধু সতেজ ও সজাগ রাখে না, এর আরও কিছু সম্ভাব্য উপকার রয়েছে। এটি শক্তিশালী কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস, যা কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে এবং রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

এ ছাড়া গ্রিন টি হৃদরোগ এবং ত্বক, স্তন, ফুসফুস ও কোলনের মতো নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করতে পারে।

রসুন

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি রসুন খান, তাঁদের নির্দিষ্ট কিছু ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। তবে রসুনের সাপ্লিমেন্টের ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রভাব দেখা যায় না।

রসুন রক্তের কোলেস্টেরল ও রক্তচাপের মাত্রা কমাতেও সহায়তা করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে এর উপকার খুব বেশি বলে মনে হয় না।

গরম পানিতে গোসল

পেশি, হাড় ও টেন্ডন যে টিস্যুগুলো পেশিকে হাড়ের সঙ্গে যুক্ত করে সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যায় গরম পানিতে গোসল উপকারী হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থ্রাইটিস, পিঠের ব্যথা ও জয়েন্টের ব্যথা।

উষ্ণ পানি শরীরের প্রয়োজনীয় অংশে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সহায়তা করে। তাই পানিতে থাকা অবস্থায় এসব স্থানে আলতো করে স্ট্রেচিং ও মালিশ করা যেতে পারে।

তবে পানি অতিরিক্ত গরম করা উচিত নয়, বিশেষ করে ত্বকের কোনো সমস্যা থাকলে। আদর্শ পানির তাপমাত্রা হলো ৯২ থেকে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত