ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
বিয়েতে কনের পোশাক কেন লাল হয়? জেনে নিন
ডুয়া ডেস্ক: বিয়ে শুধু দুটি মানুষের একসঙ্গে জীবন শুরু করার আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। হাজার হাজার বছর ধরে বিভিন্ন সমাজ ও সংস্কৃতিতে বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান চলে আসছে। সময়ের সঙ্গে এসব রীতিতে পরিবর্তন এলেও অনেক প্রথা এখনো টিকে আছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিয়েতে কনের লাল পোশাক পরার রীতি।
বাঙালি বিয়েতে লাল বেনারসি শাড়ির প্রচলন দীর্ঘদিনের। বিয়ের আসরে লাল শাড়িতে সজ্জিত কনেকে যেমন দৃষ্টিনন্দন লাগে, তেমনি এই রঙের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও প্রতীকী অর্থ।
বিয়েতে লাল পোশাক পরার কারণ
লালকে সাধারণত সাহস, শক্তি ও প্রাণবন্ততার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতিতে এই রঙের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। বহু শতাব্দী ধরে বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও শুভ অনুষ্ঠানে লাল রঙের ব্যবহার হয়ে আসছে।
বাঙালি কনের সাজে লাল বেনারসির উপস্থিতি তাই অনেকটা ঐতিহ্যের অংশ হয়ে গেছে। যদিও বর্তমানে অনেক কনে লালের পাশাপাশি গোলাপি, সাদা, সবুজ কিংবা বিভিন্ন প্যাস্টেল শেডের পোশাক বেছে নিচ্ছেন, তবুও লাল শাড়ির আবেদন এখনো অটুট।
শক্তি ও আবেগের প্রতীক লাল
মনস্তাত্ত্বিকভাবে লাল একটি আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিগ্রাহ্য রঙ। এটি আত্মবিশ্বাস, শক্তি ও আবেগের অনুভূতি তৈরি করে। বিয়ের মতো জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে কনেকে লাল পোশাকে আরও উজ্জ্বল ও রাজকীয় দেখায়। এ কারণেও বিয়ের পোশাকে লালের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন সংস্কৃতিতে লালকে জীবন, প্রাণশক্তি ও শুভ সূচনার প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়। বিয়ের ক্ষেত্রে এই রং উর্বরতা, সমৃদ্ধি ও দাম্পত্য জীবনের সুখের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন জীবনে পা রাখার মুহূর্তে কনের পোশাকে তাই লালের ব্যবহারকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হয়।
এ ছাড়া লালকে ভালোবাসা ও আবেগের রং হিসেবেও ধরা হয়। বিয়ে যেহেতু নতুন সম্পর্ক ও জীবনের সূচনা, তাই ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে লাল রঙের ব্যবহারও অর্থবহ। লাল শাড়ির পাশাপাশি কনের লাল টিপ, পায়ের আলতা কিংবা হাতে মেহেদির লালচে আভাও সাজে ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য যোগ করে।
লাল জামদানির জনপ্রিয়তা
ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে বিয়ের শাড়িতে লাল জামদানিও এখন বেশ জনপ্রিয়। দেশীয় সংস্কৃতি ও সূক্ষ্ম বয়নশিল্পের কারণে অনেক কনেই বিয়ের পোশাক হিসেবে জামদানি বেছে নেন।
জামদানি শাড়ির বয়নপ্রক্রিয়া বেশ সময়সাপেক্ষ। একটি শাড়ি তৈরি করতে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এর সূক্ষ্ম বুনন, নকশা ও কারুকাজ একে বিয়ের পোশাক হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।
বর্তমানে অনেক ডিজাইনার লাল জামদানিতে ফুল ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মোটিফ ব্যবহার করছেন। ফলে বাঙালি কনের সাজে লাল জামদানি ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্যের পাশাপাশি আধুনিকতারও ছোঁয়া দিচ্ছে।
তবে সময়ের সঙ্গে বিয়ের পোশাকে রঙের বৈচিত্র্য বাড়লেও বাঙালি কনের সাজে লালের আবেদন যে সহজে কমছে না, তা বলাই যায়।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বাংলাদেশকে ৩০৫ রানের লক্ষ্য দিল আফগানিস্তান, জবাবে ১৬৯ রান
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকর
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- খুলনায় ৩০ কেজি ধানে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখতে ভিড়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৩ অক্টোবর)
- শনিবার ঢাকায় বন্ধ যেসব মার্কেট ও দোকানপাট
- হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন
- সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃ/ত্যুতে রাজনীতিতে শূন্যতা তৈরি হয়েছে: রিজভী