ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
নারীদের হার্ট অ্যাটাকের আগাম সংকেত সম্পর্কে জেনে নিন
ডুয়া ডেস্ক: হার্ট অ্যাটাককে অনেকেই হঠাৎ ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা হিসেবে দেখেন। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে শরীর আগে থেকেই কিছু সতর্কবার্তা দিতে শুরু করে। নারীদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের উপসর্গ সবসময় প্রচলিতভাবে প্রকাশ পায় না। বুকব্যথার বদলে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, বমিভাব বা ঘুমের সমস্যার মতো লক্ষণও হৃদ্যন্ত্রের জটিলতার আগাম ইঙ্গিত হতে পারে।
হার্ট অ্যাটাকের কয়েক সপ্তাহ আগেও অনেক নারীর মধ্যে অস্বাভাবিক ও কারণহীন ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ক্লান্তিকে দৈনন্দিন ব্যস্ততা, মানসিক চাপ, বয়সজনিত পরিবর্তন, মেনোপজ কিংবা ঘুমের সমস্যার ফল বলে মনে করা হয়। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
কেন অনেক সময় উপসর্গ ধরা পড়ে না
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ পুরুষদের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে তীব্র বুকব্যথা বা বুকে চাপ অনুভব করা বেশি সাধারণ, সেখানে নারীদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সূক্ষ্ম কিছু উপসর্গ দেখা যায়। এসব লক্ষণকে অনেক সময় গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, উদ্বেগ, অতিরিক্ত কাজের চাপ বা সাধারণ ক্লান্তি বলে ভুল করা হয়। এতে হৃদরোগ শনাক্ত করতে দেরি হতে পারে।
যে নীরব লক্ষণটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত
অস্বাভাবিক ক্লান্তিকে নারীদের হার্ট অ্যাটাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্বাভাবিক কাজের পর যে মাত্রার ক্লান্তি হওয়ার কথা নয়, কিংবা পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি দুর্বলতা ও ক্লান্তি দূর না হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
তবে শুধু ক্লান্তি থাকলেই হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। নানা কারণে ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। কিন্তু অন্য উপসর্গের সঙ্গে এটি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আরও যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য সতর্কসংকেতগুলোর মধ্যে রয়েছে—
শ্বাসকষ্ট বা হঠাৎ হাঁপিয়ে যাওয়া
বুকে চাপ, অস্বস্তি বা ভারী অনুভূতি
চোয়াল, ঘাড়, কাঁধ, পিঠ বা হাতে ব্যথা
মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা
ঠান্ডা ঘাম
বমিভাব বা বদহজমের মতো অনুভূতি
ঘুমের স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন
অস্বাভাবিক ও কারণহীন ক্লান্তি
তবে সব উপসর্গ একসঙ্গে দেখা নাও যেতে পারে। ব্যক্তিভেদে লক্ষণের ধরন ও তীব্রতা ভিন্ন হতে পারে।
যাদের ঝুঁকি বেশি
কিছু শারীরিক ও জীবনধারাগত কারণ নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
উচ্চ রক্তচাপ
ডায়াবেটিস
উচ্চ কোলেস্টেরল
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
ধূমপান
শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস
মেনোপজ
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ
অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, বুকে হঠাৎ অস্বস্তি বা চাপের পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা, বমিভাব কিংবা চোয়াল, ঘাড়, পিঠ বা হাতে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। বিশেষ করে এসব উপসর্গ কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে অথবা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। নারীদের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলোকে শুধু গ্যাস, মানসিক চাপ বা সাধারণ ক্লান্তি মনে করে উপেক্ষা করা বিপজ্জনক হতে পারে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- BANZI নির্বাচন: জয়-পরাজয়ের বাইরে কমিউনিটির আমানত ও প্রত্যাশা
- ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের ডিসিইউতে স্থানান্তরের রোডম্যাপ প্রকাশ
- প্রজ্ঞাপনের আগে পে স্কেলের বেতন তালিকা
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল আজ
- পে স্কেল নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিল অর্থ মন্ত্রণালয়
- সাত কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফরম পূরণ স্থগিত
- দুর্নীতিবাজ-সন্ত্রাসীদের দলে জায়গা হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলির আবেদন শুরু ৩০ আগস্ট
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ রিলিজ স্লিপের ফল প্রকাশ
- জুলাই থেকেই কার্যকর নতুন পে স্কেল, বকেয়া পাবেন যেভাবে
- ৩৫০০ টাকায় পর্নোগ্রাফির ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’ দিতেন সুমাইয়া
- হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে ৪৩ জনের চাকরির সুযোগ
- ঢাবিসহ ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ
- ফের কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ৭১১৫ টাকা
- বাসায় ঢুকে মডেলকে কুপিয়ে হ'ত্যা