ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
শরীরে আয়রনের ঘাটতি বুঝবেন যেভাবে
ডুয়া ডেস্ক: দীর্ঘদিনের অবসাদ, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ফ্যাকাশে ত্বক কিংবা সামান্য পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট এসব উপসর্গ অনেক সময় শরীরে আয়রনের ঘাটতির ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে শুধু একটি রক্ত পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে আয়রনের ঘাটতি নিশ্চিত করা সবসময় সম্ভব নয়। শরীরে কতটা আয়রন সঞ্চিত আছে, সেটিও জানা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনেকেই আয়রন পরীক্ষার রিপোর্ট সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন না এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আয়রনের ওষুধ গ্রহণ করেন। এতে ঘাটতির প্রকৃত কারণ চিহ্নিত না হওয়ার পাশাপাশি সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
যে ৪টি সূচক গুরুত্বপূর্ণ
হিমোগ্লোবিন: রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে তা আয়রনের ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এটিকে এককভাবে নির্ভরযোগ্য সূচক বলা যায় না। ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন কারণেও হিমোগ্লোবিন কমতে পারে।
এমসিভি ও এমসিএইচ: সম্পূর্ণ রক্ত গণনা বা সিবিসি পরীক্ষার অংশ হলো ‘মিন কর্পাসকুলার ভলিউম’ এবং ‘মিন কর্পাসকুলার হিমোগ্লোবিন’। আয়রনের ঘাটতি হলে অনেক ক্ষেত্রে এই দুই মান কমে যেতে পারে। তাই সিবিসি রিপোর্টে এগুলোর দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
সিরাম আয়রন: নির্দিষ্ট সময়ে রক্তপ্রবাহে কতটা আয়রন রয়েছে, তা এই পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায়। এটি আয়রনের অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও শরীরে মোট আয়রন মজুতের সম্পূর্ণ চিত্র দেয় না।
সিরাম ফেরিটিন: বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, যা অনেক সময় মানুষ উপেক্ষা করেন। ফেরিটিন মূলত শরীরে সঞ্চিত আয়রনের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা দেয়।
কেন ফেরিটিন গুরুত্বপূর্ণ?
মানবদেহ প্রধানত ফেরিটিন নামের প্রোটিনের মাধ্যমে আয়রন সঞ্চয় করে। এই সঞ্চয় মূলত যকৃত, প্লীহা ও অস্থিমজ্জায় থাকে। শরীরে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে গেলে এই সঞ্চিত আয়রন কাজে লাগে। যেমন, হঠাৎ মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার ব্যায়াম শুরু করলে শরীরে আয়রনের প্রয়োজন বাড়তে পারে। গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালেও আয়রনের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
চিকিৎসকদের মতে, কারও সিরাম আয়রন স্বাভাবিক থাকলেও ফেরিটিনের মাত্রা কম হলে শরীরে পর্যাপ্ত আয়রন মজুত নাও থাকতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে শরীরের আয়রনের চাহিদা বেড়ে গেলে সেই প্রয়োজন পূরণে সমস্যা হতে পারে।
তাই আয়রনের ঘাটতি সন্দেহ হলে শুধু সিরাম আয়রনের ফল নয়, হিমোগ্লোবিন, এমসিভি, এমসিএইচ এবং বিশেষ করে ফেরিটিনের মাত্রাও বিবেচনা করা জরুরি। তবে রিপোর্টের ভিত্তিতে নিজে থেকে আয়রনের ওষুধ শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ সেপ্টেম্বর)
- নারী এশিয়া কাপ সেমিফাইনাল: কবে, কখন কোন দলের ম্যাচ
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- মাধ্যমিকের সব শিক্ষকদের জরুরি নির্দেশনা মাউশির
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- পে-স্কেলের গেজেট কেন প্রকাশ হচ্ছে না, জানা গেল রহস্যময় তথ্য