ঢাকা, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
খুশকি বারবার ফিরে আসে কেন, জানুন কারণ ও করণীয়
ডুয়া ডেস্ক: শ্যাম্পু পরিবর্তন, চুলে তেল দেওয়া কিংবা বিভিন্ন ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করেও অনেকের খুশকির সমস্যা পুরোপুরি দূর হয় না। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, খুশকিকে শুধু মাথার ত্বকের শুষ্কতা বা অপরিচ্ছন্নতার ফল হিসেবে দেখা ঠিক নয়। মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তেল, অণুজীব এবং ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিরোধব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হলেও খুশকির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
খুশকির অন্যতম কারণ ম্যালাসেজিয়া
খুশকির সঙ্গে ম্যালাসেজিয়া নামের এক ধরনের ইস্ট-সদৃশ অণুজীবের সম্পর্ক রয়েছে। এটি সাধারণত মানুষের মাথার ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই থাকে এবং নিজে ক্ষতিকর কোনো সংক্রমণ নয়। তবে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, তেল, দূষণ ও মানসিক চাপের কারণে এর পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
কীভাবে খুশকি তৈরি হয়?
ম্যালাসেজিয়া মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বা সিবাম ব্যবহার করে। এ প্রক্রিয়ায় তৈরি কিছু উপাদান ত্বকে জ্বালা ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে চুলকানি বাড়ে এবং মাথার ত্বকের কোষ স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত ঝরে পড়তে শুরু করে। এর ফলেই দেখা দেয় খুশকি।
খুশকি বারবার ফিরে আসে কেন?
অনেক সাধারণ শ্যাম্পু মাথার ত্বকে জমে থাকা সাদা বা তৈলাক্ত খোসা সাময়িকভাবে পরিষ্কার করে। কিন্তু খুশকির পেছনে থাকা অণুজীবের ভারসাম্যহীনতা নিয়ন্ত্রণে না এলে কিছুদিন পর আবারও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তৈলাক্ত ও শুষ্ক খুশকির পার্থক্য
খুশকিকে মোটামুটি দুই ধরনের হিসেবে দেখা যায়—তৈলাক্ত ও শুষ্ক।
তৈলাক্ত খুশকি: অতিরিক্ত সিবাম এবং ম্যালাসেজিয়ার বৃদ্ধির সঙ্গে এটি সম্পর্কিত। এ ধরনের খুশকির আঁশ সাধারণত হলদে, মোটা বা আঠালো হয়। মাথার ত্বক চুলকালে এগুলো নখে লেগে থাকতে পারে। চুল ধোয়ার এক-দুই দিনের মধ্যেই মাথার ত্বক আবার তেলতেলে হয়ে যাওয়াও এর একটি লক্ষণ।
শুষ্ক খুশকি: মাথার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে বা ম্যালাসেজিয়ার কারণে প্রদাহ হলে এ ধরনের খুশকি হতে পারে। এর আঁশ সাধারণত ছোট, সাদা ও গুঁড়োর মতো হয় এবং সহজেই কাঁধে ঝরে পড়ে। শুধু চুলে তেল ব্যবহার করলেই এই সমস্যা দূর হবে—এমন নয়।
গরমের সময় খুশকি বাড়ে কেন?
গরম ও আর্দ্র পরিবেশে মাথায় ঘাম এবং সিবামের পরিমাণ বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় হেলমেট বা টুপি পরে থাকা, ভেজা চুল বেঁধে রাখা কিংবা মাথার ত্বকে ঘাম জমে থাকলে ম্যালাসেজিয়ার বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। ফলে গরমের সময়ে অনেকের খুশকির সমস্যা বেড়ে যায়।
খুশকি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন?
খুশকি কমাতে শুধু মাথার ত্বকের খোসা পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়; এর মূল কারণ নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। শ্যাম্পু কেনার সময় পিরোকটোন ওলামাইনের মতো অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান রয়েছে কি না, তা দেখা যেতে পারে। এসব উপাদান ম্যালাসেজিয়ার অতিরিক্ত বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
খুশকি কমে গেলেই শ্যাম্পু একেবারে বন্ধ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ অনেকের ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘস্থায়ী এবং বারবার ফিরে আসা সমস্যা।
খুশকি প্রতিরোধে যেসব অভ্যাস কাজে আসতে পারেঅতিরিক্ত ঘাম হলে মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখুন।টুপি, হেলমেট ও চুলের অন্যান্য সামগ্রী নিয়মিত পরিষ্কার করুন।ভেজা চুল দীর্ঘ সময় বেঁধে বা ঢেকে রাখবেন না।মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন।খুশকি দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা তীব্র চুলকানি ও প্রদাহ দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩ সেপ্টেম্বর)
- জেনে নিন একাদশ-আলিমে ভর্তির আবেদন পদ্ধতি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- পে স্কেল নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিল অর্থ মন্ত্রণালয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল আজ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ রিলিজ স্লিপের ফল প্রকাশ
- সাত কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফরম পূরণ স্থগিত
- নবম পে-স্কেল অনুমোদন, বেতন বাড়ল কত
- শিক্ষক নিয়োগ দেবে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- জুলাই থেকেই কার্যকর নতুন পে স্কেল, বকেয়া পাবেন যেভাবে
- কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
- জিয়া উদ্যানের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাত করতে চান ট্রাম্প