ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
খুশকি বারবার ফিরে আসে কেন, জানুন কারণ ও করণীয়
ডুয়া ডেস্ক: শ্যাম্পু পরিবর্তন, চুলে তেল দেওয়া কিংবা বিভিন্ন ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করেও অনেকের খুশকির সমস্যা পুরোপুরি দূর হয় না। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, খুশকিকে শুধু মাথার ত্বকের শুষ্কতা বা অপরিচ্ছন্নতার ফল হিসেবে দেখা ঠিক নয়। মাথার ত্বকে অতিরিক্ত তেল, অণুজীব এবং ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিরোধব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হলেও খুশকির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
খুশকির অন্যতম কারণ ম্যালাসেজিয়া
খুশকির সঙ্গে ম্যালাসেজিয়া নামের এক ধরনের ইস্ট-সদৃশ অণুজীবের সম্পর্ক রয়েছে। এটি সাধারণত মানুষের মাথার ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই থাকে এবং নিজে ক্ষতিকর কোনো সংক্রমণ নয়। তবে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, তেল, দূষণ ও মানসিক চাপের কারণে এর পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
কীভাবে খুশকি তৈরি হয়?
ম্যালাসেজিয়া মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বা সিবাম ব্যবহার করে। এ প্রক্রিয়ায় তৈরি কিছু উপাদান ত্বকে জ্বালা ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে চুলকানি বাড়ে এবং মাথার ত্বকের কোষ স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত ঝরে পড়তে শুরু করে। এর ফলেই দেখা দেয় খুশকি।
খুশকি বারবার ফিরে আসে কেন?
অনেক সাধারণ শ্যাম্পু মাথার ত্বকে জমে থাকা সাদা বা তৈলাক্ত খোসা সাময়িকভাবে পরিষ্কার করে। কিন্তু খুশকির পেছনে থাকা অণুজীবের ভারসাম্যহীনতা নিয়ন্ত্রণে না এলে কিছুদিন পর আবারও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তৈলাক্ত ও শুষ্ক খুশকির পার্থক্য
খুশকিকে মোটামুটি দুই ধরনের হিসেবে দেখা যায়—তৈলাক্ত ও শুষ্ক।
তৈলাক্ত খুশকি: অতিরিক্ত সিবাম এবং ম্যালাসেজিয়ার বৃদ্ধির সঙ্গে এটি সম্পর্কিত। এ ধরনের খুশকির আঁশ সাধারণত হলদে, মোটা বা আঠালো হয়। মাথার ত্বক চুলকালে এগুলো নখে লেগে থাকতে পারে। চুল ধোয়ার এক-দুই দিনের মধ্যেই মাথার ত্বক আবার তেলতেলে হয়ে যাওয়াও এর একটি লক্ষণ।
শুষ্ক খুশকি: মাথার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে বা ম্যালাসেজিয়ার কারণে প্রদাহ হলে এ ধরনের খুশকি হতে পারে। এর আঁশ সাধারণত ছোট, সাদা ও গুঁড়োর মতো হয় এবং সহজেই কাঁধে ঝরে পড়ে। শুধু চুলে তেল ব্যবহার করলেই এই সমস্যা দূর হবে—এমন নয়।
গরমের সময় খুশকি বাড়ে কেন?
গরম ও আর্দ্র পরিবেশে মাথায় ঘাম এবং সিবামের পরিমাণ বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় হেলমেট বা টুপি পরে থাকা, ভেজা চুল বেঁধে রাখা কিংবা মাথার ত্বকে ঘাম জমে থাকলে ম্যালাসেজিয়ার বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। ফলে গরমের সময়ে অনেকের খুশকির সমস্যা বেড়ে যায়।
খুশকি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন?
খুশকি কমাতে শুধু মাথার ত্বকের খোসা পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়; এর মূল কারণ নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। শ্যাম্পু কেনার সময় পিরোকটোন ওলামাইনের মতো অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান রয়েছে কি না, তা দেখা যেতে পারে। এসব উপাদান ম্যালাসেজিয়ার অতিরিক্ত বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
খুশকি কমে গেলেই শ্যাম্পু একেবারে বন্ধ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ অনেকের ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘস্থায়ী এবং বারবার ফিরে আসা সমস্যা।
খুশকি প্রতিরোধে যেসব অভ্যাস কাজে আসতে পারেঅতিরিক্ত ঘাম হলে মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখুন।টুপি, হেলমেট ও চুলের অন্যান্য সামগ্রী নিয়মিত পরিষ্কার করুন।ভেজা চুল দীর্ঘ সময় বেঁধে বা ঢেকে রাখবেন না।মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন।খুশকি দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা তীব্র চুলকানি ও প্রদাহ দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পর্নোগ্রাফি মামলায় ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেফতার
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জয়ী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৩ আগস্ট)
- খণ্ডকালীন শিক্ষক নেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জানুন আবেদনপদ্ধতি
- বিইউপিতে ২৯ পদে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ
- নতুন পে-স্কেলে বড় পরিবর্তন, যেভাবে বাস্তবায়ন হবে বেতন-ভাতা
- চালুর প্রথম দিনেই দুর্ঘটনায় পিংক বাস
- নোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষকের বেতন বন্ধ
- দিনে তিনবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট দেখার নির্দেশ
- শিক্ষকদের পদোন্নতি পারফরম্যান্স অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে দেওয়া হবে: ববি হাজ্জাজ
- জানুয়ারিতে ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন
- এইচএসসি পাসে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে চাকরির সুযোগ
- শুরু হচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি আবেদন
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির মাইগ্রেশন ভোটের সময় বাড়ল
- মেয়েরা বাস কেন চালাতে পারবে না: বর্ষা