ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলায় ঢাবিতে পরিস্থিতিভিত্তিক অনুশীলন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত রিস্ক-ই-স্কেপ প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে বন্যা ঝুঁকি নিরূপণ ও দুর্যোগ মোকাবিলায় দুর্যোগ পরিস্থিতির অনুকরণমূলক মহড়া ও পরিস্থিতিভিত্তিক সমন্বয় অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের বাজেট ও নীতি বিষয়ক কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ অনুশীলনের বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশে বন্যা সম্পর্কিত সামাজিক ঝুঁকি নিরূপণ’। সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে চিকিৎসক, জরুরি সাড়াদানকারী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক-গবেষক, উন্নয়নকর্মী, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় জনসম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন অংশ নেন।
বাস্তব দুর্যোগ পরিস্থিতির আদলে পরিচালিত এ অনুশীলনে অংশগ্রহণকারীরা বন্যার সম্ভাব্য সামাজিক ও দুর্যোগজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরূপণ, ঝুঁকি মানচিত্র প্রণয়ন, ঝুঁকিপ্রবণতা বিশ্লেষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণ করেন। পাশাপাশি অবকাঠামোগত ক্ষতি, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং জরুরি সেবা ব্যাহত হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুশীলন করা হয়।
অনুশীলনের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা দলভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং পোস্টার উপস্থাপনার মাধ্যমে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এতে দুর্যোগের আগে, চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, দায়িত্ব ও পারস্পরিক সমন্বয়ের বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পেশাদার ডুবুরি দলের সরাসরি পানি উদ্ধার কার্যক্রমের প্রদর্শনী ও ব্রিফিং। এর মাধ্যমে বন্যা ও জলাবদ্ধতার মতো পরিস্থিতিতে জীবনরক্ষা, উদ্ধারকাজের প্রস্তুতি এবং জরুরি সাড়াদানে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত রিস্ক-ই-স্কেপ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও নেপালে ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে দুর্যোগকালীন স্বাস্থ্যসেবা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার করা। প্রকল্পটির আওতায় দুর্যোগ স্বাস্থ্য, জলবায়ু সহনশীলতা এবং জরুরি সাড়াদানের ক্ষেত্রে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও বাস্তবভিত্তিক সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠান সম্পর্কে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ও প্রকল্প সমন্বয়ক প্রফেসর ড. কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, ‘এই ধরনের বাস্তবভিত্তিক অনুশীলন দুর্যোগের সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা, জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জনসম্প্রদায় পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাস্তব পরিস্থিতির কাছাকাছি পরিবেশে অনুশীলনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ভূমিকা, দায়িত্ব এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের জায়গাগুলো আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন।’
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের রুটিন প্রকাশ, দেখুন এখানে
- প্রধান শিক্ষক নিয়োগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত
- জাবির জঙ্গলে গভীর রাতে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগত আটক
- চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা স্বপন
- ৫২ বছর এক টাকায় পড়িয়ে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেলেন গাইবান্ধার লুৎফুর রহমান
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ অক্টোবর)
- ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানা গেল
- ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে ‘বিয়ে হয়ে গেল’ আছিয়ার
- দৈনন্দিন একাডেমিক কার্যক্রম সহজকরণে 'ক্লাসট্যাবলেট'
- অভিজ্ঞতা ছাড়াই প্রাণ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৩ নভেম্বর পর্যন্ত