ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

মাত্র ২০ মিনিটের যোগব্যায়ামে দিন শুরু হোক সতেজতায়

২০২৬ আগস্ট ২৫ ০৮:৪৯:৪৭

মাত্র ২০ মিনিটের যোগব্যায়ামে দিন শুরু হোক সতেজতায়

ডুয়া ডেস্ক: দিনের ব্যস্ততা শুরুর আগে মাত্র ২০ মিনিট যোগব্যায়ামের জন্য সময় বের করা শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে সহায়ক হতে পারে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে শরীরের নমনীয়তা, মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি মানসিক চাপও কিছুটা কমানো সম্ভব।

সকালের ব্যায়ামের শুরুতে সূর্য নমস্কার বেছে নেওয়া যেতে পারে। এটি শরীরের বিভিন্ন পেশি ও জয়েন্ট সক্রিয় করতে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে শরীরকে দিনের কাজের জন্য প্রস্তুত করে। এর সঙ্গে কয়েক মিনিট সচেতনভাবে শ্বাস নেওয়া-ছাড়ার অনুশীলন করলে মনোযোগ ধরে রাখাও সহজ হতে পারে।

আমেরিকান যোগ প্রশিক্ষক অ্যাড্রিয়েন মিশলার দিনের শুরুতে শরীরচর্চার পাশাপাশি ইতিবাচক মানসিক লক্ষ্য নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। নিজের জন্য সকালের কিছুটা সময় রাখার অভ্যাস দিনের পরবর্তী সময়েও ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে।

যোগব্যায়ামের উপযুক্ত সময়

সার্টিফায়েড ইয়োগা ট্রেইনার ও ফিটনেস কোচ কাজী মৌসুমীর মতে, সকাল সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে যোগব্যায়াম করা যেতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট সময় দিয়ে অনুশীলনে শুরু করলে শরীরের জন্য তা আরামদায়ক হতে পারে।

সকালে খালি পেটে যোগব্যায়াম করলে শরীর তুলনামূলক হালকা থাকে। নিয়মিত অনুশীলন রক্তসঞ্চালন ও শরীরের নমনীয়তা বাড়াতে এবং দিনের এনার্জি ও মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।

তবে সবার পক্ষে ভোরে ওঠা সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যেও যোগব্যায়ামের জন্য সময় বের করা যেতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে নিয়মিত অনুশীলন করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সকালে সময় না পেলে সন্ধ্যায়

ব্যস্ততার কারণে সকালে যোগব্যায়ামের সুযোগ না থাকলে সন্ধ্যাকেও বেছে নেওয়া যেতে পারে। কাজী মৌসুমীর মতে, বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শরীর তুলনামূলক সক্রিয় থাকে। তাই এ সময় যোগব্যায়াম করার উপযোগী।

অফিস শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টার মধ্যেও হালকা যোগব্যায়াম ও স্ট্রেচিং করা যেতে পারে। এতে সারাদিনের মানসিক চাপ কিছুটা কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী ব্যায়াম না করে হালকা স্ট্রেচিং, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন ও মেডিটেশন করা ভালো।

নিয়মিত যোগব্যায়ামের অভ্যাস গড়বেন যেভাবে

যোগব্যায়াম শুরু করার পর সেটি নিয়মিত চালিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য শুরুতেই কঠিন রুটিন অনুসরণ না করে নিজের সময় ও শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে মিলিয়ে ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি করা যেতে পারে।

ভারী খাবার খাওয়ার অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর যোগব্যায়াম করা ভালো। সকালে খালি পেটে অনুশীলন করলে শরীর তুলনামূলক স্বস্তিতে থাকতে পারে।

শুরুতেই শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়। কোনো আসনে ব্যথা বা অস্বস্তি হলে অনুশীলন বন্ধ করতে হবে।

সপ্তাহে একদিন দীর্ঘ সময় অনুশীলনের চেয়ে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের সহজ রুটিন অনেকের জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে।

নতুনদের কমসংখ্যক রাউন্ড দিয়ে শুরু করে শরীর অভ্যস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সময় বা রাউন্ড বাড়ানো যেতে পারে।

অনুশীলনের সময় ফোনের নোটিফিকেশন, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকা ভালো।

সকাল কিংবা সন্ধ্যা যে সময়ই বেছে নেওয়া হোক, প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে অনুশীলন করলে এটি ধীরে ধীরে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

সবশেষে, যোগব্যায়ামের জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন নেই। নিজের সময় ও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিদিন অল্প সময় নিয়মিত অনুশীলন করাই সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের একটি কার্যকর অভ্যাস হয়ে উঠতে পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৩ আগস্ট)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৩ আগস্ট)

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা... বিস্তারিত